যাদুকরেরা চাই তার সেরা ম্যাজিকটা সে সবার শেষে দেখাবে কিন্তু প্রখ্যাত সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য তাঁর সেরাটা দিতে শুরু করলেন প্রথম থেকেই কারণ তিনি তো চমকের যাদুকর। তাই তাঁর নতুন বই “বিশ্বকাপ তুঝে সেলাম” বইটির সূচিপত্র থেকেই চমক শুরু । বাঙালির প্রিয় সাহিত্যিকের তালিকায় আজও প্রথম স্থানেই আছেন ভানু সিংহ । তাঁকে টলাবে কে হে ? সেইজন্যেই বোধহয় গৌতম বাবু তাঁর সূচিপত্রটি সাজালেন রবি ঠাকুরের গানে। আর সেখানেই শুরু হল চমক ।
প্রচ্ছদ উল্টে দেখতেই চোখে পড়ল ওই অসাধারণ সূচির পাতা। খেলার ফলাফলে কখনও ভারতের জয় কখনও কখনও আশা ভঙ্গ, কখনও তীরে এসে তরি ডোবা অথবা কখনও আবার মহভঙ্গের পরেও মনে রাখা স্মৃতি। আনন্দ হোক বা শোক বা পরাজয় রবিই তো শেষ কথা । তাই হয়তো তাঁকে (লেখক) সূচিপত্রে রবীন্দ্রনাথকে টানতে হয়েছে। তাই হয়তো ১৯৮৩ বিশ্বকাপকে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “ প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে” । জীবনের দশটি বিশ্বকাপ কভারেজ (২৩-এর বিশ্বকাপ বাদ রেখে) আর সেখান থেকেই প্রতি বিশ্বকাপের ১০ টি করে স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি । উঠে এসেছে গোপন এমন কিছু কথা যা লেখক না জানালে তা শীত ঘুমেই রয়ে যেত। ঠিক যেমন নিজেকে লুকিয়ে রাখা কপিল দেব বলে ফেললেন, কীভাবে তাঁর বন্ধুরা বিনা টিকিটে টিম বাসে করে লর্ডসে ঢুকেছিলেন।
এরকরমই অনেক অজানা কথাগুচ্ছকে লিখে দিয়েছেন লেখক তাঁর “বিশ্বকাপ তুঝে সেলামে” বইতে। পিওনের বকশিস চাননি দুই ওয়ার্ল্ড চ্যাপিয়ন নিখাঞ্জ এবং গাভাসকার। কেন বিশ্বনাথ ছিটকে গিয়েও ৮৩-র টিমের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালেন বিলেত ? কেনই বা প্রাক্তন অধিনায়ক কপিল দেব বলে উঠলেন, ‘ক্রিকেটটা আমি খেল দেব ইংরেজিটা বলার জন্য অক্সফোর্ড বা কেমব্রিজ থেকে কাউকে নিয়ে আসুন’ । এইভাবেই এই বইয়ের প্রতিটা পাতায় লেগে আছে অজানা চমকের ইতিহাস । সৌরভের বাপি বাড়ি যা অথবা বিশ্বকাপ জয়ের পর মাহির ন্যাড়া হওয়ার রহস্য থেকে ২০০৩ সালে আফ্রিকা মহাদেশে জন্ম নেওয়া ‘হাডল’(‘হাডল’ কি ? যারা জানেন না তারা বইটি পড়লে জানতে পারবেন ) । আর জানতে পারবেন কেন কৃতিত্বের তালিকায় কপিল দেবকে এগিয়ে রাখছেন মিস্টার ভট্টাচার্য?
১৯৮৭ তাঁর কাছে ‘শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝড়ে’ । ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপকে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘ভরা থাক স্মৃতিসুধায় বিদায়ের পাত্রখানি’ নামে। লেখকের কাছে এসব স্মৃতি আমাদের(পাঠক) কাছে দর্শক আসনে বসে থেকে ছিটকে আসা সচিনের ছয়ের মতোন। যা আমরা হাতের কাছে পেয়ে অতোটাই আনন্দিত হয়েছি ঠিক যেমন ২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর হয়েছিলাম ।
বলা যেতে পারে এই বইয়ে পীড়া থাকল, এই বইয়ে থাকল আনন্দ , থাকল গুচ্ছের ইনফো যা ঘেঁটে ফেলে আমি উদ্ধার হয়েছি ২৩-এর বিশ্বকাপের জন্য কলকাতা টিভিতে (যেখানে আমি চাকরি করি) সঞ্চালনা করতে গিয়ে (এক রকম গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো করেছি) । তবে প্রশ্ন একটাই থেকে গেল ২০০৩ যদি ‘তবু মনে রেখো’ হয় তাহলে ২০২৩ কে কি বলে উল্লেখ করবেন গৌতম ভট্টাচার্য ?
(উল্লেখ থাক- ইন্ডিয়ান কফি হাউসে দ-তলায় দীপ প্রকাশনীর একটি সুন্দর আউটলেটে এই বই আপনি সংগ্রহ করতে পারেন,বসে পড়তেও পারেন)—ফ্রীতে পাবলিশিং করে দিলাম পরের বার ফ্রি করে দেবেন মনে করে, করবেন তো ? )

Comments
Post a Comment