Skip to main content

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

 শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়। 




১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ?

উত্তর:- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।  


২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ?

উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়। 


৩.কেরিয়ার শুরু বাংলাদেশ থেকে। ভারতে নয় কেন ?

উত্তর:- না'না ভুল। আমার কেরিয়ার শুরু ভারত থেকে৷ শিক্ষানবিশ হিসেবে একটা রেডিও স্টেশনে জয়েন করি। তারপর ২০১৬ সালে একটা ব্রেক এবং তারপর আমি বাংলাদেশ চলে যায় একটা রেডিও স্টেশনে জয়েন করি। সেখান থেকেই অনেকের সাথে পরিচয়  হতে শুরু করে তারপর আবার ২০১৯ এ ভারতে ফিরে আসি। তাই অনেকেই বলে আমার কেরিয়ার শুরু বাংলাদেশ থেকে কিন্তু না, এটা একটা মিথ। 


৪. 'স্ট্রেটকাট' জনপ্রিয় হলো নাকি স্ট্রেটকাটের জন্য শান্তনু জন্যপ্রিয় হলো?

উত্তর:- আমার জীবনে একটা মাইলস্টোন শো  স্ট্রেটকাট। কোনও কনটেন্ট যখন তৈরী হয় সেটা মানুষ কি চাইছে তার ওপর নির্ভর করে তৈরী হয় । তারপর যে ছেলেটি বা মেয়েটি কনটেন্টটি বানাচ্ছে তখন সে সেটার ফেস হয়ে ওঠে। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে, ১.) আমার শো-এ  যাঁরা এসেছিলো তাঁদের কথা মানুষ পছন্দ করেছে আর ২.) সেখান থেকেই মানুষ আমাকে চিনছে। তাই স্ট্রেটকাটও যেমন জনপ্রিয়টা পেয়েছে যেটা আমার তৈরী করা একটা শো, ঠিক একই স্ট্রেটকাটে শান্তনুও পরিচিত হয়ে উঠেছে। দুটোয় একে-অপরের পরিপূরক। 


৫. যখন মাইলস্টোন শো-এর নাম অন্য কেউ নিজের বলে চালিয়ে দেয় তখন কেমন লাগে ?

উত্তর:- প্রচন্ড রকমের কষ্ট হয় আবার হাসিও পাই। তবে এটাই আমার এচিভমেন্ট যে একটি নামী সংস্থা আমার জনপ্রিয় শো টির  নাম নিচ্ছে  শুধু তাই নয় সেটা পরিচালনা করছেন একজন নামী সাংবাদিক।  আমার মতো একটা ছোট, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকের থেকে ধার করে তাদের নামটি নিতে হলো তার কারণ কিন্তু জনপ্রিয়তা। তো আমার কাছে একদিকে এটা যেমন দুঃখদায়ক তেমনি অন্যদিকে এটা একটা এচিভমেন্ট।  আমাকে আমার কয়েকজন বন্ধু ব্যাপার তা জানিয়ে ছিল তারপর আমি দেখছিলাম যে সেই সংস্থাটি আমার নামটি ব্যবহার  করছে আমাকে না বলে। অনেক ভাবে বুঝিয়েছি যে , আমার শো এর নাম নিয়ে আপনারা কাজ করছেন কিন্তু কিছুই হয়নি। তবে আমার ভালো লাগবে , যে মানুষটা এই শো টা রান করছেন তাঁর সাথে যদি কখনো আমার দেখা হয় তখন সে যদি এটা নিয়ে কিছু বলেন। তবে কোনো অভিযোগ নেই আমার কারণ 'স্ট্রেটকাট' এই নামটিকে আমি রেজিস্টার করে রাখিনি।  


৬.'কেস খেয়েছে রে' এটা তোমার নতুন সেগমেন্ট।  সিরিয়াস সেগমেন্ট থেকে মজাদার সেগমেন্ট কেন বাছলে ?

উত্তর:- আমি বাছিনি , দেখো আমরা সবাই জানি বিভিন্ন স্কুলের বিভিন্ন নিয়ম থাকে। আমি মনে করি আমি এখন শিখছি তাই আমার কাজের জায়গাটা আমার কাছে স্কুলের মতো।  তাই স্কুল পরিবর্তন হয়েছে সাথে করে নিয়মও পরিবর্তন হয়েছে। এটাই বলবো যে , এটা একটা ভাবনাকে কেন্দ্র করে বানানো হয়েছে, আসতে আসতে সেটা বোঝা যাবে। 




৭. তুমিই নিজে একজন Anchor  হয়ে অন্য Anchor দেড় ইন্টারভিউ নিয়েছিলে। কেমন অভিজ্ঞতা ?

উত্তর:-  এটা আমার জীবনের একটা সব থেকে এডুকেশনাল শো, যেটা থেকে আমি  অনেক কিছু শিখেছি এবং  আমার একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম এই রকম বিখ্যাত মানুষদের একটা করে ইন্টারভিউ নেব এবং নিয়ে উঠতে পেরেছি। এই শো গুলোর মধ্যে দিয়ে যেটুকু আমি বুঝে উঠতে পেরেছি , তাতে করে এই মানুষ গুলোর থেকে আমি এটাই জেনেছি যে প্রতিদিন সকালে উঠে  লড়াই করার মানুষিকতাকে রিচার্জ করতে হবে , এখন প্যাকেজের যুগ কিন্তু যদি টিকে থাকতো চাও তাহলে লড়াই করেই তোমাকে টিকে থাকতে হবে। আজ যে বলছ ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে , এই ব্যাপার গুলো কিন্তু ওই বিখ্যাত মানুষ গুলোর থেকেই আমার শেখা।


৮. শান্তনু মজুমদার কবিতা বিতান পড়েছেন ?

উত্তর:- এবার  চরম হাসি হেসে শান্তনু বললেন , আমি পড়িনি , আমি জানিও না 'কবিতাবিতান' এ  ক'খানা কবিতা আছে। 


৯. Anchoring এর প্রথম দিন তুমি যখন ক্যামেরার সামনে দঁড়িয়েছিলে সেইদিনের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল ?

উত্তর:- মারাত্মক নার্ভাস ছিলাম।  আমার কথা বলা শুরু হয়েছিল  ধর্মতলা থেকে।  মানুষের সামনে বুম নিয়ে গেলে অনেকেই তা রিজেক্ট করে দেয় , গালাগালিও দেয় এই সব মিলিয়ে একটা ব্যাপক অভিজ্ঞতা হয়েছিল তবে এটা ঠিক যে , প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা আমি কখনোই ভুলতে পারবো  না। সেদিন আমার ক্যামেরা পার্সেন ছিলেন নীলেশ দা ,যদি না আমাকে সেই মানুষটা হেল্প না করতো তাহলে আমি আমার প্রথম দিনের পরীক্ষাটা উতরাতে পারতাম না।  


১০.টিকে থাকতে একটা লড়াই লাগে। শান্তনুর টিকে থাকার লড়াইটা কী রকম ?

উত্তর:- আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি আর এই লবি বিষয়টা আমি মানতে চাই না।  কারণ আমি মনে করি এসব সব জায়গায় থাকে আর থাকবে কিন্তু তারও ওপরে থাকবে কাজ।  আমি প্রচুর পলিটিক্সের শিকার হয়েছি। তবে যখন আমার কাছে ম্যাসেজ আসে যে , 'তোমাকে অমুক চ্যানেলে আর দেখিনা তাই আর ভালো লাগে না , তোমার কনটেন্ট আমি মিস করি' এটা আমার মনের জোর আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে টিকে থাকতে গেলে , লবি, পলিটিক্স ছেড়ে  এবং ইগোকে বিসর্জন দিয়ে  যদি কাজ করা যায় তাহলে তুমি জিতবে।  আমার মনে হয় দিনের শেষে মানুষ শুধু কাজ চেনে আর কিচ্ছু চেনে না।

Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...