তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।
তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে। মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মানে গানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভিডিও হবে।
অপেক্ষা তখন ছিল, নতুন অ্যালবামের অপেক্ষা, এখন আর ওই অপেক্ষা কোথায়? এখন ইউটিউবের জামানা। সেদিন ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে দাদার (অনুপম রায়) মুখে শুনলাম কিছু দু:খ রঙের কথা বা আফসোসও বলতে পারি৷ তিনি বলছেন, আর ওই ভাবে অ্যালবাম (ভিডিও) করব না, আর ওইভাবে কেটে কেটে রিল, ভিডিও ভালো লাগে না। এবার নতুম অ্যালাবাম আসছে। প্রিয় এক বান্ধবী জিজ্ঞেস করতে বলেছিল অনুপম রায়ের গানে আগে আলুর খোসা থাকত, কাছিম থাকত এখন কোথায়? তাহলে কী লকডাউন তাঁর লেখার বদল এনেছে? উত্তরে দাদা বলেছিলেন নতুন একটা অ্যালবাম আসছে, দেখ ওগুলো পাস কিনা! সেদিন মনের ভেতর আনন্দ হয়েছিল। আমরা অপেক্ষা করে আছি, এই অপেক্ষাটা সেই দিনগুলোর মতো। ক্যাসেডের মতো, রিল জোড়ানো ছোটোবেলার মতো৷
অনুপম রায় বলেছেন, 'বেশির ভাগ গান simple lyric video হবে'। মানে দৃশ্য থাকবে না। অনুপম রায়ের নতুন অ্যালবাম 'অদৃশ্য নাগরদোলার ট্রিপ', আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি। ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

Comments
Post a Comment