. প্রথম কিস্তি
একটা প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে সে। বড় হওয়া এক পাগল নদীর হাওয়া গায়ে লাগিয়ে। পড়াশোনা মায়ের ভয়ে যতটুকু হয়েছে ততটুকুই বাকিটুকু আবৃত্তি, টুংটাং গীটার বাজিয়ে,স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে নাটকে একটা ভারী চরিত্র হ্যান্ডেল করে, গরমের ছুটিতে কখন বিকেল হবে তারপর খেলতে যাব এই ভাবতে ভাবতে কেটে গেল। কেটে গেল যখন, তখন আর উপায় নেই। তবে সুযোগ পেলে ছোটোবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে তার। পাড়াতে এক নাম, স্কুলে আরেক নাম, বাড়িতে আরেকটা নাম, আত্মীয় স্বজনের কাছে অন্য নাম এইসব করে জীবন বয়ে গেল অনেকটাই। হিসেব করলে কত সেটা সে এই মুহূর্তে হিসেব করে বলতে পারবে না। কারণ অঙ্কে সে কাঁচা। ছেলেটার নাম ছিল বিঙ্কো। মিস্টার বিঙ্কো নামেই বরং চিনুন তাকে। আমার আপনার মতোয় একটা ছোটোবেলা ছিল তার। সাধারণ মেধা, গুচ্ছের চঞ্চল, অসভ্য নয় তবে বদমাশের শিরোমনি বিঙ্কো এখন কলেজ পেরিয়ে অবশেষে বুঝতে পারল তার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াটা সে উতড়ে দিয়েছে। রেজাল্ট কিন্তু ভালোয়, ফাঁকি মেরেও ভালো। আসলে বুদ্ধি আছে সেটা সে বড় হয়ে বুঝতে পেরেছিল৷ তবে পড়াশোনা তো হলো, বন্ধুরা হাইয়ার স্টাডিজ করতে গেল আর বিঙ্কো একটা কম্পানিতে ঢুকে পড়ল।
৬ মাস কোনও রকমে চাকরিও করল সে। কিন্তু ওই যে চঞ্চলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিঙ্কো তাই মন যা চাইল সেটাই করল৷ চাকরি ছেড়ে পাড়ি দিতে চাইল ব্ল্যাকহোলের ভেতর দিয়ে। এই ব্ল্যাকহোলের ব্যাপারটা পরের সিরিজে জানাব আপনারদের৷ এখন এটুকু জেনে রাখুন বিঙ্কো পড়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং কিন্তু সে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেনি। এখন আর সে নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার মনেও করে না তবে মনের ওপর কি আর সব বিচার করলে হয়।
কিছু বাধা তো থাকে বিঙ্কোরও আছে। বিঙ্কো এখন ব্ল্যাকহোলের ভেতর দিয়ে হাঁটছে ও কতদূর পৌঁছবে, ওর কোনও লক্ষ্য আছে কি না ও তা নিয়ে কখনও ভেবে দেখেছে? সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়, বলতে পারবে মিস্টার বিঙ্কো নিজেই। ওর সাথে আমার পরিচয় ২৫ বছর কিন্তু আমি ওকে এখনও চিনতে পারিনি। মাঝেমাঝে এখন দেখা হয় ওর সাথে, কথা হয় না কারণ ও ব্যস্ত। এখন ওর জীবনের পাসওয়ার্ড 'NNNEMM'( তিন দিন নাইট, একদিন ইভিনিং আর দুদিন মর্নিং) একদিন উইক অফে সে শুধু ঘুমোয়।

Comments
Post a Comment