Skip to main content

কালবৈশাখীর প্রয়োজন নেই জীবনে?

  একটা ঝড়ের পর ঝুপঝুপে অন্ধকার নেমে আসলে মনটারও যেন কোথাও একটা চুপচাপ থাকতে ইচ্ছে করে। 

-----কলমেঃ- সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)


এই সময় অর্থাৎ বৈশাখের প্রথম ঝড় এক পশলা বৃষ্টি নিয়ে এলে আমের ক্ষতি হয় বটে কিন্তু আম কিছুটা শক্তপোক্ত হয় গাছের সাথে। সেই বিষয়ে যাবো না তবে বিকেল লাগোয়া কালো মেঘে একপশলা বৃষ্টি আর অক্ষতিকর অথচ ঝড়ো হালকা গতির কালবৈশাখী নেমে এলে  ঝুপঝুপে অন্ধকার থাকে এবং লোডশেডিং-এ মোড়া একটা রাত পাওয়া যায় যেখানে মন অনেকটা চুপচাপ থাকতে চাই। 


আর এই অন্ধকারকে ঘিরে কিছু রূপকথা ভিড় করতে থাকে। মনে হয় এমন একটা গ্রামের মধ্যে বসে আছি যেখানে আমি একা একজন মানুষ জেগে বাকি যত ঘর তারা লন্ঠনের আলো জ্বালিয়ে স্নিগ্ধ একটা চুপচাপের মধ্যে ঘুমিয়ে আছে। জোনাকিরা কয়েকটা স্টেপে আরও কিছুটা উড়ে যাচ্ছে ভিজে আম গাছটার পাতার আড়ালে। 


ইচ্ছে করে না সেখান থেকে উঠে যাওয়ার, ইচ্ছে করে না ঝুপঝুপে অন্ধকারের মৌনতাকে ভাঙতে। কতকিছুই তো ভেঙে যায়..., পুরনো বন্ধুত্বা, অল্প বয়সের প্রেম, নতুন পাওয়া একঘেয়েমি চাকরির রেশ কিংবা সেই সব স্বপ্ন গুলো যেগুলো হাতে পেলে আমি আর ঝুপঝুপে অন্ধকারের কথা ভাবতাম না। 

হয়তো আজ আমি এই কালবৈশাখীর পর একটা চকচকে রেস্তোরাঁয় বসে হালকা ম্যাজিক মুমেন্টের সাথে চিকেন কষা খাচ্ছি। কিন্তু না কিছু ঝুপঝুপে অন্ধকার থেকে যাওয়া ভালো। 


হ্যাঁ  সবার জীবনেই না পাওয়া ঝুপঝুপে অন্ধকার আছে যেগুলো না থাকলে আপনার জীবনে আক্ষেপের যেমন কোনো চিহ্ন থাকতো না তেমনই থাকতো না একটা কালবৈশাখীর জন্য দীর্ঘ লোডশেডিং- এর পরে কারেন্ট আসার আনন্দ। 

Comments

Popular posts from this blog

১.) অক্ষরেখা ------------সুদীপ্ত সেন  ধরো কাঁচের কাছাকাছি, আমি নিজের মতো বাঁচি আর সুযোগ পেলে লিরিক্স লিখি নির্বিকার। তুমি সাজাও উপত্যকা আর যত্নে থাকো একা। শুধু জড়িয়ে ধরার জন্যে ছিলো দিব্যি কার? এতো হোঁচট, তবু ভালো। কোনো প্রথম চুমুর বালক শুধু কপাল ছোঁয়া, ঠোঁট পায়নি মগডালের যেমন পথিক মরুভূমির, শুয়ে রোদ পোহানো কুমির সে জল ভেবেছে রোদের গায়ে মরীচিকা চমকালে। গলি-পথের পাশাপাশি। দেখা হতেই পারে, আসি? তুমি চাওনি বলেই বরফ জমে দুই মেরুর এখন কলেজ সে'তো অতীত। আমি তোমার কাছে ক্ষতি সিঁথি  সিঁদুর মেখে নিয়েই ছিলো অন্যরূপ। তবু হঠাৎ করে দেখা। তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে একা ছিলো নন্দন আর ব্যস্ত ছিলো কানের দুল। তবে নরম কোনো খামে আর যেকটা ডাকনামে আমি ডাকতে যাবো, এমন সময় উড়লো চুল... ব্যস, তফাৎ দুটি মেরুর, আজ আঁচড় দিয়ে চিরুক চিরে অক্ষরেখা টান দিয়েছে সিঁদুর দাগ। তুমি আজও যে খুব পিওর, ধরে বয়েস রাখো সিওর আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক হুম, আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক। ২.) |গ্রীণ বিলডিং | তোমার জানার কারণ খুবই সোজা, তার চেয়ে সোজা চৈত্র মাসের বাজার আমার স্বভাব নিতান্ত ...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...