১.)
অক্ষরেখা
------------সুদীপ্ত সেন
ধরো কাঁচের কাছাকাছি, আমি নিজের মতো বাঁচি
আর সুযোগ পেলে লিরিক্স লিখি নির্বিকার।
তুমি সাজাও উপত্যকা আর যত্নে থাকো একা।
শুধু জড়িয়ে ধরার জন্যে ছিলো দিব্যি কার?
এতো হোঁচট, তবু ভালো। কোনো প্রথম চুমুর বালক
শুধু কপাল ছোঁয়া, ঠোঁট পায়নি মগডালের
যেমন পথিক মরুভূমির, শুয়ে রোদ পোহানো কুমির
সে জল ভেবেছে রোদের গায়ে মরীচিকা চমকালে।
গলি-পথের পাশাপাশি। দেখা হতেই পারে, আসি?
তুমি চাওনি বলেই বরফ জমে দুই মেরুর
এখন কলেজ সে'তো অতীত। আমি তোমার কাছে ক্ষতি
সিঁথি সিঁদুর মেখে নিয়েই ছিলো অন্যরূপ।
তবু হঠাৎ করে দেখা। তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে একা
ছিলো নন্দন আর ব্যস্ত ছিলো কানের দুল।
তবে নরম কোনো খামে আর যেকটা ডাকনামে
আমি ডাকতে যাবো, এমন সময় উড়লো চুল...
ব্যস, তফাৎ দুটি মেরুর, আজ আঁচড় দিয়ে চিরুক
চিরে অক্ষরেখা টান দিয়েছে সিঁদুর দাগ।
তুমি আজও যে খুব পিওর, ধরে বয়েস রাখো সিওর
আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক
হুম, আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক।
২.)
|গ্রীণ বিলডিং |
তোমার জানার কারণ খুবই সোজা, তার চেয়ে সোজা চৈত্র মাসের বাজার
আমার স্বভাব নিতান্ত ছাপোষা, ৪ নং গেটটা ছিল মাজার।
পথের পাশে হুড়মুড়িয়ে ট্রামে, কাটল আমায় বিরতী লাল লাইট
ভীষণ ভীতু সাহস শুধু নামেই, কেউ বললেন প্লিস সরুন, সাইট।
যেখানটাতে শিব মন্দির সাদা, সেখানটাতে ডালবড়াটা কিনি
পা গুনে নিই চলতে সর্বদা, সোজা গিয়েই ৫ নম্বর, চিনি।
তোমার পোশাক সাদা এবং নীলে, আমার কফি জুরিয়ে গেছে হাওয়ায়
বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়ে ছিলে গ্রীলে, সেটাই আমার মনখারাপের দাওয়ায়।
সেদিন তোমার পকেট টেন- টুনে, ডালবড়াটা যুদ্ধ করে ঢোকায়
ওটা পকেট নাকি ধর্মতলার বাজার? সেই কথাটায় সারাটা পথ ভাবায়।
তোমার হাতে সেড়ে ওঠে যারা, সেসব রুগী ফিরতে চায় বাড়ি?
শুধু আমার বেলায় তখন যত তাড়া। তোমার কাছে আমিই কেবল ভারী।
@ডট.পেন
৩.)
সাহস রাখো
দিন দুয়েক আগে খবরে শুনলাম। অ্যানাউন্স হলো। হিরিক পড়লো পাড়ায়
ওরা দুজনে নব দম্পতি ভয়ে ভয়ে এসে দাঁড়ায়।
কেউ বললো খুব হাওয়া হবে। কেউ বললো জল তুলে রাখো
কেউ বলল ঝড় হবে খুব। খুঁড়ো বললো ওরে থাম, কি হয় আগে দেখো।
সন্ধ্যে নামলো, রাত হলো ঠিক। সকাল হয়েছে নিয়মেই
আধো আধো করে হাওয়া দিলো শুধু এখন দেখার কী হবে?
বেলা এসে গেলে দুমুঠো ফুটিয়ে খুনসুটি মেখে বসে ভাত খেলো তারা
আলো নিভে গেলো। মেঘের এখন ভীষণ দাপট কালো হয়ে এলো পাড়া।
উথাল-পাথাল দিকের হিসেব। টিন চলে গেলো উড়ে
খুঁটি পড়ে গেলো। গাছ পড়ে গেলো। ন্যাড়া হওয়া সেই ঘরেই।
নব দম্পতি। নব ছোটো কুঁড়ে। পালিয়ে করেছে বিয়ে
শহরে নতুন জীবন চালায় ট্যাক্সি চালানো দিয়ে।
এই ছিলো শুধু একটু একটু সাজানো দুমুঠো বাড়ি
তাতেই থাকতো নব দম্পতি, সাথে ভালোবাসা আড়ি।
জল ঢুকে গেছে, ঘর ভেঙে গেছে, ট্যাক্সি ডুবেছে জলে
চৌকি ভাসছে ঘরের মধ্যে দেহ ভাসবে না বলে।
ওটুকুই শুধু সম্বল আজ৷ বাকি সব গেছে ঝড়ে
তবু তারা বলে হাতে হাত রেখে ঠিক জিতে যাবে পরে।
সব হারাবে জীবন, বাড়ি। সব হারাবে সবই
তবু পরে ঠিক জিতে যাবে ঠিকই পজিটিভ অনুভবই
তবু পরে ঠিক জিতে যাবে ঠিকই পজিটিভ অনুভবই।।
🚲ডট.পেন
৪.)
বোকার মতোন
-----------সুদীপ্ত সেন
আমিও আঁকতে পারি যেপথ শেষ হবে না
তবু ঠিক সন্ধ্যে হবে রাস্তা জুড়ে
আমিও দিতেই পারি কথা সব ফুটপাতিয়া
তবুও উধাও হবার এমন সুরে।
তুমি নয় অন্য যে'জন, একটা গোলাপ গুঁজে ফুলের খোঁপায়
সেজনই ব্রেকআপ হলে কাঁদে না ইচ্ছে করেই, কেবল ফোঁপায়।
আমি তো নিতান্ত এক। উদাস দাড়ি, ছন্নছাড়া
মোবাইল ঘাঁটতে গিয়েই ঘুমিয়ে পড়ি বালিস ছাড়া।
তখনও আমার ঘরে আঁধার একা, বাইরে ধূসর তখন কুয়াশা পড়ে
কে জানি তখন কারা নতুন বীজের প্ল্যানিং করে।
আমার তো ইচ্ছে প্রচুর শব্দ চুরির,
জল রঙ করব ছবি আঁকার আগেই....
যেরকম ডেভিড সেদিন, খন্ডে ভাগ করল নিজের শরীর
আমারও মনের ভেতর, থেকে থেকে ম্যাজিক করার ইচ্ছে জাগে।।
৫.)
আকাশী রঙের মেয়ে
-------------------------
ঘন কুয়াশার মতো চোখ। কানের দুল পরে,
নাকের নঁথ পরে না মেয়েটা
চুল বাঁধে না, চোখের কাছে নামিয়ে রাখে।
সারাদিন ঘুমিয়ে থাকার অভ্যেসটা আমার জন্যই কেটেছিল তার
তবুও ওই যে বললাম, ঘন কুয়াশার মতো চোখ
একটু মনখারাপেই শিশিরের মতো ঝরে পড়তো চোখের জল
মুছিয়ে দেওয়ার উপায় ছিলো না।
একবার এক ট্রেনে গুছিয়ে দেখা করেছিলাম
যতদূর যাওয়ার কথা ছিল না, ঠিক ততদূর এসেছিল
কেনো এসেছিলো আজও বুঝিনি।
নেমে যাওয়ার পর, খুব খুঁজেছিলাম, সে'ও ঘুরে- ঘুরে দেখেছিল খুব।
মেয়েটার সঙ্গে তফাৎ একটাই তা হলো, ওর বিরিয়ানি ভালো লাগত আর আমার পোলাও।
দীর্ঘ কয়েক মাস ওর সাথে কথা নেই,
দেখাটা আর হয়তো হবেও না
যেটুকু হওয়ার সেটুকু কবিতা।
আর সেটুকু কবিতায়.....
উল্লেখ করা থাক একটা ট্যাগ লাইন
"ওর বুকের মিষ্টি জায়গায় একটা দুষ্টু তিল ছিল"
আর ছিল "চোখের কাছে নেমে আসা চুল"।
কবিতাটার নাম "আকাশী রঙের মেয়ে"!
🚲ডট.পেন( সুদীপ্ত)
৬.)
| নিমিত্তমাত্র |
--------------সুদীপ্ত সেন
তোমার সাথে গোটা শহর হেঁটে বেড়ানোর পর আমার আর অন্যকারোর সাথে ঘুরতে ভালো লাগে না
কারণ তোমাকে মিস করি।
তোমার সাথে প্রথম কলেজ স্কোয়ারে ঠোঁট রেখেছিলাম
তারপর এবং তার আগে আর কারোর ঠোঁটে আমি ঠোঁট রাখিনি।
কারণ আমি এই স্বাদের বদল চাই না।
ঠিক বরোলিনের গন্ধের মতো, আজীবন একটাই স্বাদ পেতে চাই।
তোমার সাথে প্রিন্সেপঘাটে বসে যখন সন্ধ্যেবেলার প্রদীপের ভাসান দেখলাম সেই দেখাটা আমি আজও ভুলতে চাই না
কারণ আমি তোমার সাথেই ভাসতে চাই।
তোমার সাথে আমার ট্রামে চাপা হয়নি বেশি তবে বাসে চেপেছি আর তারচেয়েও চেপেছি মেট্রোটে।
বিশ্বাস করো যেদিন তুমি আমার সাথে মেট্রোটে থাকো না
সেদিন আমার ফাঁকা লাগে
কারণ আমি মেট্রোকেও ভালোবাসি আবার তোমাকেও।
তোমায় কোলে চাপিয়ে মহোরকুঞ্জের গাছে পিঠ ঠেকিয়ে তোমার নিশ্বাসের প্রতিটা স্পর্শে যখন আমি ঋণী হচ্ছি তখন সেই ঋণ আমার শোধ করতে ইচ্ছে করে না
কারণ ওইরকম ঋণের দায়ে আমি বিকিয়ে যেতে চাই বারবার।
সেবার তোমার রাগের কারণে ননন্দে আমাদের ঝগড়া হয়েছিলো কিন্তু বিশ্বাস করো ওইরকম ঝগড়া আমাদের না করাই ভালো
কারণ খুব একটা লাভ হবে না।
বরং তারচেয়ে কিছুক্ষণ চার্চে গিয়ে বসি। আরও একবার গার্ডের চোখকে ফাঁকি রেখে প্রার্থনার সময় বুঝে ঠোঁট বসিয়ে তোমার ঠোঁটের ওপর তোমাকে স্পর্শ করি
যতক্ষণনা একটা মোমবাতি জ্বালানো হচ্ছে।
কারণ মোমবাতির মতো শুদ্ধ আগুন আর ঠোঁট স্পর্শ করা চুমুগুলো একই দেখতে।
দুটোই গলে গেলে অন্ধকার নেমে আসে।
তাতে প্রথমটাই চার্চ নিভে যায় আর দ্বিতীয়টাই উত্তেজনা।
সবই ওপরওয়ালার সৃষ্টি
আমরা নিমিত্ত মাত্র!
৭.)
প্রত্যুত্তর
-----------------সুদীপ্ত সেন ( ডট.পেন)
সময় ফুরিয়ে গেছে কাজে। আজ একটুখানি ছুটি তাই নিছক ছাদে বসি
তুমি চলেই গেছ কবে, তাই শূন্যতাকে মুছব বলেই পাশে বোতলখানা পুষি।
তোমার যাওয়ার কয়েকখানা মাসেই আমার অবস্থাটা ম্রিয়
সেসব কথা জানে পাড়ার লোকে। পারলে একটু খবর-টবর নিও....।
আমারই ভুল। এসব এখন অতীত জেনেও বলতে এলাম ছাদে৷
আসলে হয় না ওই মনখারাপে পুরুষমানুষ একলা দেখে কাঁদে।
sorry, একটু খানি দাঁড়াও আগে আগুনটাকে ধরাই
ধরলে আগুন বুঝতে পারি। পোড়ার গন্ধ কেমন ছড়ায়...
এবার বলো কেমন আছো লকডাউনে, আন্টি কেমন আছেন?
তাঁকে দেখেই বুঝতে পারি। আগাছারা কেমন করে ভরসা নিয়ে বাঁচে।
ভুলেই গেছি, লকডাউনে কি যায় আসে তোমার? তুমি তো সেই কবে থেকেই ভাঙা
Pls don't mind আসলে একটু সময় পেলেই আমি সাজতে থাকি কাঙাল।
তাই ওভার টাইম করি৷ তবু নিয়তির এই খেলায় আমায় কে আর জেতায় বলো?
ভাগ্যিস সেই খেলাটা জিতেই ছিলাম। জানো, তুলি তোমার মতোই ভালো।
তোমার মতো টিপ পরে সে, রঙ একটু কালোই
নাম রেখেছি তুলি। সে তোমার মতোই ভালো!
Comments
Post a Comment