Skip to main content

 সেবার পুজোতে বাড়ি ফেরার আগে খুব ম্যানেজ করে, বলতে গেলে অফিসকে টুপি পড়িয়ে সারা উত্তর কলকাতা ঘুরে বেড়িয়েছে অলকেন্দু এবং বসুন্ধরা  আর রাজপথের অপরিচিত পথঘাট প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে বেরোলে কেউ হারিয়ে যায় না ঠিক এমনি একখানা বন্ধু মিলে আগের বছর অলকেন্দু বসুন্ধরাকে সঙ্গে নিয়ে  হেঁটে বেড়িয়েছে সারা উত্তর কলকাতা। কুমারটুলির বেশ কিছু মুর্তি  পঞ্চমীর দিন ঘাড়ে করে নিজেস্ব  ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছে শিল্পীর হাতে সমস্ত টাকা পয়সা মিটিয়ে দিয়ে, তারা একটা একটা করে ছবি কুড়িয়ে সাক্ষী থাকছে সেসব ঘটনার। পথ চলতি ফটোগ্রাফীক দুর্গা গুলো তখন এলিয়ে দিয়েছে চুল আর ফটোগ্রাফারের ক্যামেরার ক্লিক তাদের হেঁটে বেড়ানোর চেয়েও দ্রুত।  বাগবাজার ঘাটের ওপর থেকে দুজনে হেঁটে চলেছে গঙ্গার গা থেকে উঠে আসা শরতের রোদ মাখা হাওয়া খেতে খেতে। এবার সোজা রেল গেট টোপকে দুটো বিরিয়ানি অর্ডার করলো অলকেন্দু । 

তবে বিরিয়ানি অর্ডার করে অলেকেন্দু এবং বসুন্ধরা দুজনেই বুঝতে পারলো এটা তাদের মতো দুজনের জন্য খাবার নয় কারণ ডিম আর মাংস মিশে আর হঠাৎই বসুন্ধরার মায়ের ফোন কল ম্যানেজ করে অলকেন্দুরা ততক্ষণে নিজেরাই বিরিয়ানির আলু হয়ে যাচ্ছে যদিও অলকেন্দু এবং বসুন্ধরা কারোরই বিরিয়ানি পছন্দের খাবার নয় এটাও একটা কারণ হতে পারে বিরিয়ানিটা তাদের খাবার নয় এটা বুঝে ওঠার জন্য।


তবুও শেষমেশ পেল্টকে নিঃস্ব না করে তারা উঠে গেলো দুটো কোল্ডডিংক্স হাতে নিয়ে আর আবার তারা দুজনে হাঁটতে শুরু করলো। এবার শোভাবাজার রাজবাড়ীর ঠাকুর দেখলো, ছবি তুললো, হুলোড় করলো। রোদে ঘেমে গিয়ে খুব কাছাকাছি এসে তারা  জানলো বসন্ধুরাকে আজ ফিরতে হবে আর অলকেন্দুর কাল সকালের ট্রেন। 


ততক্ষণে তারা একটু বিষন্ন মুখ করে রাজবাড়ী থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখন দেখলো এখানে ৮০ টাকা করে পোলাও পাওয়া যাচ্ছে তখন যাচ্ছেতাই মনখারাপ নিয়ে দুজন মিলে দুটো আঁখের রস কিনে খাচ্ছে। মনে মনে বিরিয়ানির ওপর রাগটাও প্রবল হতে থাকলো তবে হ্যাঁ তারা খাবারটাকে ছোটো করছে না আসলে যারা পোলাও প্রেমী তাদের বিরিয়ানিটাকে সহ্য করা কঠিন এটা নিশ্চয় মানবেন। 


আঁখের রস খেতে খেতে তারা মেট্রো স্টেশনে এসে পৌঁছেচে , পুরো একমাস পরে আবার দেখা হবে  তাদের তখন ভরসা এটুকুই।

সেবার উত্তর কলকাতার আনাচে কানাচে, অপরিচিত রাস্তায় তারা হারিয়ে যায়নি, গুগল ম্যাফ না চালিয়ে হাত ধরে ছাতিমের গন্ধ নিতে নিতে প্রায় আটটা মতো ঠাকুর দেখে তারা তাদের জীবনের প্রথম কলকাতার ঠাকুর দেখা সম্পূর্ণ করেছিলো। 


এবছর করোনা সবটা বদলে দিলো, পরের বছরের পুজোর জন্য তারা ভাবছে না তবে খুব চাইছে এই মহামারি খুব তাড়াতাড়ি সরে যাক গোটা দুনিয়া থেকে। 


🚲ডট.পেন

Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...