Skip to main content

 


১.)

লোকডাউনের পর এটাই আমাদের প্রথম দেখা। 


সিগারেট ছুঁয়নি প্রায় ৫ মাস আর তোমাকেও ছুঁয়ে দেখেনি অনেকদিন।

ছুঁয়ে দেখার খুব একটা শখ নেই আর। হ্যাঁ জানতাম এটা শুনলে তুমি একটু রাগ করবে আর করলেও তাই।


দেখি টিপ টা, হ্যাঁ এবার ঠিক আছে।

চা-ওয়ালা দাদাটা ঠাঁই দাঁড়িয়ে দেখছেন আমাদের।


চা নিলাম। তুমি খাবে না বলেছো তাই একটা কিনেছি। 

মহারানী আবার  কফি ছাড়া চা খান না, মানে কফিটাই খান আরকি।


দেখতে দেখতে সন্ধ্যে গড়িয়ে এলো। প্রিন্সেপঘাটে আগের মতো ভিড় নেই তবে হবে আসতে আসতে সবে সবে লকডাউন ছেড়েছে যেহেতু...।


এই আলতো সন্ধ্যে লেগে থাকা গালে তোমাকে চুমু খাবো বলে গঙ্গার জলটা হাতে নিয়েছি এমন সময়....চা-ওয়ালা দাদা এই দিকে আবার এসেছেন, লজ্জায় পড়ে গেলে তুমি। 

তবে এবার দুটো চা কিনলাম, যাতে এই ব্যাপারটা হেসে উড়িয়ে দেওয়া যায় সেইজন্য। 


একটা চা আমি খেলাম। অন্যটা তোমাকে দিয়েছি, জানি খাবে না। 


এই লোকডাউনটা কাউন্ট না করেই বলছি, দীর্ঘ একবছর এই ভাবেই তুমি আমার কিনে দেওয়া চা খাও না অথচ এমন করে বলো যেনো কত লক্ষ্মী মেয়ে তুমি।

বাকিটা আমার জানা আছে। ঘাটে কাকের তো আর অভাব নেই, কোথা থেকে এসে কাপটা ফেলে দিয়ে যায় ওরা আর আমাকেও উঠে যেতে হয় বাড়ি ফিরব বলে। 

আবার কালকে দেখা হবে। তুমি ততক্ষণে চাঁদের আলোর সাথে মিলিয়ে যাচ্ছো...


চা........চা আছে.... লেমনটি........চাওয়ালাটাও অনেকটা দূরে চলে গেলো.........!


🚲ডট.পেন


২.)

বৃষ্টিরাত

-------------

কলমেঃ-সুদীপ্ত সেন


অল্প বৃষ্টি এ তল্লাট 

গন্ধ পাচ্ছি অহল্যার

তবুও নেই


বৃষ্টি ভিজছে টিনের চাল

চুমুতে দৃশ্যহীন তোমার গাল

তবুও সেই.....


রাগেরা ভিনদেশী, ভিন্ন মন

নতুন বিয়ে আজ, কিছুক্ষণ

মনখারাপ


বাইরে বৃষ্টির শব্দ ক্ষীণ

ঘরে যে উষ্ণতা তাতে মলীন

নিম্নচাপ।



৩.)

কিছু কিছু ক্ষত শুধুই আঘাত দেয়, সাড়তে চায় না!



৪.)

তার চেয়ে ভালো নয় কি আরও আধঘন্টা বসার পর উঠে যাবো আমরা দুজনে।

তুই দূরে চলে যাবি আর আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাবো বাড়ি। 

ততক্ষণে তুই আমাকে খবর দিয়ে দিয়েছিস, তুই পৌঁছে গেছিস ঠিক ভাবে।


আমি এবার আমার পাড়ার মোড়ে একটা বাঁকে জাস্ট ঢুকছি।

এখানে লোডসেডিং হয় এখনও জানিস তো,

লোডসেডিং হলে বাড়ির বারান্দায় আলোচনা বসে, 

ছাদের ওপরে নরম হাওয়ায় লন্ঠন জ্বালিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের আধফোটা মেয়েটা পড়তে বসে। 

অনেকদিন ছাদে দাঁড়িয়ে ওকে লক্ষ করেছি আমি, ওর বই-এর পাতার ভাঁজে কার একটা ছবি বের করে ও চুমু খায়, বুকে জড়িয়ে রাখে আর ওর মা এলে টুক করে লুকিয়ে নেয়। 


কিন্তু কী লাভ?


ওরও একদিন বিয়ে হয়ে যাবে আর বই-এর পাতার ভাঁজে ফটোকপিটা লুকোনোয় থেকে গেলো আরও একটা আমি হয়ে!


🚲ডট.পেন


৫.)

কো-অ্যাডমিন

-----------সুদীপ্ত সেন


খেয়া ছিলো দস্যি মেয়ে, অভিক তার কো-অ্যাডমিন

পেজের ভেতর আলাপ হলো মধ্যেখানে দু-এক দিন।


একটা দুটো প্রজেক্ট হতেই জমলো তাদের বন্ধুত্বা

গল্প জমে ফোনের ভেতর, মনের ভেতর সন্ধিটা।



বাড়ছে কাজের হিসেব গুনে ভাঙছে তাদের দূরত্ব

আস্তে করে বাড়ছে দেখি কো-অ্যাডমিনের গুরুত্ব। 



এমন করেই গড়ছে হিসেব, ভাঙছে হিসেবে বির্বণ

উঠকো এমন ঝামেলা দিয়েই সরলো অমিত লাবণ্য।


প্রজেক্ট খাঁটি,পেজের ভেতর বাড়ছে মানুষ দিনের দিন

এমন ভাবেও প্রেম জমে যায় তা শোনাবো অন্যদিন।


খেয়া ছিলো দস্যি মেয়ে, অভিক তার কো-অ্যাডমিন

পেজের ভেতর আলাপ হলো মধ্যেখানে দু-এক দিন।



৬.)

আমরাই ধর্ষক তাই আমরাই দর্শক


৭.)

পলিটিক্যাল সায়েন্স


আমরা যখন একটু করে সরতে থাকি 

হাতকে হাতের ওপর থেকে হাতড়ে রাখি

ঠিক তখনই কোন উপায়ে সে তর্জনি

আলগা হলেও সামন্যটা বুঝতে জানি।


এখন তোমার চাকরি হলে প্রশ্ন ছোড়ে

আমার বোধহয় হিংসে হলো ভীষণ জোড়ে!

বুঝলে তুমি বুঝতে ঠিকই চোখের কাছে

তোমার ভালোই  কেবল শুধু গর্ব আছে।


একটু করে সরতে থাকি রাতের কাছে

ছাদের ওপর নির্জনতার বন্ধু আছে

যাদের প্রতি তোমার থাকার হিংসে কথা

তারাই তোমার বন্ধু হলো আজ অযথা?


পেরিয়ে তুমি যাচ্ছো যতই বদলে গিয়ে

তোমার সাথে বাঁধন ভাঙে আলগা হয়ে

আজকে আমার ম্যাসেজ শুধুই বিরক্ত দেয়

সব অজুহাত উজাড় করো আমার বেলায়।



🚲ডট.পেন



৮.)

পাবো পাবো এই ব্যাপারটাই থাক না

পেলেই তো সব শেষ হয়ে যাবে। 


৯.)

এই অভিনেতা তুমি মানুষের মতো অভিনয় করতে পারবে?


১০.)

ইচ্ছে করেনি

----------সুদীপ্ত সেন


তুমি বলেছিলে ভুলে যাবে নাতো?

তুমি বলেছিলে ফিরে আসবে তো পরে?

তুমি বলেছিলে মনে রেখে দেবে

পরে বলেছিলে ভুলে যেও তুমি তারে।


এরকমই কিছু লাইন পরছে মনে 

মনে পরাটা জরুরি নয় তাও....

এরকমই কিছু লাইন পরছে মনে। 

ওই হয় না, যেটুকু সময় ফাঁকা পড়ে থাকে খাতা

পরে লেখা এলে জড়ো তুমি করে নাও। 


বাড়ি কোনখানে সেকথা গিয়েছি ভুলে 

কেমন দেখতে? তাও আধো মনে আছে 

আসলে এইখানে এসে মধ্যবিত্ত দোষী

অতীতকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে বাঁচে।


মেয়েটার বাবা LIC এর এজেন্ট 

ছেলেটার বাবা মরে গেছে, মা টিচার

ছেলেটা বারণ করেনি এমন নয় 

তবু মেয়েটায় এসে বলেছিলো তার ফিচার।


ফিচার শুনেই ছেলেটা হয়েছে খুন 

মেয়েটা হেসেছে, হাসি লেগেছিলো ঠোঁটে

ছেলেটাও বেশ কবি কবি দেখতে

বর্ধমানেই প্রথম গিয়েছে ডেটে। 


মেয়েটা নরম, মন ভাঙতে জানে 

মেয়েটা ভালো অহেতুক অভিমানে

মেয়েটা কেমন দুমাস পেরোলে বুঝি

মেয়েটা কেমন ইচ্ছে হয়নি খুঁজি।


মেয়েটা কেমন ইচ্ছে করেনি খুঁজি।
















Comments

Popular posts from this blog

১.) অক্ষরেখা ------------সুদীপ্ত সেন  ধরো কাঁচের কাছাকাছি, আমি নিজের মতো বাঁচি আর সুযোগ পেলে লিরিক্স লিখি নির্বিকার। তুমি সাজাও উপত্যকা আর যত্নে থাকো একা। শুধু জড়িয়ে ধরার জন্যে ছিলো দিব্যি কার? এতো হোঁচট, তবু ভালো। কোনো প্রথম চুমুর বালক শুধু কপাল ছোঁয়া, ঠোঁট পায়নি মগডালের যেমন পথিক মরুভূমির, শুয়ে রোদ পোহানো কুমির সে জল ভেবেছে রোদের গায়ে মরীচিকা চমকালে। গলি-পথের পাশাপাশি। দেখা হতেই পারে, আসি? তুমি চাওনি বলেই বরফ জমে দুই মেরুর এখন কলেজ সে'তো অতীত। আমি তোমার কাছে ক্ষতি সিঁথি  সিঁদুর মেখে নিয়েই ছিলো অন্যরূপ। তবু হঠাৎ করে দেখা। তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে একা ছিলো নন্দন আর ব্যস্ত ছিলো কানের দুল। তবে নরম কোনো খামে আর যেকটা ডাকনামে আমি ডাকতে যাবো, এমন সময় উড়লো চুল... ব্যস, তফাৎ দুটি মেরুর, আজ আঁচড় দিয়ে চিরুক চিরে অক্ষরেখা টান দিয়েছে সিঁদুর দাগ। তুমি আজও যে খুব পিওর, ধরে বয়েস রাখো সিওর আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক হুম, আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক। ২.) |গ্রীণ বিলডিং | তোমার জানার কারণ খুবই সোজা, তার চেয়ে সোজা চৈত্র মাসের বাজার আমার স্বভাব নিতান্ত ...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...