১.)
তখন না'হয়
আমরা তখন পরস্পরের ভীষণ কাছে
প্রত্যেকদিন ভীষণ তাড়া ধর্মতলায়
আমরা তখন পরস্পরের ভীষণ কাছে
আসব বলেই দাঁড়িয়ে থাকি কলেজ পাড়ায়।
আমরা তখন অল্প বয়স এ কলকাতায়
একটা দুটো জায়গা চিনি গুগল ম্যাপে
আমরা তখন স্বপ্ন দেখি এই শহরে
বুঝতে পারি হাওড়া ব্রীজ হাঁটলে কাঁপে।
আমরা তখন নরম কোনো দুঃখ পুষি
বৃষ্টি হলে ফোন মারফত মনের খবর
আমরা তখন ভালোবাসার জন্যে লড়ায়
মনখারাপে ভীষণ রেগে খুঁড়ছি কবর।
আমরা তখন সাহস বুনি ট্রামের সিটে
সিটের ওপর হাত রাখলাম তোমার হাতে
ওড়না টাকে আব্রু করে ভিক্টোরিয়ায়...
ভ্যানিস হলো সব পরাজয় চুমুর সাথে।
আজকে কেবল একলা হাঁটা পরস্পরের
পারলে পরে আবার তুমি খবর নিও
নয়তো যখন কবর হবো এই শহরে
তখন না'হয় একটা হলুদ গোলাপ দিও।
✑ সুদীপ্ত সেন
২.)
নজরুল আমার বন্ধু,
যে প্রতিদিন টিউশন যাওয়ার জন্য আমার বাড়ি আসে
প্রতিদিন স্কুল যায় আমায় সাথে নিয়ে।
নজরুল আমার বন্ধু,
যে প্রতিদিন বিকেলে আমাকে ছাড়া ঘুরতে যায় না
যার সাথে আমি আমার বাড়ির ছাদে প্রতি রবিবার ঘুড়ি ওড়াই।
নজরুল আমার বন্ধু,
ও যেদিন টিফিন আনতে ভুলে যায় সেদিন আমি আমার টিফিন ভাগ করে দিই ওকে
আর যেদিন আমি ভুলে যায় ও আমাকে দেয়।
আমার একটা দিদি আছে, নজরুলের একটা ভাই আছে ছোটো
আজ ভাইফোঁটা, আমি ওর ভাই এবং ওকে নিমন্ত্রণ করেছি.....
ওদের কপালে আমার দিদির কড়ি আঙুলকে ভাগ করে দেওয়ার জন্য।
মনে রাখবেন কড়ি আঙুলের কোনো ধর্ম নেই, ভাইফোঁটার কোনো জাত হয় না।
ভাইফোঁটা স্নেহের জিনিস....
আর স্নেহের কোনো জাত হয় কি?
✑ সুদীপ্ত
৩.)
যাবতীয় সুখ যা লেখা আছে কাপলের গায়ে
খুঁড়ে দেখা ইচ্ছেটা রয়ে গেছে মনে মনে চাপা
ইচ্ছের দোষ নেই অবহেলা শয়ে গেছে পায়ে
বাইরে ফূর্তি স্রেফ ভেতরে দুঃখ দিয়ে ফাঁপা।
চাওয়া যায় যতটুকু কেউ পায় তারও বেশি কিছু
আমার স্বপ্ন গুলো পাহাড়ের ঢালু হয়ে চোখে
তাতেই গড়িয়ে যায় সব আশা যত উঁচু-নীচু
বাইরের সুখ দেখে মিটিং বসায় রোজ লোকে।
আমি তো ছাপোষা, নেভা নেভা সলতের মতো
রোজ হাসি মুখ আর ঘরে ফিরে কান্নার পাহাড়
ঘটনা থাকবে লেখা আগাগোড়া সব কিছু ক্ষতর
আর এক ফু..এ,নিজেকে নিভিয়ে দিয়ে যাওয়ার।
✑ সুদীপ্ত
৪.)
#ব্যস্_এটুকুই
আছে বড় ভূত, আছে ছোটো ভূত আছে কত ভূত
রোজ রাস্তায়
আজ ভূতেদের নিয়ে লিখলাম এক গল্প খুব সস্তায়.....
ছিলো জাম ভূত, ছিলো আম ভূত, ছিলো তেরে নাম করে কাটা চুল
তারা যাযাবর হয়ে ছুটছে আমি ভূত ভেবে বসি বিলকুল
ছিলো ছিন্নবস্ত্র পরনে, ছিলো পাকা দারি তার গরণে
আমি ভূত ভেবে বসি তাদেরই যারা হাত পেতে খায় চরণে।
যারা সেই দিন রেল লাইনে দূরে হেঁটে এসে গিয়ে বসল
আমি ভূত ভেবে বসি তাদেরই, তারা কোথা থেকে এসে জুটলো?
যারা রোজ রোজ মাঠে পুড়ছে, আর ফসল বুনছে আমাদের
আমি ভূত ভেবে রোজ ভয় পাই সেই চাষী ভাই চাষ আবাদের
তারা এক ভূত, তারা জাত ভূত তারা অবহেলা পায় মানুষের
তবু পলিটিক্স বেঁধে দিচ্ছি আমি আগুন ধরিয়ে ফানুসে।
দূরে কিছু ভূত খুব চালাকির সাথে বসে বসে খালি হাসছে
তারা মানুষের কাছে রাজা ভূত তাই ভয়েই ভক্তি আসছে
আমি বলি তুমি চুপ(🤫)। শুনে যাও....
শোনা হয়ে গেলে শুধু ভুলে যাও।
ব্যস্ এটুকুই........
তারা রাজা ভূত, তারা ভালো ভূত, তারা দিনের আলোতে হাঁটছে
কিছু মানুষের সাথে বন্ধু পাতিয়ে, রাত্রে মাল ভাগ করে খাচ্ছে
তারা চালাকির সাথে মুখোশ পাল্টে ধর্ষণ করে রাস্তায়
পরে ভূত গুলো সব বিলিয়ে যাচ্ছে সরষের কোনো বস্তায়।
আমি খুব চাই কোনো স্বপ্নে...
সেই বড়ো ভূত আর ছোটো ভূত
সেই আম ভূত আর জাম ভূত
যারা যাবাবর হয়ে ছুটছে
আছে ছিন্নবস্ত্র পরনে
আমি খুব চাই কোনো স্বপ্নে...
যারা লোকডাউনের সময়ে সেই হাঁটলো রেল লাইনে
যারা রোদে পুড়ে গিয়ে রোজ রোজ, শ্রম গুনছে ফাইনে
তারা মানুষের মতো বেঁচে যাক আর স্বাধীনতা পাক আইনে।
আর খুব চাই আমি স্বপ্নে...
যারা মানুষের সাথে বন্ধু পাতিয়ে ধর্ষণ করে আসছে
সেই ধর্ষক যেন বাড়ি ফিরে এসে দেখে.....!
তার প্রিয়জনও আজ ধর্ষিত হয়ে তারই সামনে হাসছে।।
✑ সুদীপ্ত সেন
৫.)
#পাড়ার_কাকিমা
পাড়ার কাকিমা জানে
কোনখানে কোনদিকে রোজ রোজ যেতে নেই
চুমু দিলে চুপিচুপি চুমু গুলো খেতে নেই
পাড়ার কাকিমা জানে
প্রতিদিন চুপি চুপি কে যায়...কার সাথে
বাঁশ বনে অখিলেশ চুমু দিলো কার হাতে।
পাড়ার কাকিমা জানে
রাস্তায় জোড়া দেখে চেনা দেখে হাসতে
তারপর ফেরা পথে বাড়ি বেয়ে আসতে।
না না বলি ভেঙে শোনো,
পাড়ার কাকিমা ধরো তোমাকে সে চিনতো
সাথে ছিলো কোনো ছেলে নাম তার শান্ত
শান্ত বন্ধু তোমার, আর কিচ্ছুটি নয়
কাকিমা বাড়িতে এসে বলে গেলো, জানো তো....
তোমার মেয়েকে দেখি কার সাথে হাঁটতে
মেয়েকে শক্ত করো ভালো যদি চাও তো।
বোঝো ঠেলা এইবার, তুমি সাতে পাঁচে থাকো না
কোনোদিনও ছেলেদের সাথে তুমি হাঁটো না।
পাড়ার কাকিমা জানে
কবে কোন এক্সাম
আবার রেজাল্ট হলে সেটাও গভীরে জেনে
নিজের খিদেতে এসে ঘেঁটে যায় ঘিল্লি
এবার পাস করলে ভালো, ফেল করলে পরে
শিরোনামে দৌড়াবে পাড়া থেকে দিল্লি।
পাড়ার কাকিমা জানে
কার ছেলে মদ খায়, কার ছেলে প্রেম করে
কার মেয়ের পাড়াতে বয়েস যাচ্ছে বেড়ে
নিজের বাড়িতে পোড়া আগুনের কেচ্ছা
কাকিমার মেয়েটাও তোমার ক্লাসেই পড়ে।
তবু নেই চিন্তা, নেই কোনো বায়না
লোকের জন্য শুধু মিছি মিছি ভাবনা।
শোনো কাকিমা, তুমি মন দিয়ে শুনে যাও
লোকের ভাবনা লোকে নিজে নিজে ভেবে নিক
পারলে টিকিট কেটে গয়া-কাশি ঘুরে যাও।
✑ সুদীপ্ত সেন
৬.)
যারা যায় তারা আর কি ফেরে না?
যদি ফিরে আসে কখনও ঠিক তোমার পাশেই...
তখন.....?
কিছু কিছু গল্প থাকে যেগুলো শেষ হয়ে আবার শুরু হয় নতুন করে।
৷ সোনাই আর বুবুন |
আজ প্রায় বছর দেড়েক আগে
তুমি গেলে দূরে
আরও দূরে আমি
একাকার হয়ে আলাদা হয়েছি সবাই।
জানি এ জন্মে কলেজ ফুরোয়
কত বন্ধু.....
হাওয়ার মতো মিলিয়ে গিয়েছে কবেই।
তবু এই দুনিয়ায় ভাবিনি কখনও তোমার আমার
হঠাৎ দেখাটা হবে।
চলো ঘুরে দেখি পুজো মরসুমে
ঘুরে দেখি অলিগলি।
আমরা দুজনে পরস্পরের
পাশাপাশি এসে কাছাকাছি হেঁটে চলি।
সন্ধ্যে লাগার আকাশের কাছে
আইসক্রিমের স্বাদে
আমরা তো জানি জমবে না মজা
এটুকু স্বাদ বাদে।
তাই দুজনের ফের দেখা হলো
শহরের রাজপথে
পুজো মরসুমে ভাবনি হাঁটবো
তোমার আমার সাথে।
যারা যায় তারা ভাবে না কখনও,
দেখা হয়ে যাওয়া ছুতো
তবু চলে যেতে হয় আবার তাদের
কারণ থাকে না দুটো।।
কিছু বাস্তব গল্পের মতো হয় আর কিছু গল্প বাস্তবের মতো।
original video:-
https://youtu.be/sTzV8dSEC68
@সুদীপ্ত সেন
৭.) আমার মতো আমাকে কেউ চেনে না!
🚲ডট.পেন
৮.)
কোজাগরী
---------সুদীপ্ত সেন
রোদের মতো দস্যি মেয়ে
চাঁদের মতো হাসি
নূপুর পরে ছুট্টে বেড়ায়
নদীর ধারে রাশি।
রাশির বয়স অল্প ছিলো
অল্প মানে ছোটো
মিষ্টি ছিলো মেয়েটা এমন
এ গাঁয়ে নেয় দুটো।
রাশির কি দোষ বলতে পারেন
গাঁয়ের খুঁড়ো-মুড়ল?
এমন করে খাঁমছে নিলো
বাহেনচোদ বুড়ো।
বুড়োর ছিলো দলের পাওয়ার
বুড়োর ছিলো পার্টি
পুলিশকে তাই ঘুম পাড়িয়ে
পালালো হাঁটিহাঁটি।
শুনতে পেলাম কদিন পরে
কোজাগরীর রাতে
বুড়োর বৌ বিলিয়ে গেলো
সোনাঝুরির হাটে।
বিলিয়ে গেলো মানে?
নেতার ছিলো ভীষণ দাপট
নেতার ছিলো পাওয়ার
জনগণই কারণ ছিলো
এমন কিছু হওয়ার।
জাগলে পরে উঠবে আওয়াজ
জনগণই পারে
নেতারা সব গাঁড় মারাবে
পাওয়ার নিয়ে গাঁড়ে।
৯.)
প্রতিটি গল্পে একটি বিশেষ চরিত্র থাকে
আর আমি সেই চরিত্রে কাল্পনিক!
🚲ডট.পেন
১০.)
প্রতিবছর এইদিনটা একটা বিষাদ ডেকে আনে পাড়ায়। মা আসছে এটুকুই ভালো, এসে গেলেই সে তো চলে যাবে। নরম রেশমের মতো একটা বিষাদ যা ভেদ করে দাঁড়ায় সিঁদুরের রঙ, কোলাকুলি আর মায়ের চোখ দুটো।
প্রতিবার এই দিনে আমার ইচ্ছে করে গ্যাসবেলুনওয়ালা হয়ে যেতে যে একটা পুরনো রাজবাড়ীর উঠনে বসে তার সমস্ত গ্যাসবেলুন উড়িয়ে দিয়ে ডিসাবেল হয়ে যাবে।
🚲ডট.পেন
Comments
Post a Comment