স্টেশন
স্টেশনে বসি আছি অনেকক্ষণ। ট্রেন আসবে সেই ১১ টার সময়, এখন সন্ধ্যে ৮ টা বাজে। স্টেশনের ওপরে বসে থাকা দোকান গুলো থেকে বার্বনের একটা বিস্কুট আর লিটিল হার্ট কিনলাম৷ লিটিল হার্টের প্যাকেট টা ছিঁড়তেই বৃষ্টি শুরু হলো। হালকা হালকা শীত করছে, বৃষ্টির ওপর স্টেশনের লাইট গুলো পরে এমন একটা মাদকতার সৃষ্টির হচ্ছে যা বলে বোঝানো কঠিন, এমন সময় আমার সামনের দিকে মানে ডাউনের দিকে বসে ছিলেন সুন্দরী এক ভদ্রমহীলা।
উনি আমাকে দেখননি কিন্তু আমি দেখছিলাম উনাকে। দেখতে দেখতে হঠাৎ করে উনিও বুঝতে পারলেন। খটকা লাগলো কি জানি ওইভাবে তাকিয়ে ছিলাম বলে কিছু বলবেন কিনা আবার।
না সেভাবে কিছু বললেন না তবে কেমন একটা ইতস্তত হলেন বুঝতে পারলাম।
কিছু করার নেই ইতস্তত তিনি হতেই পারেন কিন্তু আমার চোখ যতই চেষ্টা করছি শুনছে না ওই হয় না নিজেকে সামলে নেওয়া সহজ কিন্তু চোখকে নয়। //
★ সেই স্টেশনে ঘুঘনি ওয়ালা, চা ওয়ালা ছাড়া বিশেষ কিছু যাত্রী নেই হয়তো বৃষ্টির দিন বলেই আর কি।
একটু সময় পর মহিলাটি একটা চা কিনলেন, চায়ের কাপে চুমুক দিলে তাকে বৃষ্টির মধ্যে জলপরির মতো দেখতে লাগছে, হ্যাঁ একটু বাড়িয়েই বলছি বলতে পারেন তবে ভালোই লাগছে। আমি জানি আমি আপ আর উনি ডাউনের ট্রেন ধরবেন। opposite side so এটাই স্বাভাবিক তবুও একই ভাবে উনার দিকেই দেখছি আমি। কিছুক্ষণ পর উনিও আমাকে লক্ষ করলেন মনে হলো কিছু একটা বলবেন এমন সময় এতোটাই বৃষ্টি এলো যে সামনে বৃষ্টি ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না তখন।
//
হঠাৎ একটা কন্ঠস্বর//
এই যে শুনছেন। খুব বিস্মিত হয়ে দেখলাম ওই মহিলায় এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন৷ বললেন,//
সেই তখন থেকেই দেখছি আপনি আমায় দেখছিলেন, আসলে আমি ডাউনে যাবো আপনি হয়তো আপে কিন্তু আমার ট্রেন ১০ টায় আসবে তাই ভাবলাম তাহলে একটু গল্প করা যাক আপনার সঙ্গে।
//ভেবেছিলাম রেগে গেছেন কিন্তু এরকম একটা ব্যবহারের পর আমাকে আর দেখে কে। বললাম হ্যাঁ হ্যাঁ গল্প তো করাই যায়। আমারও ট্রেন ১১ টায়। এটা বলেই আলাপ করলাম শুরু। আমার নাম অভীক রায় আপানর নাম। //
মিথিলা, আমার নাম মিথিলা ভৌমিক। যাবো কলকাতা মাসির বাড়ি।
// ও আচ্ছা আমি যাবো শিলিগুড়ি। ওখানেই চাকরি করি।
আপনি চা খাবেন তো,
নানা চা খাবো না ওই তো তখন খেলাম।
//বেশ তবে আপনি বিস্কুট নিন, এবার বার্বনের বিস্কুটের প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিলাম তাকে। তারপর গল্প জমলো, বৃষ্টি থামলো, ৯ঃ৩০ মিনিট। ডাউনের জন্য অ্যানাউন্স হলো। উনি বললেন
আসি তাহলে।
এই বলেই একটা হ্যান্ডসেক করে উঠে গেলেন তিনি। আমার ট্রেন ১১ টায়।
এইভাবেই বিভিন্ন স্টেশন জুড়ে হঠাৎ একটা না হওয়া গল্প তৈরী হয়, আবার ফুরিয়ে যায় শেষ হবার আগেই, এভাবেই বিভিন্ন মানুষ হঠাৎ করেই খনিকের ভালোলাগায় মিশে যায় মনের মধ্যে তারপর ঠিক ট্রেন আসে তারপর সবটাই আগের মতো হয়ে যায়। কারোর মুহূর্ত মনে থাকে কারোর বা মনে থাকে না নিভে যায় যাবতীয় কর্মকান্ডে।
অথচ একটা হ্যান্ডসেক জুড়ে যায় যাবতীয় ইতস্ততের মাঝে।
(up এর ট্রেনের অ্যানাউন্স)
কলমেঃ- সুদীপ্ত সেন
Comments
Post a Comment