আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে অনিমেষ আর তিয়াসার ব্রেকআপ হয়েছিলো। তারপর আর কোনো যোগাযোগ ছিলো না, আজ হঠাৎই পথ চলতি দুজনের দেখা হয়, কথা হয়, সেরকমই এক গল্প নিয়ে আজকের আলোচনা।
সঙ্গে নেবে কি?
চোখাচোখি দুজনেই সামনে এসে পরে, ভাবেনি কেউই। কথা বলব কি বলব না এমন একটা মুহূর্তে দাঁড়িয়ে অনিমেষ গলা ঝেড়ে বললো
অনিমেষঃ- কেমন আছিস তিয়াসা?
তিয়াসাঃ- ভালো,তুমি কেমন আছো অনিমেষ দা?
অনিমেষঃ- বাবারে, দাদা! হা হা তা ভালো।
তিয়াসাঃ- (একটুকু অবাক হয়ে) কেনো আগেও তো দাদা বলতাম তোমাকে৷ ভুলে গেছো নাকি?
অনিমেষঃ- উম, হ্যাঁ কি ভুলে গেছি। একটু মনে করা না। আচ্ছা দাঁড়া চল ওই জায়গাটায় একটু বসি, খুব বেশি তাড়া নেই তো? তাহলে গঙ্গার হাওয়া খেতেখেতে চা খাওয়া যাবে আর কিছুক্ষণ গল্প(বলতে গিয়ে থমকে যাবে) না মানে কথা বলা যাবে।
তিয়াসাঃ- (মৃদু হেসে) আজকাল বসে কথা বলতে শিখেছো বুঝি?
অনিমেষঃ- তা একরকম বলতে পারিস, মানুষের শিখতে শিখতে আর ঠেকতে ঠেকতেই তো বয়স বাড়ে তাই না?
তায়সাঃ- (জড়ে হেসে) তাহলে বলছো তোমার বয়স বেড়েছে? না মানে মাথার চুল গুলো কয়েকটা সাদা দেখতে পাচ্ছি তাহলে বেড়েছে বলো, উম?
অনিমেষঃ- হ্যাঁ তা তো একটু বেড়েছে বইকি। চল...
( এবার দুটো চা কিনলো অনিমেষ)
অনিমেষঃ- ( গঙ্গার কাছে দাঁড়িয়ে এক চুমুক দিয়ে অনিমেষ বললো) বাহ্ চা টা আজ একটু বেশিই ভালো লাগছে।
তিয়াসাঃ- তাই? তা কিরকম লাগছে?
যেনো সাহেবিয়ানার দরবারে সাক্ষাৎ দার্জিলিং-র চা দিয়ে গেলো কোনো এক রূপসী!
(এই কথাটা দুজনেই বললো একসাথে)
মানে হঠাৎ দুজনে একসাথে বললো যেনো জানা কথা এবং বহু ব্যবহৃত কথা তাদের। তারপর একটু থমকে গিয়ে অনিমেষ বললো)
অনিমেষঃ- তোর মনে আছে কথাটা?
তিয়াসাঃ- হ্যাঁ মনে আছে, তাই তো বললাম। তুমি সবই বোধহয় ভুলে গেছো তাই না?
অনিমেষঃ- কিছু কথা, কিছু পরিচয়, কিছু আলাপ ভুলে যাওয়া ভালো তাই না?
তিয়াসাঃ- (দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে) হ্যাঁ ঠিকই তো। এই শহরের আনাচে কানাচে কত আলাপ তো এইভাবেই ভুলে গিয়ে মিশে আছে বলো?
অনিমেষঃ- তা আছে। মাসিমা কেমন আছেন? আমার কথা বলেন?
তিয়াসাঃ- আজও মা বলতে পারলে না, না আজ আর বলে লাভ নেই তবে মা তোমার কথা বলে না গো আর।
অনিমেষঃ- ফেসবুকে হলুদ টিশার্ট পরা ছেলেটা তোর প্রেমিক?
তিয়াসাঃ- বাহ্ সবুজ শাড়ি পরা অফিস কলিগের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারো আর এটা জানো না সেই সবুজ শাড়ি পরা মেয়েটার স্বামীর নাম রুদ্রনীল যে আমার পাশে হলুদ টিশার্ট পরে দাঁড়িয়ে ছিলো ও আমার কলিগ। কেনো তোমাকে বলেনি বুঝি যে ও বিবাহিত?
অনিমেষঃ- (লজ্জায় পরে গিয়ে) না মানে আচ্ছা ঠিক আছে সরি।
তিয়াসাঃ- তাই? তা সেদিন এই সরিটা কেনো বললেন না মিস্টার অনিমেষ চ্যাটার্জী?
ইগোর কাছে হেরে যাবেন বলে?
নাকি রিপোর্টার অনিমেষ চ্যাটার্জী তার কলিগ ক্যামেরাম্যান তিয়াসা ভট্টাচার্যের কাছে পরাজিত হবে না বলে?
অনিমেষঃ- পুরনো সাতবছর ঘেঁটে আবার ঘ বানাতে এখানে চা খেতে আসিনি আমরা তাই না?
তিয়াসাঃ- চাকরিটা ছেড়ে দিলে। মাম্মাম,বাপি এরা কিছু বললেন না তোমাকে?
অনিমেষঃ- হুম বলেছে তো?
তিয়াসাঃ- কি বলেছেন?
অনিমেষঃ- বলেছেন আমার সঙ্গে কেউ থাকতে পারবে না কোনোদিনও, আমি এমনি। তাই সে মানুষ হোক কিংবা চাকরি কেউই আমার সাথে থাকবে না।
তিয়াসাঃ- ঠিকই বলেছেন। তা এখন কি করছো?
শুধু কবিতা লিখছো আর নাটক, থিয়েটার এইসবই?
অনিমেষঃ- না টিউশন পড়ায় (হেসে)।
তিয়াসাঃ- চলে?
অনিমেষঃ- (সিগারেট ধরায়) চলে না তবে চালাতে হয়।
তিয়াসাঃ- ওমম দেখি ফেলো এইসব( তিয়াসা সিগারেট টা ধরে ফেলে দিলো অনিমেষের হাত থেকে)। এখন কি করছো সেটা বলো। বসে কথা বলতে শিখেছো, সরি বলতে শিখছো, নামি চ্যানেলের রিপোর্টারের চাকরি ছেড়ে তুমি ঠিক কি করছো অনিমেষ? মিথ্যে বলো না।
অনিমেষঃ- সবুজ রঙের লোগো ওয়ালা এপার ওপার বলে যে চ্যানেলে এখন দেশবিদেশের খবর দেখানো হয় সেই চ্যানেলের owner এই অনিমেষ চ্যাটার্জি। কি বুঝলেন ক্যামেরাম্যান থেকে promotion হওয়া বিখ্যাত রিপোর্টার তিয়াসা ভট্টাচার্য?
(অনিমেষের দিকে অবাক হয়ে তাকালো তিয়াসা few sec )
তিয়াসাঃ- (আনন্দিত হয়ে...) তুমি আমার কথা রেখেছো তাহলে। (কান্না এসে গেছে আনন্দের)
অনিমেষ এক নিমেষে তিয়াসা কাছে টেনে বললো
অনিমেষঃ- হ্যাঁ এই সাত বছরে আমি শিখেছি বসে কথা বলতে, সরি বলতে, কথা রাখতে। আর এই সাতটা বছরে আমি অপেক্ষা করেছি তোমার জন্য কিন্তু ফোন করতে পারিনি নিজের ইগোর কাছে হার মানবো না বলে। তবে আজ বলছি তিয়াসা ভট্টাচার্য, মাসিমা কে মা বলে ডাকলে তুমি আমাকে আরও একবার সঙ্গে নেবে কি?
( তারপর জড়িয়ে ধরলো তারা)
-----------------------সমাপ্ত------------------------
©কলমেঃ- সুদীপ্ত সেন
Comments
Post a Comment