Skip to main content

 আক্ষেপ কিছু নেই


-----------------------

গল্পের বিষয়বস্তুঃ- একজন অ্যাসিড অ্যাটাক হওয়া মেয়ে। তাকে ঘিরে সমাজের তাচ্ছিল্য কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। 


আক্ষেপ কিছু নেই। 


ক্যারেক্টারঃ- একজন ছেলে ( ছেলের বন্ধুদের একটা দল) একজন মেয়ে, মেয়েটির দুটো বন্ধু, স্কুল ম্যাডমা, একজন ডাক্তার,মেয়েটির মা বাবা, পাড়া প্রতিবেশী)


একদিন মেয়েটা টিউশন পড়তে যাচ্ছিলো। গলির মোড়ে বসে থাকা দুটো ছেলে। 


একজন ছেলেঃ- ওই দেখ, আসছে আসছে। 

অন্য ছেলে নাম অনিমেষঃ- আরে, ধুর ওইভাবে হাত দেখাস না। একটু থাম। 


মেয়েটা তার বন্ধুদের সাথে যাচ্ছিলো পড়তে। হঠাৎ একজন মেয়ে (মেয়েটির বন্ধু) নায়িকাকে(শর্মিলা) বলে, 


মেয়েটির বন্ধুঃ- ওই শর্মিলা ওই দেখ, আজও কেমন দাঁড়িয়ে আছে। তুই তো বলেছিলিস কোনো সম্পর্ক নেই তোর আর অনিমেষ দার মধ্যে। 


হঠাৎ মেয়েদুটো কাছে আসতে, অমিমেষের বন্ধু চাকু বের করে বলে 


এই তোরা আজ পড়তে যা,ও পরে  যাবে। এখন ওর এখানে ক্লাস আছে। 


মেয়ে দুটো ভয়ে চলে যায়। 


এরপর অ্যাসিড অ্যাটাক করে ওরা শর্মিলার ওপর। 


(এটা গেলো প্রথম সিন)



তারপর.......



(হাসপাতালে চোখ খোলা  হলো শর্মিষ্ঠার, বাড়ি আনা হলো ওকে। বাবা মা কাঁদছে, পাড়া প্রতিবেশী ভয় পাচ্ছে ওকে দেখতে এসে সরে যাচ্ছে। বাচ্চা ছেলেমেয়েরা ভয় পাচ্ছে।

এবার বাবা শর্মিষ্ঠাকে ঘরে নিয়ে গেলো, মা কাঁদতে কাঁদতে ঘরে চলে গেলো)


শর্মিলাকে ঘরের খাটে বসানো হলে ও তার বাবাকে প্রশ্ন করে। 


শর্মিলাঃ- বাবা ওই জানোয়ারটাকে পুলিশ ধরতে পেরেছে তো?


বাবাঃ- নারে মা ওদের ধরে রাখা কি যায়, ধরে ছিলো কিন্তু ছাড়া পেয়ে গেছে। 



শর্মিলাঃ- তা কি করে হতে পারে বাবা?  ওকে যে ধরতে হবে নইলে যে ও আরও অনেকে শিকার করবে। (এই বলে কাঁদতে শুরু করে শর্মিলা)


বাবাঃ- কিচ্ছু করার নেই সমাজটা এমনি রে মা। তুই একটু রেস্ট নে। 


শর্মিলাঃ- আর রেস্ট।  তবে হ্যাঁ রেস্ট তো নেবো কিন্তু এখন না আগে ওই অসুরের বোধ হবে তার পর রেস্ট। 


বাবাঃ- মা রে মা আমার.... কাঁদতে শুরু করলো। 


পরের দিন থেকেঃ- একজন ডাক্তার মেয়েটিকে রোজ চেকআপে আসতো। 


(নাম কৌশিক সেমগুপ্ত। এরপর স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে জীবন, পাড়াতে শর্মিলাকে দেখে বাচ্চারা ভয় পায়। শর্মিলা ভেঙে পড়তে থাকে।) 


কৌশিকঃ- কেমন আছো শর্মিলা 

শর্মিলাঃ- ভালো আছি ডাক্তার বাবু

কৌশিকঃ- কাল তোমার পরীক্ষা তো? কেমন প্রিপারেশন?

শর্মিলাঃ- ভালো না ডাক্তার বাবু, আমার আর কিছুই ভালো লাগে না। আমার একটাই লক্ষ্য ওকে ছাড়বো না। 

কৌশিকঃ- তুমি ভালো করে পরীক্ষা দাও। ভয় পেও না। সব ঠিক হয়ে যাবে। 

শর্মিলাঃ- কী ঠিক হয়ে যাবে ডাক্তারবাবু? পাড়ার মানুষ গুলো ঠিক হয়ে যাবে? আমার বন্ধুরা ঠিক হয়ে যাবে?  পাড়ার ছোটো ছোটো বাচ্চা গুলো ঠিক হয়ে যাবে? 


( এগুলো যখন শর্মিলা বলবে তখন দেখানো হবে, বন্ধুরা, পাড়ার মানুষ, বাচ্চারা কি করে তাকে দেখে) 


এরপর কেঁদে ফেলে  শর্মিলা। 


কৌশিকঃ- উম হুম একদম না। চুপ করো। এই নাও ( কালকে বাংলা পরীক্ষা তাই বাংলা বইটা তার হাতে দেয় ডাক্তার আর বলে....


ডাক্তারঃ- রিভিশন দিয়ে নাও তাড়াতাড়ি 


(পরের কিছু দিন পর। ডাক্তার আবার এলো। এতো দিনে কৌশিক সেনগুপ্তর সাথে শর্মিলা আলাপ জমে গেছে, ডাক্তারের মায়া পড়ে গেছে। হতে শুরু করেছে প্রেম)


কৌশিকঃ- শর্মিলা কি করছো? (বলেই ঘরে ঢুকলো)

(শর্মিলা পড়ছিলো)

শর্মিলাঃ- হ্যাঁ ডাক্তারবাবু আসুন, এই তো পড়ছিলাম। 


কৌশিকঃ- বাহ্,তাহলে কালকেই শেষ তোমার পরীক্ষা। 

শর্মিলাঃ- হ্যাঁ ডাক্তারবাবু আপনকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোটো করব না, আপনি না থাকলে আমার পরীক্ষা  দেওয়াটা সম্ভব হতো না, আমি তো পরীক্ষা দেবই না ভেবেছিলাম। 



ডাক্তারঃ- না এমন কথা বলতে নেই। তোমাকে উঠে দাঁড়াতে হবে, দেখিয়ে দিতে হবে তোমরা দুর্বল নও। 




 



 আজ রেজাল্ট( এই সিনটা দেখাতে হবে)


রেজাল্ট আনতে গিয়ে শর্মিলা চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ কাছে আসে না,।  রেজাল্ট আউট হলো, শর্মিলা টপ করেছে, সবাই থ হয়ে গেছ।  ম্যাডাম শর্মিলাকে আদর করলো।


ম্যাডাম বললোঃ- বড়ো হও মা।


শর্মিলা ম্যাডামকে প্রণাম করে বেরিয়ে গেলো রাস্তায়। 


(হঠাৎ পিছন থেকে  একটা মেয়ে  এলো, নাম উর্মি।  ও শর্মিলার বন্ধু, ওরা একে অপরকে চেনে। উর্মি একটু রক টাইপের মেয়ে)


উর্মিঃ- ওই? 

শর্মিলাঃ- বলো? 

উর্মিঃ- congratulations শর্মিলা

শর্মিলাঃ- ধন্যবাদ। 

উর্মিঃ- কেমন আছো 

শর্মিলাঃ- ভালো আছি। 


(গল্প করতে করতে যাওয়ার সময় হঠাৎ পাড়ার কাছে দেখা হলো অনিমেষের সাথে। অনিমেষ ওর বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিলো। ওদের দেখে ওরা বাজে কটুক্তি করছিলো।) 


অনিমেষের এক বন্ধুঃ- ওই দেখ ভূত যাচ্ছে ভূত


অনিমেষরা হাসাহাসি করছে। 


অনিমেষঃ- নারে ওটা হলো সেক্সি ভূত, উফফ...


উর্মি বলেঃ- ছাড়ো শর্মিলা কুকুরদের কথায় কান না দেওয়ার ভালো। 


অনিমেষঃ- উড়ি বাস, এটা কে রে, মালটাতো বেস টাটকা দেখছি। 


অনিমেষের অন্য একটা বন্ধুঃ- চলো না গুরু এবার একটু এটাকে নিয়ে খেলি। 


(এক মুহূর্তের মধ্যে থমকে গেলো সবটা, উর্মি ও শর্মিলা দাঁড়িয়ে পড়লো রাস্তায়, ওরা হাসাহাসি করছে, শর্মিলার চোখ রাগে জ্বলছে যেনো। দেখানো হচ্ছে শর্মিলার সাথে ঠিক কী হয়েছিলো ( এটা ডিরেক্টর বানিয়ে নেবে কীভাবে অ্যাসিড অ্যাটাক হয় শর্মিলার ওপর) 

যেয় অ্যাটাক করার দৃশ্য দেখানো  দেখানো হবে ওমনি শর্মিলা তার ব্যাগে থাকা চাকুটা বের করে এক ছুটে গিয়ে অনিমেষের যৌনাঙ্গে বসিয়ে দেয়। অনিমেষের বন্ধুদের ওপর চিলি পেপার স্প্রে করে উর্মি। 


 (পাড়া প্রতিবেশি জড়ো হয়, পুলিশ আসে, ডাক্তার বাবু(কৌশিল সেনগুপ্ত),  শর্মিলার বাবা মা আসে সবাই দাঁড়িয়ে থাকে, বাবা-মায়ের চোখে  এক সাহসিকার এবং শান্তির কান্না)


শর্মিলাঃ- চাকু হাতে ওই রকম রণচন্ডী অবস্থায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে, শুনে রাখো সবাই শুনে রাখো। পৃথিবীতে নারীরা এখন আর অবহেলিত হওয়ার পতুল নয়, ওরা ভৌগ্যপণ্য নয়। সঠিক জবাব দাও, নিজের রক্ষা নিজে করো, ওঠো নারী, জাগো তুলে নাও তোমাদের সাহসকে, দেখো আমাকে দেখো.... আজ আমার এই অবস্থার জন্য আমি দায়ী নই এই অসুর গুলো দায়ী। পুরুষ তোমরা জেনে রাখো যতবার তোমরা অসুর হয়ে নারীকে ক্ষতি করবে, লোভের বস্তু ভাববে ততবার আমরা জেগে উঠবো রণচন্ডী রূপে।  আর তোমাদের বিনাস হবেই.....

মেয়েরা তোমরা মায়ের জাত, দুর্গার রূপ, তোমরা জাগো, পথ চলতে হাতের কাছে রাখো চিলি পেপার স্প্রে, চাকু। 

রাক্ষস গুলোকে যোগ্য জবাব দাও আর নয় সময় এসে গেছে। 

এতে আক্ষেপ কিছু নেই।


©সুদীপ্ত সেন 







Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...