Skip to main content

 উত্তরটা জানা নেই


আজ পাঁচটা বছর আমাদের দেখা নেই। তোমার লাগিয়ে যাওয়া আমের চারা গাছটা আজ গাছ হয়ে উঠেছে, বাগানে পু্ঁতেছি।

ছাদের টবে হলুদ গোলাপের যে চারগাছটা তুমি লাগিয়েছিলে তাতে এখন ফুল ফোটে।

যখন কুঁড়ি আসে তখন একখানা গোলাপ কু্ঁড়ি তোমার সামনে রেখে দিই জল ভরা ফুলদানিতে।

ঘুম থেকে উঠে পরের দিন সকালবেলা কুঁড়িটা ফুল হয়ে যায়। 

স্রেফ বুঝতে পারি, আমি যখন ঘুমোই তখন তুমি এসে তোমার আগের স্বভাবদোষ বজায় রেখেই আধফোটা গোলাপ কুঁড়িটার একটা একটা করে পাপড়ি নিজে হাতে খুলে খুলে ফুল ফুটিয়ে গেছো। 

তুমি যে অল্প বয়সে পাকা ছিলে এবং সেইজন্যই তাড়াতাড়ি তুমি কুঁড়িটাকে ফুল করে দিতে চাইতে নিজের হাতে করে তা ভালোই বুঝতে পারতাম। নইলে কেনোই বা তুমি তোমার ফার্স্ট ইয়ারের প্রথমদিন আমার একবার ক্লাস করেই ছুটির সময় ছুটে...এসে বলেছিলে-- 'স্যার আমার আপনাকে হেব্বি লেগেছে'।

সেদিন হালকা হেসেই এনফিল্ডে ক্লিক করে  বেরিয়ে গিয়েছিলাম।

কিন্তু অধিক পাকা হয়েও সেদিনের ওই ফার্স্ট ইয়ারের ছিপছিপে মেয়েটা বুঝতে পারেনি স্যারের হাসিটা অথচ স্যার তখন "ফ্যারাডের" সূত্র ভালোই বুঝেছিল, যে একদিন ক্লাস করেই প্রথম দেখা স্যারের ওপর স্যার আপনাকে আমার দারুণ লেগেছে বলে পরিবাহী তার জড়িয়ে, ছুটির সময় ছুটে এসে ভোল্টেজ অ্যাপ্লাই করে যায় আর তাতে যে চুম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি হয়ে কারেন্ট উৎপন্ন হওয়ারই ছিল, সূত্র বলছে।

লক্ষ করেছিলাম ঠোঁটের মাখা ডিপ খয়েরী রঙের লিপস্টিকটা, বেশ attractive ছিল। 

শুধু বরাবর basic electrical টা তোমার না বোঝায় থেকে গেলো।


তাই দেখো, বিয়ের পর প্রথম যে বছর আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘা গেলাম আর তার সামনে দু-হাত তুলে দিয়ে তুমি জোড়ে চিৎকার করলে সঙ্গে একটা 66 kv-এর হাসি নিয়ে আর উল্টো দিকের ক্যামেরা ম্যানের ভূমিকায় আমি একটা ক্লিক করলাম ব্যস, সেই ছবিটাই  একমাত্র এই গোটা ঘরটায় তোমার অস্তিত্ব বহন করছে এখন।

তোমার বরাবরই গাছে নেশা,  ফেরার আগের দিন পাহাড়ি গাছওয়ালার থেকে তুমি একটা পাহাড়ি গাছ কেনার কথা বলেছিলে। আমি কিনিনি কারণ যে বীজটা তখন তোমার ভেতর বাড়ছিলো আমি শুধু তাকেই নিয়ে এসেছিলাম তুমি বোঝোনি অথচ এই পাঁচ বছরে ও অনেকটা বড়ো হয়ে গেছে যতটা বড়ো হতো তোমার পাহাড়ি গাছওয়ালার থেকে কেনা পাহাড়ি গাছটা!

ও খুব চঞ্চল,  তোমার কথা ও জানে না। শুধু জানে ওর বাবা এবং মা দুটোই আমি। ছবিটার দিকে মাঝেমাঝে তাকায়, তাও আবার অল্পসল্প।

বড়ো হয়ে প্রশ্ন করলে, সে উত্তর আমার আজও জানা নেই!


পাহাড় থেকে ফিরে এসে  তুমি যে এমনটা করবে আমি ভাবতে পারিনি। 

তোমার গাছ খুব প্রিয় ছিল তাই কি তুমি কি সদ্য জন্ম দেওয়া ফুটেফুটে জ্যান্ত কুঁড়িটাকে ফেলে সেই পাহাড়ি গাছটাকে কিনতে গেলে? নাকি সেই ছোকড়া পাহাড়ি গাছওয়ালাটা যে তোমাকে নানারকমের পাহাড়ি গাছ দেখালো তার কাছেই গেলে, মৃত্তিকা...? 



@সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)


Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...