১.)
*তখন-এখন*
তখন ছিলো জমাটি সভা।
তখন ছিল বুকের দাপট
তখন ছিলো পার্টি অফিস
তখন ছিলো রক্ত গরম।
এখন সবই আগের মতোই... একটু শুধু চেঞ্জ হয়েছে, সেসব বলি....
ও একটু দাঁড়ান দাদা। তখন-এখন বলতে হলে আরও একটু খানি বলি
আর সেসব বলা দিয়েই আমি সাজিয়ে দেব, বুঝিয়ে দেব তফাৎ। দেখুন গ্রাম ও শহরতলির....
তখন হতো বোমার আওয়াজ
পালিয়ে যেত রাত-ভোরে সব
তখন ছিলো লড়াই খিদের
নকশালীয়া প্রন্থা ছিলো তখন দিকেদিকে।
এখন সবই আগের মতোই। শুধু সেল্ফি হবে আগে আর লড়াই হবে ফিকে।
এই যে ধরুন তখন কোনো আলোচনায় তর্ক হতো জোড়ে
এখনও হয় ঘন্টা খানেক সঙ্গে ঘুমন টিভির ভেতর চড়ে।
তখন কোনো হিসেব হলে। পাড়ার মোড়ে মুড়ল এসে বটের নীচে বসে
যেসব কথা বলতো, সবাই নিথর হয়ে শুনত তাগিদ ও মজলুসে।
এখনও শোনে, মাইক্রোফোনের জন্য দাবী
লাস্যময়ী নেত্রী এসে ঝুলিয়ে দিলো বুক
বুকের ওপর একটা তিলেই সব অভিমান যাচ্ছে গলে।
সামনে থেকে লড়াই ডেকে ভেতর ভেতর সুখ।
আচ্ছা এ তো গেলো কেচ্ছা হিসেব। এবার এমন বলব কথা
যেমন বলি যথারীতি আজও তেমন ঠিক। শুনন তবে...
আজকে দেখি কলেজ ছেলে। ইউনিয়ানের পতাকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্ল্যাকার্ড হাতে
আজকে দেখি যত না কথা তার চেয়ে বেশি উজাড় করে লালসেলামে।
উড়ি শ্লা, বলতে গিয়ে ফাটছে মাথা। বলতে গিয়ে যাচ্ছে জেলে
ফাটল মাথা শুকিয়ে গেলেই মিছিল হবে আবার কোনো ছুতো পেলেই।
একটু বলি শোনো। আজকে যাদের দেখছো পথে।
চুল পেকেছে, পরণে ধুতি। তারা হিসেব জানে
ভাত ও রুটির।
তোমরা শুধুই সেল্ফি নেবে এই আশাতেই ঝাঁপিয়ে বেড়াও
তোমরা শুধুই প্ল্যাকার্ড নেবে এই আশাতেই তুলছ শ্লোগান
এর চেয়ে শুনুন বাড়িতে বসে কবির এবং রূপম চেবান।
তাও ভালো.....।
ওই নিয়ম মাফিক ধর্মতলায় মিছিল হবে
ওই নিয়ম মাফিক কলেজ গেটে কালো পতাকা ধরতে হবে
আর একটুখানি লেলিন জেনেই পাড়ার মোড়ের লেলিন হবেন
এমন করে সহজ ভাবে পায় নি কেউই স্বাধীনতা।
সবার লড়াই তখন ছিলো শুধুই দাবীর। আদায় ছিলো তখন লড়াই
এখন শুধুই সেল্ফি নেওয়ার। অল্প খানি 'চে গুয়ে ভারা' ওই ছবি কিংবা একটু পড়েই তাঁকে নিয়েই করছ বড়াই!
থামবে সবই, বাড়বে বয়স। ফূর্তি তখন সব আহত
একটু নুনের জন্যে লড়াই ফুরিয়ে যাবে খিদের মতো।
🚲ডট.পেন
২.)
গন্ধের কারিগর
--------------------সুদীপ্ত সেন
দিচ্ছে সময় পেরিয়ে যাওয়ার তাড়া
স্নিগ্ধ মেজাজ, রাতের গায়ে আলো।
আসর জমায় বাসর ঘরের যারা....
তাদের থেকে একটা মেয়েই ভালো।
অল্প কথায় ভিজলো মেয়ের আঁখি
জ্বাললো কাঠি সিগারেটের ধোঁয়া
রাস্তাটাকে নদীর মতো দেখি, আর
ছেলেটা জয় এবং মেয়ের নামটা তোয়া।
চাকরি করা ছেলের সাথে বিয়ে
কালঅশৌচে থমকে গেছে সময়
উসকে দিলাম আগুন ঢেলে ঘিয়ে
এসব নিয়ম মানায় না যে তোমায়।
বুঝতে পারি যুক্তিবাদের তাগিদ
তবুও শুধু ঘরের জন্য হিসেব
উড়িয়ে দিলো কাজল চোখের দাবী
বললো, তোমার যায় এসে যায় কিসে?
পেরিয়ে গেছে কয়েক মাসের মতো
হয়নি দেখা। রাস্তা, বাড়ি কোথায়?
উড়ন্ত সব চিঠির কাগজ যত....
গন্ধটা খুব ঘুরছিলো আজ মাথায়।
মেয়েটা সেদিন লাগিয়ে ছিলো গায়ে
কিরম জানো উগ্র তবু ভালো
অফিস এসে চুমুক দিলাম চায়ে
সেই সেন্টটাই ভাবাচ্ছে জমকালো।
আরেকবার কি আসতে পারো তোয়া?
ফোনের থেকে জানিয়ে ছিলাম নিজেই
আজ বাদে কাল ফুলসজ্জায় শোয়া
বৌ-ভাতে তার বাজছিলো জোড় ডিজে।
এরম ভাবেই হারিয়ে গেছে কত
গন্ধ ছড়ায় ফুলসজ্জায় যাদের।
একের পর এক হারিয়ে গেছে যত....
আমিই নিছক গন্ধ বানাই তাদের।
------------------------------------------
আমার ঠিকানাঃ
নামঃ- সুদীপ্ত সেন
গ্রাম+পোস্টঃ- পাইকর
জেলাঃ- বীরভূম
পিনঃ- ৭৩১২২১
থানঃ- মুরারই
ফোনঃ- ৭৩৮৪৩২৪১৮০
Comments
Post a Comment