Skip to main content

বুক রিভিউ " যদিদং হৃদয়ং"


 

একটা ছোটো বই তাতে তৌসিফ দার ক্যালিগ্রাফি আর সেখানেই খুব নিখুঁত এবং সাবলীল কতগুলো কাপলেট রয়েছে। বইটির নাম 'যদিদং হৃদয়ং' হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন বইটির লেখক রেজমান। 


রেজমান বেশ পোক্ত  কবি কিন্তু তাঁর এই বই-এ রেজামান প্রমান দিয়েছেন তিনি একজন ভীষণ প্রেমিক কিংবা আহ্লাদী। 


তাই শুরুতেই কবি বলেছেন "সব দুষ্টু প্রেমিকেরই একজন করে আহ্লাদী থাকুক"।


বইটার মধ্যে ঢুকতেই  জানতে পারলাম ভালোবাসার মাত্র একটাই নাম সেটা তুই। 


আমি বিশ্বাসী এই তুইটা কে সেটা জানার দরকার না থাকলেও পাঠকবর্গ নিজের নিজের তুই কে ভালোবাসার নাম হিসেবে বুঝে নিতে পারবে। 

কবি রেজমান এমনতেই খুব দরদী একজন লেখক তাই কৃতজ্ঞতা জানালেন বাস্তবিক কিন্তু নির্জীব সন্ধের কলেজ স্কোয়ার, অ্যান্টনী লেনের গলি আর তাঁর লেখা না আসা অস্থির রাত গুলোর প্রতি৷ 

কবি বলেছেন, যে বর্ষাতে শার্সি ভিজে যায় ঠিক তখনই প্রেমে অন্ধ হয়ে যাওয়া প্রেমিক ভিজতে ছোটে দৃষ্টি পাওয়ার ভরসাতে। 

এবং কবি আশাবাদী আজাদীর স্লোগানে   হেম নলিনীকে পেয়ে যাবে। 

প্রেমে তো ঝগড়া হবে, আর ছেড়ে যাওয়ার দিক হবে বহু কিন্তু থেকে যাওয়ার দিক তো একটাই। কবি খুঁজে বের করতে বলেছেন সেই দিকটিকেই।


কবির মতে আদরে ক্ষত সেরে যায়  আর  ঠিকতখনই বুকের কাছে আলতো করে টেনে এনে প্রেমিকের দৃৃষ্টিকে নিজের করে নেওয়া যায়। 


প্রেম কার না ভেঙে যায়?  ভুলব না ভেবেও ভুলে যাওয়া যায় কিন্তু মনে রাখাটায় ঝক্কিসম আর তারই কাজ করে কবির দিলপিওন।


এরপর সমস্ত পেরিয়ে যাওয়াকে মনে রেখে আফিমের মশকরা সেবন করে ঠোঁটের নোনতা স্বাদে সমস্ত স্বাদ যখন ম্লান হয়ে আসে তখন কবির হঠাৎ করে মনে পরে যায় যে "প্রিয়তমা পাড়া ছেড়ে গেলে,কার বুকে মাথা রেখে কাঁদো আজ"?

তারপরই তিনি বলেন  অপেক্ষমান হৃদিকে শ্যামের কাছে সমর্পিত করে সমস্ত রাধারা আজও বিচ্ছেদি হয়ে আছে। এরপরই বিসর্জনের ক্লেস বিকীর্ণতার সুরে হেঁটে যেতে থাকে সন্ধ্যাতারার দিকে। কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে সমস্ত পথ পেরিয়ে আবার ঠোঁট বাঁধতে হয় "বিপ্লবে আর শোকে"। তারপর ছায়াপথ বিলিয়ে, আলপনা বুনে দিয়ে কবি চলে যান সাঁওতালি এক মেয়ের কাছে যার খোঁপায় বাঁধা মেঘ। ভিনদেশী হয়ে গিয়ে কতজনই তো এরকমই প্রেমে পরে ঠিক যেভাবে হাঁটতে গিয়ে "হিমুর সাথে জড়িয়ে গেলো রুপা"। 


'যদিদং হৃদয়ং' এই বইতে এক সহজ জীবনবোধ এবং এক প্রেম থেকে দ্বিতীয় প্রেমে পড়ার গল্প বলেছেন কবি এবং সে কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন মানুষ দ্বিতীয় প্রেমকেও ভুলে যেতে পারে আর তা কারো কারো কাছে কবিতার উচ্চতায় ঢেকে যায় অবলীলায়। ঠিক তারপরই অতীত ভুলতে গিয়ে চাঁদের কাছে জ্যােৎস্না চাওয়ার অজুহাতে আদর খু্ঁজে মরতে হয় কবিকে। কিন্তু নিঃস্ব হয়ে যাওয়া প্রেমিক শেষ বার তো বলেই ফেলে " নিঃস্ব হয়ে এলাম যখন, আমায় তুমি না করো না"। 

তারপর আবার বোকার মতো হাঁটতে হাঁটতে, আদরের আগে জড়িয়ে ধরার জন্য আকুতি রেখে  ঠোঁটের কাছে গল্প লাগিয়ে প্রেম আর যৌনতার মধ্যে তফাৎ না বুঝতে পেরে মতভেদে যান কবি তারপর সবার মতোই প্রেম ফুরোনের কারণ হিসেবেই ইগোকেই দায়ী করেন কবি।  


মন তো ভাঙলো এবার  আমার মতো একজন পাঠকের, কারণ যে কিনা এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখালো সেই আবার মনভাঙনের কথা বলছে। 


কিন্তু প্রেমিক যখন কমরেড তখন তার কাছে প্রেমের বাঁধন তো আলগা আর বিপ্লব তো প্যাশনেট, তাই এবার "গালজুড়ে স্রেফ মির্জা গালিব" নিয়ে ফের মনের মানুষকে ছুঁয়ে চেনা পথ ভুলে মায়ের হাতের আলপনার মন ভাঙার কারণ না জেনে পাঠকের কাছে হাজির হবে গুলাম আলি আর তখনই "সুরের বাঁধন ঝলকে ওঠে নুপুর পরা পায়ে"। তবে যে পুরুষ ভেতর থেকে নারী সে তিন সাত সাত স্বীকৃতির জন্য বসে না থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে বলে মনে করেন কবি। 


সব শেষে বইতে কবি রেজমান বলেছেন অবশেষে প্রেম ভাঙলেও আবর দ্বিতীয় প্রেম গড়লেও শেষমেশ বিবাহের আয়োজন পরিপাটি করেই হোক আর সংসারে অভিমান ধার্য্য থাকুক। 


সব মিলিয়ে তৌসিফ দার ক্যালিগ্রাফি আর রেজমান দার এই বই এক অসম্ভব ভালোবাসার কথা বুনেছে এবং শুধু ভালোবাসা নয় বরং ভালোবেসে বয়ে চলার কথা এই বই বলেছে। 


বইটিকে 'নবজাতক প্রকাশন' খুব সুন্দর ভাবে পাঠকের কাছে তুলে ধরেছে যা নিঃসন্দেহে   আহ্লাদীর কাছে  দুষ্টু প্রেমিক হয়ে ক্যাপশন রূপে থেকে যাবে অনেক অনেক.... দিন পর্যন্ত। 



রিভিউ কলমেঃ- ডট.পেন



Comments

Popular posts from this blog

১.) অক্ষরেখা ------------সুদীপ্ত সেন  ধরো কাঁচের কাছাকাছি, আমি নিজের মতো বাঁচি আর সুযোগ পেলে লিরিক্স লিখি নির্বিকার। তুমি সাজাও উপত্যকা আর যত্নে থাকো একা। শুধু জড়িয়ে ধরার জন্যে ছিলো দিব্যি কার? এতো হোঁচট, তবু ভালো। কোনো প্রথম চুমুর বালক শুধু কপাল ছোঁয়া, ঠোঁট পায়নি মগডালের যেমন পথিক মরুভূমির, শুয়ে রোদ পোহানো কুমির সে জল ভেবেছে রোদের গায়ে মরীচিকা চমকালে। গলি-পথের পাশাপাশি। দেখা হতেই পারে, আসি? তুমি চাওনি বলেই বরফ জমে দুই মেরুর এখন কলেজ সে'তো অতীত। আমি তোমার কাছে ক্ষতি সিঁথি  সিঁদুর মেখে নিয়েই ছিলো অন্যরূপ। তবু হঠাৎ করে দেখা। তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে একা ছিলো নন্দন আর ব্যস্ত ছিলো কানের দুল। তবে নরম কোনো খামে আর যেকটা ডাকনামে আমি ডাকতে যাবো, এমন সময় উড়লো চুল... ব্যস, তফাৎ দুটি মেরুর, আজ আঁচড় দিয়ে চিরুক চিরে অক্ষরেখা টান দিয়েছে সিঁদুর দাগ। তুমি আজও যে খুব পিওর, ধরে বয়েস রাখো সিওর আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক হুম, আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক। ২.) |গ্রীণ বিলডিং | তোমার জানার কারণ খুবই সোজা, তার চেয়ে সোজা চৈত্র মাসের বাজার আমার স্বভাব নিতান্ত ...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...