Skip to main content
শেষবারের মতো
-------------------------

মধুমিতাঃ- উফফ আজাহার দা সিগারেট টা ফেলো না...অনেকক্ষণ তো হলো

আজাহারঃ- "হাতে হাত রেখে বহুদূর এগিয়ে যাচ্ছি। যেতে যেতে একলা পথে নিভিয়ে যাচ্ছে আলো"

কেনো বলতো?

মধুমিতাঃ- ধুর....আবার তুমি আলোর সাথে মেলাতে চায়বে ভালো। জানি আমি।

আজাহারঃ- হা হা হা হা.....

মধুমিতাঃ- ভাবলাম তুমি বদলে যাবে কিন্তু যাওনি। ভেবেছিলাম হয়তো তুমি আর অন্তঃমিল মেলাতে চায়বে না। সব ভুল ভেবেছিলাম। তুমি আর অন্তঃমিল মেলাবে না, তাইকি হয়?

আজাহারঃ-
দূর দেশে ফিরে আসে কারা
ভেবেছিল, মনেছিল আশা
জ্বলে শুধু একা ধ্রুবতারা
তারারাই চেনে ভালোবাসা!!

মধুমিতাঃ-একদম, ঠিকই বলেছ  তুমি....
তারারা ছাড়া কেউ ভালোবাসা চেনে না আজাহার দা। যেরকম আমিও ভালোবাসা চিনিনি, ফিরিয়ে দিয়েছিলাম তোমাকে।

আজাহারঃ- ধুর, তুই ফেরাস নি। ফিরিয়েছিল এই সমাজ। ফিরিয়েছিল এই মন্ত্র আর আজানের সুর। ফিরিয়েছিল মন্দিরের ঘন্টা আর ফিরিয়েছিল তোর মসজিদ।

আর  এদের কাছে তোর ফিরিয়ে দেওয়াটা নিতান্তই একটা অনুঘটক ছাড়া আর কিছুই না।

মধুমিতাঃ- আজাহার দা, তুমি আমাকে দোষ দাও না কেনো?

আজাহারঃ- দোষ দিই না? এই তো দিলাম। তোর ঘন্টা, তোর মন্ত্র। আসলে তুই বুঝতে পারিস না, যে আমি তোকে দোষ দিই।

মধুমিতাঃ- কথার জালে কোনোদিন হারাতে পারিনি তোমাকে। জানি আজও পারব না।

আজাহারঃ- উম হুম, আসলে হারাতে চাসনি তাই পারিসনি। ইচ্ছে করলে পারতিস।

মধুমিতাঃ- জানো তো, সৌপ্তিক আমাদের সম্পর্কের কথা জানে কিন্তু কোনোদিন কিচ্ছু বলেনি বরং ভালোবেসেছে। আমি হয়তো ওকে অতোটা ভালোবাসতে পারিনি। কেনো জানো?

আজাহারঃ- জানি। কারণ ভিক্টোরিয়ার মাঠে বসে তোকে বলেছিলাম আমাদের ব্রেকআপের পর তুই আর কাউকে ভালোবাসবি না।

মধুমিতাঃ- একদমই তাই । আর তাই হয়তো আমাদের ভালোবাসাটা একটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিরেট হয়ে থেকে গেছে। বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি।
আচ্ছা আজাহার দা, তুমি বিয়ে করলে না কেনো?
 তোমার ওই পাঠিকা যে তোমাকে 'বড়োদিনে' পার্কস্ট্রীটে হলুদ গোলাপ দিয়েছিল
তাকে বিয়ে করতে পারতে।

আজাহারঃ- হা হা হা হা। এটা এখনও ভুলিসনি দেখছি। তাহলে শোন আজ বলছি, সেদিন ও আমায় হলুদ গোলাপটা দিতে এসেছিল, আমি নেইনি। আমি বলেছিলাম এই হলুদ গোলাপটা তুমি দোকানদারকে দিয়ে এসো আর বলে এসো আজাহার দিয়েছে। ও অনেকটা অবাক হয়েছিল জানিস, ঠিক তুই যেমন অবাক হচ্ছিস।
কিন্তু ও আমায় কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। শুধু বুঝেছিলাম ও আমায় ভালোবাসে তাই এককথায় ও গোলাপটা দোকনদারকে দিয়েছিল। কিন্তু জেনে রাখ ও আবার আসবে... হলুদ গোলাপটা নিয়ে ও আবার আসবে, ঠিক... আসবে। কেনো জানিস?

মধুমিতাঃ- কেনো?

আজাহারঃ- কারণ আমি তাকে বলেছিলাম

"আমাকে হারালে পরে খোঁজ নিও না প্রিয়
বরং কবর তৈরী হলে হলুদ গোলাপ দিও!"

আমি তোর কথা কোনোদিন ফেলিনি কিন্তু আজ  তুই লক্ষ করলি কিনা জানিনা। আজ  তোর কথা শুনে আমি সিগারেট টা ফেললাম না কেনো জানিস?
ঠিক এই কারণেই....

আর বেশিদিন নয়।  এই সিগারেট খেতে খেতে আমার কবর খোঁড়া হবে। আমার ক্যানসার হয়েছে মধুমিতা। ডাক্তার বলে দিয়েছে এ সাড়ার নয়। তাই সেদিন যে কথাটা তুই বলতে না দিয়েই শুধু শুধু রাগ করে বলেছিলিস  'ওই মেয়েটাকে ভালোবেসো যে তোমাকে হলুদ গোলাপ দিয়েছিল'।  শেষবার দেখা করে তোকে এটাও পরিস্কার করে দিলাম যে, আজাহার শুধু মধুমিতাকেই ভালোবেসেছে বাকিরা শুধুই পাঠিকা, উৎসাহী পাঠিকা।
(শরীর খারাপের মতো করে)

মধুমিতাঃ- আজাহার দা........!( ভয় পেয়ে)


🚲সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)


Comments

Popular posts from this blog

১.) অক্ষরেখা ------------সুদীপ্ত সেন  ধরো কাঁচের কাছাকাছি, আমি নিজের মতো বাঁচি আর সুযোগ পেলে লিরিক্স লিখি নির্বিকার। তুমি সাজাও উপত্যকা আর যত্নে থাকো একা। শুধু জড়িয়ে ধরার জন্যে ছিলো দিব্যি কার? এতো হোঁচট, তবু ভালো। কোনো প্রথম চুমুর বালক শুধু কপাল ছোঁয়া, ঠোঁট পায়নি মগডালের যেমন পথিক মরুভূমির, শুয়ে রোদ পোহানো কুমির সে জল ভেবেছে রোদের গায়ে মরীচিকা চমকালে। গলি-পথের পাশাপাশি। দেখা হতেই পারে, আসি? তুমি চাওনি বলেই বরফ জমে দুই মেরুর এখন কলেজ সে'তো অতীত। আমি তোমার কাছে ক্ষতি সিঁথি  সিঁদুর মেখে নিয়েই ছিলো অন্যরূপ। তবু হঠাৎ করে দেখা। তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে একা ছিলো নন্দন আর ব্যস্ত ছিলো কানের দুল। তবে নরম কোনো খামে আর যেকটা ডাকনামে আমি ডাকতে যাবো, এমন সময় উড়লো চুল... ব্যস, তফাৎ দুটি মেরুর, আজ আঁচড় দিয়ে চিরুক চিরে অক্ষরেখা টান দিয়েছে সিঁদুর দাগ। তুমি আজও যে খুব পিওর, ধরে বয়েস রাখো সিওর আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক হুম, আমি চিরকালই চেয়েছি তুই এমনই থাক। ২.) |গ্রীণ বিলডিং | তোমার জানার কারণ খুবই সোজা, তার চেয়ে সোজা চৈত্র মাসের বাজার আমার স্বভাব নিতান্ত ...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...