Skip to main content

ভিক্টোরিয়ায় কুয়াশা পড়েছে
🖋সুদীপ্ত সেন (১০.১২.১৯)
[ জগিং শেষ করে ওরা দু'জন পাশে বসেছিল।
ওরা দুজন মানে, অভিক আর মিথিলা ]
অভিকঃ- তা মন খারাপের কারণ জানতে পারি?
মিথিলাঃ- কার মনখারাপ?
অভিকঃ- কেনো, কার আবার এই যে রাণী ভিক্টোরিয়ার।
মিথিলাঃ- ও তাহলে ওকেই জিজ্ঞেস করো।
অভিকঃ- করছি তো, কিন্তু বলছে কই?
মিথিলাঃ- কেনো বলছে না, সেটা তো জানতে চাইছো না। ঠিক এই কারনেই জানো তো, ঠিক এই কারণেই....( থেমে যাবে বলবে না)
অভিকঃ- থামলে কেনো বলো। ঠিক এই কারণেই আমাদের সম্পর্কটা ভেঙে গেছিল, তাই তো?
মিথিলাঃ- জানি না
অভিকঃ- কী লাভ হলো ভেঙে গিয়ে?  তাও তো আমরা প্রতিদিন ভোরবেলা জগিং করতে আসি।
রোজ দু'বেলা ফোন করি। শুধু এটাই যে তুমি আরও ভাত বেড়ে দাও না।
মিথিলাঃ- কে বেড়ে দেয় এখন তোমায়?
অভিকঃ- নিজেই বাড়ি। পারি আমি, নিজের ভাত বেড়ে খেতে আমি পারি।
মিথিলাঃ- ওমম...পারো না ছাই। জানা আছে কত পারো। নিশ্চয় ওই ঝিলিক দি আসে।
অভিকঃ- (রেগে গিয়ে) ওই হলো তোমার দোষ। পাঁচ বছর হয়ে গেলো আমাদের ছাড়াছাড়ি তাও তুমি বদলালে না। আগেই নিজে থেকে ভেবে নেওয়া স্বভাবটা তোমার গেলো না।
আর ভেবেই ভেবেই তো....( থেমে যাবে না বলে)
মিথিলাঃ- কী বলো, ভেবে ভেবেই তো আমাদের সম্পর্কটা ভাঙলো তাই বলছিলে তো?
অভিকঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক সেটাই বলছিলাম।
তবে কি জানো তো একটা প্রবাদ আছে,  'ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন'।
দেখো না, ছাড়াছাড়িটা হয়েছে বলেই তো তোমাকে আর রান্নাতে লঙ্কা দেওয়ার সময় আমার জন্য আগে থেকে তুলে রাখতে হয় না। তুমি স্টার জলসা দেখতে পারো নির্দ্ধিধায়। আর তোমাকে আমার খবর দেখা শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হয় না।
মিথিলাঃ- হুম,থামো হয়েছে। এবার আমিও বলি শোনো...
তোমাকেও আর পাশের বাড়ির ঝিলিক দিকে চুপিচুপি দেখতে হয় না।
বাতরুমি যাওয়ার জন্য লড়াই করতে হয় না, এখন নিশ্চয় ঠিক সময় মতোই অফিস যেতে পারো?
অভিকঃ- জল খাও। অনেকটা দৌড়েছো।
মিথিলাঃ- তুমিও জল খাও। একই তো দৌড়লাম।
( জল খাওয়ার আওয়াজ হোক ভিডিও তে)
মিথিলাঃ- এই দেখি দেখি, ইস নাখে এত্তোগুলো BLACKHEADS, দাঁড়াও  তুলে দিই..
অভিকঃ- উফ, লাগে তো, ছাড়ো না
মিথিলাঃ- আচ্ছা বাবু ওহ্ সরি, আচ্ছা অভিক আমরা সত্যিই হ্যাপি ছিলাম না তাই না?
অভিকঃ- এখন আছো তো?
মিথিলাঃ- একটু সময় তো দিতে পারতে অভিক। সময় ছাড়া তোমার কাছে কিছুই চাইনি আমি জানোই তো।
তুমিই বলো কিছু চেয়েছিলাম আর?
অভিকঃ- মিথিলা, আমার কাছে সময় চাওয়া মানে আকাশের চাঁদ চাওয়ার মতো ব্যাপার তুমি তা জানতে। তুমি এটাও জানতে আমি রেডিও জকির চাকরি করি, তাও আবার এই শহরের সবচেয়ে নাম করা রেডিও স্টেশনে অথচ তুমি সময় চাইতে।
মিথিলাঃ- জানি আমি সেটা। কিন্তু....
অভিকঃ- কিন্তু কিছুই নয়, আসলে যা হবার তা তো হবেই।
দেখো না, ওই যে ভিক্টোরিয়ার উঁচুতে সুন্দর মূর্তিটা। তাকে কত্ত মানুষ দেখতে আসে but after all তাকেও এই ঘন কুয়াশায় ভিজতে হচ্ছে।
আসলে কপালের লেখন কেউ বদলাতে পারে না জানো তো?
যেটা হবার সেটা হবেই।
তবে একটা কথা কী জানো তো মিথিলা?
মিথিলাঃ- কি, বলো।
অভিকঃ- "কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন ভালোবাসা ছাড়া
আমিও তাদেরই দলে বারবার মরে যায় যারা"।
( শেষে এই গানটার কিছুটা হয়ে শেষ হবে)



Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...