কপাল
--------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)
তুমি বলো আগে। আমি শুধু শুনি। হুম তুমি বলো, শুরু করো চলো
আমি? কি বলব তবে?
হ্যাঁ তুমি। তুমি মানে সেই, যে দুমুঠো বিকেল ধার করে ছিলো জমে ছিল বলে খেদ
আজ বলে ফেলো। আজ নেই দ্বিধা, নেই কোনো বিচ্ছেদ।
কেনো গেলে ছেড়ে? কেনো চলে গেলে এভাবে তুমি?
কেনো চলে গেলে না বলে সেদিন? সব বলে ফেলো আজ। শুনি
সাক্ষ্মী থাকবে গঙ্গার তীর, জলজাহাজ আর আমি-তুমি।
তবে শোনো। ওরা বলেছিলো বিভীষিকা হতে, তুমি বলেছিলে নারী
তাই মনে হলো, ধুর...। সব ছেড়েবেড়ে স্রেফ ভালো থাকা দরকারি।
উম হু, নানা এইভাবে নয়, ক্লিয়ার করে বলো।
যতখানি বলা হলে আমিও বুঝব আর তুমি বললে। সেই ভাবে শুরু করো, চলো।
দুজনে ধরালো সিগারেট, যেন হাফ টাইমের মতো।
ছেলেটা ভীষণ নাছোড়বান্দা, মেয়েটা লুকালো ক্ষত।
আজ থাক না। এতোদিনে পরে দেখা হলো ফের
দূরে যাবো জানি।
আজ থাক না অহেতুক এই অতীতকে টানাটানি।
সেদিনও বলোনি, আজও নয়। জানি উত্তর তুমি ভুলে গেছো সেই কবেই
যদি চাও তুমি তাও..., আজকের পর দেখা হবে না, মনে রেখে দিও তবে।
দু-মুঠো বিকেল ধার করেছিলাম। বসিওনি, সেদিন দাঁড়িয়ে ছিলাম ভিক্টোরিয়ার মাঠে,
শুধু মুখোমুখি আমরা দুজনে। কথা কাটাকাটি হলো বিষাক্ত অজুহাতে।
ডাক্তার কাকু বলে দিয়েছিলো মাস দুয়েক আর। তারপর ওরা কেটে নিয়ে যাবে মাতৃত্বের দাগ,
সেদিন ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। আজ আক্ষেপ হয় খুবই সত্যি বলছি, বিশ্বাস করো।
তারপর এক বাপীর বন্ধু বললো বাইরে দেখা, ব্রেস্ট টিউমার, প্রথম স্টেজ, কেমো চললো দুটো,
ভুল হয়েছিলো না বলে সেদিন বিচ্ছেদ ডেকে দ্রুত।
ছেলেটা এবার চুপ করে গেছে। জলজাহাজের শব্দটা শুধু শোনা যাচ্ছিলো তখন
আজ কেটে গেছে বছর-দুয়েক। সিগারেট হাতে শেষ।
জীবন কারোর জন্য থামে না। আগামীর মাঘে বিয়ে
মেয়েটাও নব প্রেমিক পেয়েছে ডাক্তার হতে গিয়ে।
চলো উঠে পড়ো, আজ যেতে হবে।
যে জল স্পর্শ করেছে জাহাজ সে জল অন্য জাহাস এসে আবার ভাসাবে শরীর
তাই ভালোবেসে, ভালো থেকো বলে আমরা দুজনে সরি।

Comments
Post a Comment