Skip to main content


১.)
নিম্নচাপ
-------সুদীপ্ত সেন
মন খারাপের সঙ্গী বুঝি চায়ের কাপ?
নাকি সেই প্রেমিকা। যার দু-হাতের স্পর্শ নীল
আমার এখন চরমতম মন খারাপ
সব চাহিদার বিনাশ বোধহয় ধর্ষন..ই....!

আজ গীটারের তার ছিঁড়েছি, ইচ্ছে নেই
যার যেদিকে যাওয়ার ছিল বন্ধ সব
আমার এখন চরমতম মন খারাপ
কাল বৃষ্টি পড়ে ভরতি হলো গাছের টব।

সবাই বুঝি কোয়ারেন্টাইন স্বেচ্ছাতেয়....?
ওদের পেটের খিদের তাগিদ, চালও নেই
আমার এখন চরমতম মন খারাপ
দিন চলে যায় অন্ধ হয়ে স্পর্শ তেই...!

সব চাহিদার নিয়ম বোধহয় একরোখা। সবাই বোধহয় একইরকম দোষ করে
শাস্তি শুধু বদল ঘটায় এই তো যা। নয়তো কেনো মৃত্যু হলেই স্বর্গে যায়...?

২.)
একটা ছোটো ঘর, একটা জানলা, সেটাও ছোটো।
জানলার খুব একটা দরকার নেই তবু আছে।
খুব বৃষ্টি হলে জল থৈ থৈ করে ঘরের ভেতর।
কি? হ্যাঁ মশা আাসে তো। তবে কয়েল জ্বালালে মশা চলে যায়।

হ্যাঁ পুরো বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে মেঝে
তখন মাদুর পেতে ঘুমোতে হয়।
ওপরের টালি থেকে বৃষ্টি পড়ে ঘরের বালতি গুলো ভরে যায়।
কী? হ্যাঁ ভিজে যায় তবে ভিজে গিয়ে জ্বর আসে না।
তোমার প্রথম প্রথম কষ্ট হবে পরে সহ্য হয়ে যাবে।

ঘরের সামনে জল জমে নর্দমায়। নর্দমা উপচে গেলে ঘরে জল ঢোকে
সেই রাতে ঘুমোবো না। একটা রাত জেগে কাটানো কঠিন নয়।
তুমি থাকলে আরও জমে যাবে। একা একা একটু কেমন লাগে।
কী বলছ ?  হ্যাঁ একটু অসুবিধে তবে সহ্য হয়ে যাবে দেখো।

এগুলো বলা হয়নি, জানি ভালো আছো তুমি।
আমার ঘরে এখনও বৃষ্টি পড়ে। upsc টা পাইনি এবারও।
তোমার মেয়ে হয়েছে শুনেছি। ফুল কাকিমা বলেছিল।

🚲ডট.পেন

৩.)
বৃষ্টি দিন

হলকা নদী চলছে পথে
নিয়ম তোমার এ তল্লাটে।
খাচ্ছে হামাগুড়ির মতো
জড়িয়ে ধরার একটা ক্ষত।

হিসবে নিকেশ জমছে কিসে
বিশের কাছে ভাড়াটে বিষে।
বাধ্যতা নয় নিজই নিজের
তবুও তুমি ভাবছো কি যে?

বুঝেনি আমি তোমার টিপে
কোথায় বাধা, কাদের গ্রীপে?
কেমন ফ্লেবার, গন্ধ কেমন?
ঠিক যতটা গভীর যেমন।

এমন দিনের হিসেব সাড়া
বৃষ্টি পড়ে নিঝুম পাড়া।
সান্ধকালীন মমোর স্যুপে
গন্ধ ছড়ায় তোমার বুকের।

🚲সুদীপ্ত

৪.)
সহজ নয়
         🚲সুদীপ্ত সেন
সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয়
সব অজুহাত উগড়ে দেওয়া সহজ নয়
আমরা কেবল পাতার মতোয় দাগ খুঁজি।

সারা জীবন সত্যি বলা সহজ নয়
সারা জীবন মিথ্যে হওয়া সহজ নয়
আমরা কেবল ঘাত-প্রতিঘাত খুব বুঝি।

সারা জীবন সব মানাটা সহজ নয়
সারা জীবন হিংসে-হিসেব সহজ নয়
আমরা কঠিন সত্যি এলে মুখ বুজি।

সারা জীবন সত্য ঢাকা সহজ নয়
সারা জীবন মিথ্যে ঢাকা সহজ নয়
আমরা তবু যত্নে করি কারসাজি।

৫.)
| ডুব দিন |

প্রেম করতে করতে মাঝে মাঝে ডুব দিয়ে আসুন

কীভাবে?

এই যেমন ধরুন

১.) বেশি অনলাইন থাকার দরকার নেই আবার একান্তই যদি অনলাইন ছাড়া আপনি না থাকতে পারেন তাহলে থাকুন কিন্তু সেই বিশেষ জনের সাথে কথা বলাটা বন্ধ করে দিন

২.) সেই বিশেষ জনকে ম্যাসেজ করবেন না এমনকি ফোন কলটাও ধরা এবং করা দুটোই বন্ধ করে দিন

৩.) বেশি করে ঘুমিয়ে থাকুন

এসব কিছু কয়েকদিন নয় দীর্ঘদিনের জন্য করুন  বা ঠিক ততদিন করুন যতদিন না বুঝতে পারছেন আপনি নিজে ঠিক কতটা  তাকে চান

এটা যতদিন না বুঝবেন ততদিন একতরফা কাটবে না!

@ডট.পেন

৬.) [ ছোটো ২ টো লেখা]

১.)
মৃদু মৃদু থাকতে থাকতে আমিও ডুবে যাবো দূরে
যে গালে চুমু দিয়েছিলে
 সে চুমু সরিয়ে রেখেছি বিকেলে!

তারপর আমি প্রাক্তন আর তুমি অন্য কারোর বউ।

২.)
আমাকে ভালোবাসার আগে একবার ভালো করে ঘৃণা করো
যদি দেখো ঘৃণা করা যাচ্ছে না তবেই ভালোবেসো....

কারণ  ফিকে ভালোবাসা আমি ঠিক পছন্দ করি না!!

৭.)
মাটির প্রদীপ
-------------সুদীপ্ত সেন

সে সমস্ত দিন আমার খুব মনে পরে.....যখন
আমাদের বাড়ির উঠোনে বসে ঠাম্মি, দিদিয়া,আর ছটকি মিলে মাটির প্রদীপ গড়ছে ঠিক কালি পুজোর বেশ কয়েকটা দিন আগে।
আমি তখন বেশ ছোটো, জেম্মা তখনই পুজো করে উঠে আমায় নুকুলদানা দিয়েছে আর আমিও খেতে খেতে ঠাম্মিদের জলসায় এসেছি। ঠাম্মি বললেন দাদুভাই তোমার কিন্তু এঁটো হাত  তাই প্রদীপে হাত দিও না যেন আমিও শান্ত বালকের মতো মাথা নেড়ে বললাম বেশ হাত দেব না কিন্তু একটা শর্ত আছে। দিদিয়া বলল কি শর্ত রে? তোর আবার শর্ত কিসের এই বয়সে?

  বয়সে তুললে আমার ছোটো থেকেই খারাপ লাগতো খুব, তখন আমি বানান লিখতে শিখে গেছিলাম, ১০ এর ঘরের নামতা বলতে পারতাম তাহলে আবার ছোটো কিসের? আমি রেগে গিয়ে তিনটে প্রদীপ ভেঙে দিয়েছিলাম আর তার জন্যই আমাকে বাবা পুরো একদিন ঠাকুর ঘরে বেঁধে রেখেছিলেন। ছোটকি কেঁদেছিল, দিদিয়া কেঁদেছিল আর ঠাম্মি পুরো দিনটা কিছুই খাননি। মা কালি পুজোর আগে মামার বাড়ি যেত, মা কে আজও  সে কথা বলা হয়নি।

সেদিন বাবা আমায় বেঁধে রেখেছিল মাত্র তিনটে প্রদীপ ভেঙে দিয়েছিলাম বলে, কিন্তু এই বেঁধে রাখাটা আমার খুব কাজ করেছে জানেন?

আজ আমাদের প্রদীপ তৈরী উঠে গেছে, ঠাম্মি আর নেই, দিদিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে, ছোটকি বড়ো হয়ে গেছে, বাবার বয়স হয়েছে, এখন আমি একটা সরকারি চাকরি করি আর কালিপুজোর দিন মাটির প্রদীপ দোকান থেকে কিনে আনি কারণ সেদিন বাবা আমাকে বেঁধে রেখেছিল বলেই হয়তো আমিও মাটির প্রদীপের ঐতিহ্যটাকে বেঁধে রাখতে চাই দোকান থেকে কিনে এনে।

৮.)
বছরের শুরুতে যে আচাড় আমরা তৈরী করি তা বছরের শেষে শীত এলে আবার নতুন করে নিই শীতের রোদে , ঠিক একই ভাবে পুরনো সম্পর্ক গুলো যদি নতুন করে নেওয়া হতো তাহলে একঘেয়েমি বলে কিছু থাকতো কি?

🖋সুদীপ্ত

৯.)
| তফাৎ বুঝি |

ভিড় জমাটি রাস্তাঘাট
অল্প চেনা দমদমে
সন্ধ্যে হলেই ফুটপাতিয়া
উষ্ণ চায়ের গন্ধ নে।

বন্ধু চেনা শৈশবের
সন্ধ্যে ছিল চনমনে
খাই না পেঁয়াজ শুক্রবার
বললে বেছে দিচ্ছি নে।

তোমার থেকে প্রথমবার
পেঁয়াজ বাছার কারবারে
আমিও কেমন স্তব্ধ হয়
তোমার এমন আবদারে।

আর কিছুক্ষণ হাঁটলে হতো
এখনই অটো কি দরকার?
তফাৎ বুঝি এখন আমি
প্রেমিক এবং বন্ধুতার।

১০.)
একটা গাড়ি পুরনো হয়ে যেতে পারে
একটা বাড়ির ছাদ ভেঙে যেতে পারে
পিরিয়ড নিয়ে কবিতা লেখা যেতে পারে


একটা CAB,  CAA হয়ে যেতে পারে
কিংবা তার জন্য ট্রেন ভাঙচুর হতে পারে

রবীন্দ্রনাথ বুড়ো হয়ে মরে যেতে পারেন
অতো কড়া সিকিউরিটির মধ্যেও
নোবেল চুরি হতে পারে
কিন্তু ওখানেই ক্যামেরা বের করে ছবি তুললে
আপনাকে ফাইন দিতে হয়।

এ কী করে সম্ভব?

শুঁটিয়ে লাল করতে কেউ পারে না কেনো?
নোবেল চোর কে আবার অথোরিটিকেও

@সুদীপ্ত










Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...