Skip to main content

1.)
ফণীর জন্য
-----------

আমি তো ভাবছি ওদের কথা
সেই বকুল, মিনি, চম্পা তাদের কথা
এরা সমস্ত গরু আর গাভী
তাদের কি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে?
তাদের ফিরিয়ে আনো, গোয়ালে বেঁধে রাখো,
রাখাল শিবু টাকে মনিবের বাড়িতে থাকতে দাও
শিবু কে দাও,তার পঙ্গু বাবাকে দাও আর তার মা'কেও থাকতে দিও
ওদের শক্ত ঘর নেই, ওদের চালা
মাথায় খড়, তোমাদের ঢালাই।

আমি "জয়" দার মিম্বা কিংবা সন্দেশের কথা ভাবছি না
আমি তো ভাবছি আরও সমস্ত বিড়ালের কথা
যারা নতুন সংসার করল পিংকিদের টালির ঘরের নীচে
তারা কি থাকবে নাকি উড়ে গেল, ভেঙে গেল এক নিমেষে ?

আমি কিংশুক দার "টিং-টং" দের নিয়ে ভাবি না
আমি তো ভাবছি বাকি মুষিক গুলোর জন্য
যারা টিনের  ফাঁকে বসত গড়ে ছিল
পাঁচটা বাচ্চা হয়েছিল, চিক-চিক করে ডাকত
তারা কি টিনের সাথে উড়ে যাবে
নাকি তারা বেঁচে গেল, আগেই পালাবে?
কিন্তু কোথায় ?

তুষারকান্তি দার স্কুলের ছুটি দু-মাস
আর ওই যে মানিক কাকা, তাকে রোজ হাটে
যেতে হয়
সে হাটে না গেলে কি খাবে ?
পেট কি ভাবে চালাবে ?
তার পোয়াতি বৌমা, ছেলে বাইরে থাকে,অসুস্থ বউ, তাদের কি হবে ?

পাখিদের বোঝাবে কে?
ওরা নাকি বুঝতে পারে অশনি সংকেত
তাহলে তারা কি বেঁচে গেল, নাকি উড়ে গেল দূরে আরও দূরে ক.......ত দূরে!
ভয়ে এসে যদি তোমার বাড়িতে দাঁড়ায় ওদের থাকতে দিও
গায়ে হাত দিতে যেও না, বেশি ভালোবাসা দেখাতে যেও না
শুধু ওদের থাকতে দিও, নইলে আবার উড়ে যাবে।

আমার সমস্ত আত্মীয়স্বজন, জমির ভাগীদার
তাদের খবর কি করে পাবো
ওরা ভালো থাক, ঘর থাক, শুধু অল্প হাওয়া দিক ওদের ওখানে

নতুন প্রেমিক দুটো যারা আজ 'পুটিরামে' কচুরি খাবো বলে ঠিক করেছিল টিউশন ফাঁকি মেরে---,
তারাও যেও না প্লিস, থেকে যেও ঘরে।

আমরা বাঙালি, শেষে বিধাতা-----
আজ ভগবান-আল্লাহ্-যিশু এক হও
নতুবা থামবে না এ ফণী
সব আচঁড়ে পড়বে, ধ্বংস হবে এখনি!



2.)
কাবাব মে হাড্ডি


দুএক পাতা কবিতা শোনার পর, তোমার চোখে চোখ চলে যায় ঠিক
তুমিও কেমন তাকিয়ে ছিলে চোখে, ইচ্ছে ছিল হিসেব তুলে নিক।

আমিও তখন থমকে গিয়ে দেখি, কুর্তি সাদা, ওড়নাবিহীন গা
তুমিও কেমন দেখছ তখন আমায়, But পাশের জনের তুমিই প্রেমিকা।

হোক তাতে কি? ক্ষতির গায়ে জল। মিলিয়ে বলা কবিতা কত কঠিন
দরজা কাছে উঠেই এলে তুমি, স্বভাব তখন ক্ষুধার্ত আলপিন।

তুমিও কেমন তাকিয়ে থাকো বেশ, আমিও কেমন অবাক হয়ে একি........?
কবিতা পড়া ছুতোই ছিল আমার, ইচ্ছে ছিল তোমায় খালি দেখি.....

আবার দেখা তোমার সাথে হবে? কোনো রাস্তা ভেজা একলা তুমি একা
কলেজ স্ট্রিটের রাস্তা দিয়ে হঠাৎ..., হবেই হবে তোমার সাথে দেখা।

শুধু আজকে তুমি কথার গায়ে প্রলেপ। যদি ম্যাজিক হতো আলাদিনের প্রদীপ
ইচ্ছে ছিল, তোমার পাশের আঁতেল ছেলেটাকে  ভ্যানিস করে দেওয়া যেত যদি।

নাম না জানা শ্রীমতি না শ্রী তবুও তুমি আমার চোখে নদী
ইচ্ছে ছিল, তোমার পাশের আঁতেল ছেলেটাকে ভ্যানিস করে দেওয়া যেত যদি।


3.)
অটোচালক

পেরিয়ে নিয়ে যায় এসব শহরে, নতুন পথ চিনে চলছে দৌড়
তোমার আলো এসে পড়ল হঠাৎই, পেশায় পেট চলে অটোর জোর।

শহরে নতুন এক আমিও বোকা-বোবা, তার ওপরে রাস্তা কই?
পেরিয়ে থেমে থেমে গিয়ার দেবে চলি, নতুন অটো হাত, পোক্ত নই।

তবুও চলছি পাশের পাড়া দিয়ে, মিলিয়ে রাখা আছে কুর্তী তোর
সেদিন দেখা ওই তোরই কুর্তীটা, আমার চোখ তাই ড্যাম শিওর।

আমার পেট চলে অটোর চলা দিয়ে, আমার চোখ থাকে কার ওপর
সেদিন দেখা ওই কুর্তী পড়া মেয়ে, হচ্ছে আজকে খুব ঠাওর।

তবুও ফাঁকা কই কে যেন ছিল সাথে, আমার সাথে ছিল যাত্রী ভীড়
তবুও ফের হোক, অন্য দিন হোক তোমার সাথে কথা নদীর তীর।

4.)
ভেজাপথ

রাত নেমেছে রাজপথের ওই আস্তিনে
কোন পথে আজ হাঁটব এই রাত চিনে।

নীল শাড়িটা হঠাৎ ভিজে বৃষ্টিতে
হালকা দুটো আলোর ছটা দৃষ্টিতে।

হলুদ কালো ট্যাক্সি চলে শূন্য দিক
তোমার আঙুল সময় নিয়ে আমায় নিক।

হাঁটছি কেবল ভিজল শাড়ি, বৃষ্টি, গা
চুমুর হিসেব বন্ধ দোকান কার কি'বা।

আগলে ধরে কাছেই এনে ঠোঁট চাওয়া
ঠোঁটের মাঝে বৃষ্টি এলো আর হাওয়া।

সেই হাওয়াতেই ফিরব বাড়ি, আজ না, থাক।
বৃষ্টি ভিজে শাড়ির আঁচল মুর্ছা যাক....

একটু কাছে,আরও একটু, ভাঙছি কীসে?
তোমার বুকের ক্লিভেজ চেনার এই তো হিসেব।

















Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...