Skip to main content

দ্বাদশ সংখ্যা

১.)
--------------বসন্ত ও বৃষ্টি---------------
বসন্ত এক লাজুক ছেলে, বৃষ্টি ছিল বান্ধবী
শান্ত ছেলে বসন্ত তাও বৃষ্টি খুবই তান্ডবী।
মধ্যবয়স দুজন তারা, ছুটি পড়েছে পরীক্ষার
HS শেষ এই বছরই এখন আবির অপেক্ষা।
ফুল ফুটেছে চতুর্দিকে, পলাশ তবু গন্ধহীন
রাতের শেষে বৃষ্টি এসে মিটিয়ে যেত গন্ধঋণ।
রোদ তবু আজ লজ্জা পাবে তাই ফোটেনি বসন্তে
বসন্তে তাই বৃষ্টি আসে মনখারাপের সীমান্তে।
ঠিক বয়সে ঠিকরে পড়ে পাড়ার তুতো বান্ধবী
বসন্ত কি বুঝতে পারে বৃষ্টি ভীষণ তান্ডবী?
এই বয়সেই প্রেম জমে যায়, সব জমে ক্ষীর বন্ধুতা
বসন্ত কি বুনতে জানে ভালোবাসার বিন্দুটা?
নাকি শুধুই বন্ধু ভাবে, পাড়ার মেয়ে বৃষ্টিকে
মন কি মানে এই বসন্তে বৃষ্টি ভেজা সৃষ্টিকে?
কি চলছে মনের ভেতর, উজাড় করে বলুক না
বসন্ত তাও মানতে রাজি এইরকমই চলুক না---,
তাই বসন্ত  মনকে বোঝায় এই কথাটা মন্দ নয়
প্রেমিকার চেয়েও বান্ধবীরাই  চরমতম সত্যি হয়।
🚲ডট.পেন
২.)
| ভরসা এটাই |
নীল চুড়িদার,রঙ করা চুল, গোলাপি ঠোঁটের মেয়ে
ঘুমভাঙা মন হাতরে নিল তোর মুঠোফোন।
বাজছে তখন তোর কলেজের টিফিন টাইম
দাঁড়িয়ে ছিলাম,আসলিনা তুই, জং ধরা কোণ।
কোণটাতে তুই আগের দিনে দাঁড়িয়ে ছিলি
আর ছিল তোর বান্ধবী সেই, তোরাই দুজন কাল কলেজে।
আজ ফাঁকা ক্লাস। স্যার, কোলাহল সবই আছে
তবুও বড়োই ফাঁকাই লাগে আমার পাশে।
আজ কি হলো, খবর নেব সেইখানে রোজ
যেইখানে রোজ ফুচকা খেতাম। মুখ মোছালি
কিংবা, সেইখানে যাই? যেখানটাতে কম পরিসর
সেই খোলা চুল। প্রথম আলাপ। খবর দিলি।
আজ তুমি কই? এমন সময়। মৌন মিছিল...
সেই খোলা চুল, খামখেয়ালা সেই মেয়েটাই
ব্যানার হাতে, রক্ত শহীদ,চুপ সাইক্লোন.....
ভরসা পেলাম। মোর প্রেমিকাও মিছিলে বেরোই!
তাই ক্লাসে কাল, কপাল চুমু, আদর দেব জাতিয়তার
ভীষণ খুশি, খামখেয়ালা সেই মেয়েটাও মিছিল পথে, "সুংযুক্তা"!
@ডট.পেন
৩)
TIKTOK
------------🚲ডট.পেন
টিকটক করে থাকে ওপাড়ার পল্টু
টিকটকে পপুলার ফেল করা মন্টু
টিকটকে টুকুটুকে শাড়ি পরে বৌদি
এমনিতে নাইটিতে চলে যায় দিব্যি।
টিকটকে চোখ মারে শিলাদির ভাইটা
টিকটকে ডেকে ওঠে মনাদের গাইটা।
টিকটকে হাত কাটে বান্ধবী বর্ষা
টিকটকে কীভাবে কালো ছেলে ফর্সা?
টিকটকে আরও কিছু হয়ে থাকে বাপরে
টিকটকে কেঁদে ফেলে নিজে নিজে থাপড়ে।
পাড়াতুতো ভাইবোন টিকটকে চলছে
ক্লাবের দাদারা সেটা হাসি ঠোঁটে বলছে।
টিকটকে চটপট, টিকটকে গায়িকা
টিকটক ছিল বলে বেঁটে মেয়ে নায়িকা।
টিকটকে ফুটফুটে কত প্রেম গড়ছে
টিকটকে কেঁদে দিয়ে বহু মন গলছে।
আঁতলেমি টিকটক, টিকটক পাদলেও
হয়ে যেত টিকটক প্যান্ট পরে হাগলেও।
৪)
এভারেস্ট একটা চোর
--------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
এভারেস্ট আমার কাছে ঋণী
কারণ ও তোমায় ফেরাতে পারেনি।
তাই আজও যারা আমাকে ভালোবাসো বলে
দাবী করো
তাদের আমি ওখানে পাঠাতে চাই
বলতে চাই, খবর নিও সঞ্চয়িতার
যদি খোঁজ পাও তো ভালো
নইলে তোমরাও পরাজিত হলে
পাহাড়ের মতো।
পাহাড়ও ফেরাতে পারেনি জানো,  সঞ্চয়িতাকে।
তাই নারী দিবসে এভারেস্ট একটা চোর
আমার কাছে
আর এরপর যদি আপনি আবার প্রেম নিবেদন করেন ,তাহলে আপনি কোনো নারীই নন,
যন্ত্র।
৫.)
জাহাজের পিরিত জলে
---------------------ডট.পেন
ধুলোতে বোঝাপড়া স্মৃতি
আলোতে পুড়ে খেল গা
শহরে নিভে যায় যত
ক্লান্তি হেঁটে বোঝে পা!
তবু কি মন হয় গতি
তুমি তো জানো সবই তা
ওরা তো ফিরেছে অতীতে
হাতরে ফিরে প্রেমিকা।
কত কি রঙ প্রজাপতি
গাইছে গীটারে,বিয়ারে
শহরে একটা জাহাজে
পিরিতি জলতে বাহারে।
@সুদীপ্ত সেন
৬.)
প্রতিটি মানুষ প্রতিটি মানুষকে ভুলে যাবে।
তোমার বন্ধুরা, তোমরা বান্ধবীরা, বোন,দিদি,ভাই সবাই। তবে এগুলো সবই ফেসবুক তুতো বা দূরের বা পাড়াতুতো।
লিখতে লিখতে ক্লান্ত হওয়ার পর, পাঁচটা বৃষ্টির মতো ম্যাসজ গুলো থেমে যাওয়ার পর আর তোমার হাসি,ঠোঁট,চোখ ইত্যাদি ভালোলাগার পর সবাই ভুলে যাবে কিছুদিন বিরতি হলে।
কারোর কাছে ঋণি না হয়ে সবাইকে ঋণী করে তুমি যেতে পারো তাহলে সেই ভুলে যাওয়া মানুষ গুলোই কোনো বিষাক্ত গরমে কলেজ থেকে ফিরে বা খুব বিরক্তকর দিনের পরে একটু বিশ্রাম নিতে নিতে তোমার কথা ভাববে।
মা, আমি তোমার কাছে ছাড়া আর কারোর কাছে সত্যি নই কারণ আমার দরকার নেই।
৭.)
মৃদু মৃদু জ্বলে থাকা পৃথিবীর কাছে
একটু চুরুট জ্বালিয়ে দাও
যে তোমাকে মনে করাবে বন্ধুদের কাছে
যাদের তুমি ফ্যান ভেবে ভুল করেছিলে।
আর তোমার সেই পছন্দ হাওয়া মেয়েটি
তোমাকে বন্ধু সাজিয়ে প্রেমিকার আগে 'অ' বসিয়ে চলে গেল।
সেই রাতে একসাথে চারটে কবিতা লিখেছিলে
আর উৎসর্গ করেছিলে পৃথিবীর সমস্ত জোনাকিকে
তুমি আজ বরং তাদের জন্য লেখ
যারা তোমায় মনে রাখবে,
মনে রাখবে তোমার চুরুটের ধোঁয়া।
আর কোনো আধফোটা মেয়ে হালকা ঠোঁটে
হেসে উঠবে এটা জেনে, যে---

"কোনো চুরুট মুখে বিগড়ে যাওয়া ছেলে
জানে রাত খুশি হয় চাঁদকে খুঁজে পেলে!"


৮.)
#আলোকলতা'র গর্ভপাতের পর
-------------------সুদীপ্ত সেন
গায়ে তোর নাম লিখে যাবো
ভেবেছিল সেই পিতামাতা।
তাই তারা কাছে আসে রোজ
শরীরে ভালোবাসা পাতা।
তবু তাও গুমরয় মেঘ
দিন গেলে ফিরে যেতে চায়
কি এমন ঘটে গেল তাদের
পাশে নেই ঘুম বিছানায়।
একদিন ফিরে গেল মেয়ে
মন বসে ভাঙা শশ্মানে।
ছেলে বলে কেন গেলে তুমি
উত্তরে ভালো থাকা নেই।
দমকানো হাওয়া এসে বলে
তুমি ছিলে, পেয়েছিলে কাকে
ও'তো আগে দুমরানো ছিল
ভালোবেসে ছিল আগে যাকে।
তাই পরে ঠিক হলো তারা
নাম খানা ফেলে পিতামাতা

এটা তো তুমি চেয়েছিলে, আমি চাই--
আলোকের গায়ে দিও লতা।










Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...