Skip to main content
এই ছেলেটা ভেলভেলে টা
===================সুদীপ্ত সেন
১.

বিকেলবেলা গ্রীষ্মছাদে ঘুড়ি ওড়াত সেই  ছেলেটা
সকালবেলা সাইকেলে রোজ পড়তে আসত আমার পাড়ায়
ওই আমার থেকে দু-দশ বাড়ি পরে ওর বাড়ি-ছাদ
উল্টো দিকের একটা মাঠে, মাঝে মাঝেই ঘুরতে যেতাম

হুম, কাছ থেকে আজ দেখব বলেই, এই আশাতেই
দেখতে দেখতে হঠাৎ করে খবর পেলাম
ওর ক্লাসটা আমার মতোই দশম শ্রেণী।
আমিও এবার সেইখানে রোজ টিউশনে যাই।

বরাবরই অঙ্কতে তো ভালোই ছিলাম, তবুও কেন?
বললে বাবা উড়িয়ে দিলাম মিথ্যে বলে,
বীজগণিতটা ভীষণ কঠিন মাঝে মাঝেই থমকে দাঁড়ায়
যেরম দাঁড়ায় ওকেও দেখে আকস্মিকে পথের দেখায়।

২.)

প্রত্যেকদিন আসতনা সে, মাঝেমাঝে কোথায় যেত?
ইচ্ছে হতো খুঁজব তাকে কোথায় হারায়।
বিজলি বাতি নিভত ঘরে, জ্বলল যখন লন্ঠনেরা
ইচ্ছে হতো জোনাকিটাকে বার্তা দেব ওর ঘরে যা।

ইচ্ছে হতো অনেক কিছু যেমন ধরো ঘুরতে যাওয়ার
কিংবা ধরো নদীর ধারে অথবা ওই অতশীদের ফুলের বাগান
কিংবা দুজন দাঁড়িয়ে থেকে অন্য পাড়ায় ফুচকা খাবো
তার চেয়ে বেশি ইচ্ছে হতো, আলাপ হওয়ার তোমার-আমার।

একদিন ওই হঠাৎ করে, ছেলের ঠোঁটে ধোঁয়ার হিসেব
উড়িয়ে দিচ্ছে গোল পাকিয়ে রিঙের মতো।
নিজের থেকে, কেমন যেন রাগ হয়েছে ছেলের ওপর
কিন্তু আবার ভালোও লাগে যখন তুমি ছাড়ছ ধুমো

৩.)

খুব ইচ্ছে আজ বলবই অনেক কথা তোমার সাথে
বলেই দেব, অনেক বেশি ফাঁট বেরে যায় ধুমোই তোমার
এমনিতে তো ক্যাবলা লাগে,এসব ভেবেই টিউশনে আজ
যেতে গিয়েই ধাক্কা লাগে তার সাথে, ভীষণ রকম।

ছড়িয়ে গেল বইপত্তর মেঝের ওপর, এক নিমেষে
ক্যাবলা ছেলে থমকে গেছে, ঘুছিয়ে দেব? হালকা হেসে
এটাই বোধহয় প্রথম আলাপ তোমার সাথে আমার চোখের
গুছিয়ে দিল বইপত্তর, বলল চলো। দেখিনি, সরি।

বুঝতে পারি, ছেলেটা ভীষণ ভদ্র অনেক আমার থেকেও
অন্য ছেলে হলে সপাট একটা সাঁটিয়ে দিতাম ছেলের গালে
বুঝিয়ে দিতাম, ঢাক্কা মারা, যদিও সে দোষ আমরই ছিল
ধাক্কা হতোই মনটা হঠাৎ ওরমভাবে হালকা হলে।

৪.)
এবার থেকে হাসত ছেলে, অনেক পরে বলত কথা
বুঝিয়ে দিত সেই চাহনি, মাঝেমাঝেই চোখের তাগিদ।
আজকে হঠাৎ ডাকলো কেন? বলল কেন ওরম ভাবে?
কি দেখ গো? যখন আমি ঘুরি উড়ায় আমার ছাদে।

চমকে গেলাম আজকে আমি ভীষণ রকম
ওরেব্বাস, কি বলব, না কিছু না ওই আরকি
ছেলে তখন হাসলো কেবল, বলল জানি, সবই বুঝি
পালিয়ে বাঁচি, রাস্তা ছাড়ো, যেতে হবে আজকে আমায়।

বুঝতে পারি, আর হবেনা এইভাবে রোজ আলগোছে আর।
আজকে হঠাৎ বন্ধু অনেক তোমার সাথে আমার বেশি
পেরিয়ে গেছে দশম শ্রেণী,দ্বাদশ এখন তোমার-আমার।
ক্যাবলা,তোমায় চরমতম মিষ্টি লাগে ধোঁয়ার কাছে।

সত্যি,তোমায় চরমতম মিষ্টি লাগে ধোঁয়ার কাছে।


Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...