Skip to main content

সপ্তম, অষ্টম,নবম সংখ্যা

সুদীপ্ত-র সপ্তম একক কবিতা ব্লগ সংকলন
                 [ জলছবি ]


প্রচ্ছদ ছবি :- ফেসবুক থেকে সংগ্রহ
লেখা :- সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)

             ----------------
উৎসর্গ :- সংকলনটি পাহাড়ের মানুষদের উৎসর্গ করলাম।
               ......... -........
                 সূচীপাতা

১.আমি ট্রেনে আর ওরা পাহাড়ের লোক

২.অনেক রাতের শহর

৩.শান্তির ধাবা:- সমাধি

৪.কি ঠিক তো

৫.সাদাটে ভাবনা

৬.এ--এই যা, রিপোর্ট পরে গেছে

৭.আমার কাছে এসব মানে

          ----------------------

১.আমি ট্রেনে আর ওরা পাহাড়ের লোক
--------------------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)

কত আঁকিবু্ঁকি কাটে ট্রেন যেমন কাটছে জীবন
ওরা কত কিছু ফেলে চলে যেভাবে সরে সময়
কত দিন কত রাত পেরিয়ে চাকার গতি চলে
দূরে পাহাড় দেখেছি কতবার সে ক্লান্ত শরীরে ঘুমোয়।

বেশ কিছু ছেলেমানুষের দল ওরা তো ট্রেন খুব বেশি পায়না
তাই যখনই পাবে ডুবে যাবে শরীর পাশের জলে
মুচকি হাসি তারা চাকার কাছে দিল আর হাত দুটো টা টা করে
তারা জানালা পেরয় একটার পর একটা, কে জানি কী বলে?

ওদের ছাউনির ঘর আর সাজানো টালির ছাদ
ওরা বন থেকে নিল কাঠ আর কাঁধেতে পান্তা ভাত
ওরা হিংসা বোঝে না, বোধহয় বোঝেনা কারসাজি
তাই ট্রেন দেখে টা টা দেয়,রাখে পাহাড়ের সাথে বাজি।


২.  | অনেক রাতের শহর |
--------------------সুদীপ্ত সেন
যখন শহর শান্ত হয়, আওয়াজ গাড়ির শুনছে কান
তখন একটা জোনাকি জ্বলে আর একটা পোকাও মূল্যবান
গাড়ির চাকা দৌড়ে চলে, পাশ কাটিয়ে
ওভারটেক
ল্যাম্পপোস্টরা একলা জ্বলে,বন্ধ তখন চায়ের ঠেক
একটা পাগল করছে হাসি তার হাসিতে আর্তনাদ
শহর তখন একলা কাঁদে, দৌড়ে চলা বাকিরা বাদ
রাত্রি যত কালো হবে, শুকিয়ে যাবে শব্দ সব
একলা শহর তখন কাঁদে বাকিরা সবাই দারুণ নিরব!!



  ৩.     | শান্তির ধাবা:- সমাধি  |
----------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)

আমার স্টোরেজে আছে কিছু ভুল আর ভুল করা মানুষ
আজ রবাট এনেছি মিটিয়ে দেব কিংবা বেঁধে উড়িয়ে দেব ফানুস
বলো এবার কী বলছো তুমি?
এমনটা নই যা বলবে মেনে নেব বা মানতে হবে
সে ফিরবে বা ফিরতে পারে তবে জানিনা সেটা কবে
কিছু লোক ভেবে গেছে ভুল বা ভুল ভাবনাই চলতি
ফিরবেই সৈকত ফিরবেই আবার খেলব একসাথে তাক রেখে গুলতি।
পাগলা নদীর ধার দিয়ে বয়ে যাবে জল, কুলকুল বারি
গরমের দিন মাটির হাঁড়িতে ঠান্ডা থাকা শান্তি নেবে তালের তারি
আমরা চলব, খেলব, করব প্যাটেল সৈকত ফিরবেই
জেনো ফিরবেই সৈকত আর দূরে সূর্য ডুবে যাবে,
ছেলের দল বাড়ি ফিরছে, ফিরছে হাবল,গঙ্গা,লতিব সবাই
সৈকত আর আমিও চললাম প্যাটেল চলছে...
কিছুটা রেস্ট নেমে শান্তির ধাবাই।



৪.      ! কি ঠিক তো ?
-------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)

যেখানে নিয়ম সম্পর্কের ভাঁজ
সেখানে পা বাড়ালেই বিপদ,
যেখানে আলো জোনাকি পোকার সাথে ঝ্যামেলা করে
সেখানে যাবো না বলে দিই সপাট,
রাস্তার ভিড় থেকে সরে আসে ভিক্ষুক
যখন পায়না খাবার আর চলে না এক টাকা
সেখানে দ্বিধাবোধ করে ভিক্ষা দিতে, মনে হয় সব ফাঁকা।
তবু ল্যাম্পপোস্ট জ্বলে থাকে সন্ধ্যে থেকে সকাল
এভাবেই কাটছে সমাজ কাটছে নতুন সূর্য দেখা
পাখা ঘুরে যায় জ্বলে যায় বাতি বিল পুড়ে বড্ড একা
এ লেখার মানে নেই কিছুই, মানে তো ধর্মে থাকে
যেখানে হাতরে খোঁজা হয় কে কোন পশুর মাংস রাখে।


৫.      | সাদাটে ভাবনা |
------------------------সুদীপ্ত সেন
চটে গেছে দেওয়ালের রঙ চটে গেছে সময়ের সময়
আজ তালা পড়ে গেছে দরজায় জেনে গেছে  যেতে হবে  বোধহয়।

বাড়ীর বাইরে থাকা দুজনে কখনও গল্প করে কোনোদিন,
কখনও করে না কিন্তু প্রতিদিন আসে তবু প্রতিদিন তারা হাসেনা।

আজ খায়নি না আসলে দেয়নি বলাই ভালো,
রাস্তার কুকুরের দিকে চেয়ে থেকে বলে সে'তো তাদের থেকেও খারাপ, কী বলো?

এভাবেই কাটে দিন কাটে রাত কাটে গোনা অনাহারের
হয়তো কেও আগে বা কেও পরে এটাই এখন ভাবনা কীভাবে কাটবে আরও একাকী পরে!



৬. এ--এই যা, রিপোর্ট পরে গেছে!
---------------------ডট.পেন

দূরে গেলে ছোটো হয় শহর, ছোটো হয় হাওয়া আর
কাছে এলে মিশেছে মাটিতে, সব হয় পাওয়া আর
দুঃখ দিতে চাই না যখন জলে কাগজের নৌকো ভাসাই  আর
মন খারাপের আঙিনায় কখনও গীটার বাজাই
বানান ভুল হলে লাইক-কমেন্ট কম পরে মন খারাপ,
আর হ্যাঁ, জানো এখানে...
লেখাই রিপোর্ট পড়ে, কঠিন লিখলে ভুল হয় গুন
নিজেকে মনে হয় অতিব ছোটো যতটা পৃথিবী থেকে নেপচুন!



৭.আমার কাছে এসব মানে
----------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)

 আমার কাছে পৃথিবী মানে একটা গোল
 আমার কাছে বাতাস মানে নিঃস্ব হওয়া
 আমার কাছে ঝড় মানে শরীর খারাপ
 আমার কাছে সমুদ্র টা অনেক পাওয়া।

আমার কাছে রাত্রি মানে বালির মতো
আমার কাছে তারা মানে স্বচ্ছ  আলো
আমার কাছে জোনাকি পোকা প্রেমের শরীর
আমার কাছে ঝিঁ-ঝিঁ পোকা চরম ভালো।

আমার কাছে সাদা মানে পবিত্রতা
আমারা কাছে সবুজ মানে ভালোবাসা
আমার কাছে গেরুয়া মানে নিরবতা
আমার কাছে ধর্ম মানে বিষাক্ততা।

            ♦♦♦♦♦



ধোঁয়ার কাছে প্রতিশ্রুতি কঠিন
       কারন ধোঁয়া উড়বে বলেই মানে
আমার চুরুট ধোঁয়ার থেকে দূরে
         এটা কেবল ছবি তুলতে জানে

     ♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦

সুদীপ্ত-র নবম একক কবিতা ব্লগ সংকলন
                 [ আজকাল ]


উৎসর্গ :- সংকলনটি পাহাড়ের মানুষদের উৎসর্গ করলাম।
               ......... -..........


জানি আলোদের রঙ নেই ঠিকঠাক,
তারা দর পেলে আলো হয়ে ওঠে!!
              -----------

১.)
ছেলের ফ্ল্যাট
-----------------------      
           
টিকিট এলো কুয়েত যাবার, আজকে ফ্লাইট রাত্রিবেলার
হিসেব হলো জামাকাপড়ের, সুটকেসে প্যাক রাতের খাবার।

বাবুর ওই ছোট্টোবেলার সোয়েটারটা নিতে হবে,
একটা মাত্র নাতি আমাদের ইচ্ছে ছিল দেখব কবে।

শেষমেশ তবে মিলবে দেখা সাহেব নাকি বাঙালি বাবু?
ছেলে আমার বিয়ে করেছে মেমের প্রেমে হয়েছে কাবু।

পৌঁছলাম ঠিক সকাল বেলা, সকাল মানে বেলায় তখন
এখানে কিন্তু ধূপ জ্বলে না বেড রুমেতে রাত্রি এখন।

খোকা কিন্তু বেরিয়ে এলো, বাবা তুমি কেমন আছো?
মায়ের কাছে আগের মতোই দাঁত মেজে সেই আঁচল মুছো।

মায়ের এখন বয়েস হয়েছে কালো ফ্রেমের চশমা আটা
বউমা তখন বেরিয়ে এলো ঘুমের চোখেই বেসিনে হাঁটা।

কেমন আছো বললো বাবা, বউমা তখন বললো ভালো,
বলল কিন্তু বউমা হঠাৎ, মা তোমার ছেলের ফ্ল্যাটটা ভালো?

মা বললো হালকা হেসে, সবটা ভালো রঙটা যদি হলুদ হতো
খোকার তো হলুদ প্রিয়, পূজোয় জামা হলুদ নিতো।

বউমা বলে ধেৎ তেরিকি হলুদ আবার ফ্ল্যাটের রঙ
তুমিও না মা কেমন যেন, তোমার ছেলের মতোই ঢং।

এইতো বাবুর ঘুম ভেঙেছে ঠাম্মি কিন্তু চেনেনা সে
বউমা কিন্তু বলে দিলনা নতুন দুজন কারা কে।

ঠাকুর দাদার হাত চলে যায় ধরতে নাতির দৌড়ানো
মোমের বলা কাম হেয়ারে মোমের কাছেই পৌঁছনো।

এভাবে কিন্তু কাটলো তাদের কুয়েত সফর ছেলের ফ্ল্যাট
ছোটো বেলার সোয়েটারটা দেখেই বলে বৌমা, ধাৎ!

এসব কি আর চলে আমার ছেলের অনেক আছে,
ছেলে বললো জমিয়ে রাখো এই সোয়েটার তোমার কাছে।

ছেলে বললো আর কিছু দিন থাকবেনা মা আমার কাছে?
চোখের জলে বললো ছেলে নাস্তানাবুদ হয়েই বাঁচে।

২.)
   | পৃথিবীর আবহাওয়া |
 --------------------------

বাতি জ্বলে থাকে ঘরে, অন্ধকার পৃথিবীর গায়ে
মুছে দিতে পারে সব তারাদের শুকনো বিচারে

মিছি মিছি কত দূর, কত প্রাণ পড়ে কুঠারির পায়ে
নির্ভীক হয়ে থাকে তবু, আমাদের প্রমোদ আচারে।

তারা খোসে পড়ে কোথাও, খসে পড়ে পৃথিবীর খোঁজ!
তুমি আমি কিছু নই, এরকম অনেকেই রোজ!!

কত পাতা, কত নীড়, কত পাখিদের চেনা-জানা
পৃথিবী জেনে গেছে, তার সবুজ তো ফিরবেনা,

পাখী সব ভুলে যেতে পারে? খুব পছন্দ ফল গুলো?
বেশি আধুনিক হতে গিয়ে শেষে বাঁচাটাই কেড়ে নিলো!!

 ৩.)
 শুক্রাণু ঠিক পারপায়
--------------------------

নিয়মের কাঁচ ঝাপসা হয়েছে আজকে
দোষের আঙুল অল্পেতে আজ তরপায়
কতরকমের আচার-বিচার নকশা
ডিম্বানু ভোগে শুক্রাণু ঠিক পার পায়!

সব রকমের চেষ্টার ফল বিফলে
জ্যোতিষ দেখাল হস্তরেখার স্পর্ধা
আজও এদেশে সত্যি মানতে ভয় পায়
নারীরা আসলে হয়না কিন্তু বন্ধ্যা!!

৪.)
বিভেদের রঙ বিন্দু
--------------------

কড়া নেড়েছিল তারা, কড়া নেড়েছিল দরজার
ছুঁয়ে দিয়েছিল জল আর  প্রার্থনা শুনে গির্জার।

এরপর কত প্রশ্ন, কত গেরুয়ার রঙ ফিকে,
কত রঙ রঙিনের কার্তুজ আর পতাকা দিকে দিকে।

 বলে গেল তুমি আল্লার আর কেউ বলে গেল হিন্দু
আজ তোমাদের এতো প্রশ্নে বিভেদের রঙ বিন্দু!

 ৫.)
 আজকাল
------------------

ওদের গুটি গুটি পা ওদের সাতনরী হার
ওদের পাড়ায় টিভি নেই, শুনছে বেতার

ওরাতো টিভির পর্দাই দেখছে ভীম
ওরাতো ওসব পায়না আদখানা আছে ডিম

ওদের চিকেন মোমো, বিকেলে ঘুরতে বেরোয়
ওদের ওখানে দেখা, কত শখ-আহ্লাদ পেরোয়

ওদের মুখের এঁটো আঁচল মুছে দেয়
ওরা দেখছে তখন, কি আর করা যায়

ওরা তো নিচ্ছে ব্যাগ, শিশু সাহিত্য অ্যাকাডেমি
ওরা তো সেল্ফি ফুটেজে গড়ছে সমাজপ্রেমী!!

 
 ৬.)
        | স্বপ্নভঙ্গ |
__________________

আমারও ছিল বয়স অল্প থাকা
নির্ভীক হয়ে পথঘাট পার হতাম
বাবার হাতেই তাধিন-নাধিন করে
প্রতিদিন ব্যাগে স্কুল ফিরে যেতাম।

আমারও কিন্তু বন্ধু ছিল অনেক
মন খারাপে মেঘের কথা শুনি
আমারও কিন্তু সাইকেল চালা হতো
রাতের আঁধারে সপ্তষী গুলো গুনি।

আমারও কিন্তু স্কুল ছুটি গুলো
তোমার মতোই পার্কে কেটে যায়
হাট তলাতে রথের মেলা হলে
লাল বেলুনটাই আমার কিন্তু চাই।

কোথায় গেল ওসব কিছু এক নিমিষে
আর আমায় ডাকছে না তো কেউ
মাধ্যমিক তো এখনও দেওয়া হয়নি
শূন্য আজকে জানালার কাছেতেও।

ফুরিয়ে গেছে, শুধাতে গেলাম যখন
সপাটে একটা উত্তর আর নয়,তোমার বিয়ে।
বইপত্র গুছিয়ে রাখা হয়েছে,
বসলাম আমি মায়ের কাছে গিয়ে।

মাধ্যমিক আমার দেওয়া হয়নি আজও
সেদিন যখন বোনের ফোন এলো
বোনের সাথে এমন করোনা যেন
মাকে বললাম বাবাকে এবার বোলো!

৭.)
        | শক্ত স্বার্থহীন |
------------------------

এক কাপ চা কিচ্ছু বুঝতে পারে না
যদি সেই কাপটাই পথের কাছে দেই
এক কাপ চা ওদের কাছে অনেক
দু-পয়সাও তাদের কাছে নেই।

তুমি ফেলে দাও সেই কাপটাই যখন
অট্টালিকার উপর তলা থেকে
অট্টালিকাও কিছুই বুঝতে পারেনা
পথে পরে থাকা ক্ষুধার্ত গুলো দেখে।

এভাবে চলছে সমাজ আর এভাবে চলছে দিন!
প্রত্যেকদিন খোঁজ করে যায় বাঁচা আর বেঁচে থাকাটাই শক্ত স্বার্থহীন!

৮.)
      রিকশাওয়ালা'র  ঘাম
---------------------------

হিসেবের রঙ ফিকে হয়ে গেছে জানি
ঝুল জমা রঙে খাতার পাতারা সাদা

লেখার ওপর লেখা চেপে থাকা মানি
খেটে খেতে গিয়ে জেনে গেছে তারা গাধা।

তবু তারা পরে নিয়মের হাত ঘড়ি
এছাড়া আর কী উপায় আছে বলো

আমরা কিন্তু ট্যাক্সি না গেলে চরি
কাকু না বলে উহ্য করেই চলো।

ঠিক ঠিকানায় বকশিশ নিয়ে জল
চোখ ভিজে গিয়ে কান্নার মতো ঝরে

পেট চালাতেই পরের পাতায় চল
পেটই তোমাকে পুনরায় জোর করে!

♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦
সুদীপ্ত-র অষ্টম একক কবিতা ব্লগ সংকলন
                    [ ঘুম ]

              ----------------
১.)
হামিম বার্ড=প্রেম=হামিম বার্ড
------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)

প্রেম সে'তো হামিম বার্ডের মতো
নাইন ইনটু টেন টু দি পাওয়ার মাইনাস এইটের ফুটো হলেই যথেষ্ট!

এতোবার বলেছিলাম দীপার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই
আমি ওকে ভালোবাসি আর ও আমাকে বাসেনা,
এই তো সোজা হিসেব।

মানতে পারেনি, বলল, না আমি তোমাকে কারোর সাথে ভাগ করতে পারব না!

ভাবলাম আমি কি খাবার নাকি, নাকি সম্পত্তি?
কে জানি!
                    উত্তর
                         পাইনি

অনেক ভাবলাম, পাঁচটা লুভিন উধাও নিমিষে
             
            Decision শেষমেশ

হামিম বার্ড দেখতে ভালো হতে পারে কিন্তু ময়নার মতো কথা বলতে পারেনা!



২.)
আলস্যতা
-----------------ডট.পেন

নিছকি ভাবনার একটা পথ
তৎক্ষণাৎ এলোমেলো হয়ে যাওয়া
কিছু খাতার পাতা আর আমার পেনগুলো
নিদারুণ বিছানায় একটা আলস্যতার রেশ
কি জানি কি হলো, আমার মুঠোফোনে তোমার
ম্যাসেজ।

অনেক দিন পর তাই এত এলোমেলো আর আলস্যতার ভিড়
আর সেই ভিড় সরিয়ে তোমার দিকে চাওয়া
উমম্ না'তো ছবি কোথায়, অন্যকারোর ছবি
ম্যাসেজ ঘেঁটে দেখা গেল অনেক আগে কথা বলেছিলাম।

মাঝখানটা শূন্যের মতো আর বাকিটা ইতিহাস
যেখানে হাতরে খোঁজা হবে মাপকাঠি আর কতগুলো পুরনো স্মৃতি তৈরী করা হবে আর তারই প্রস্তুতি মাত্র।

এরমাঝে আবার একটা মাঝখান, যেখানে
আমরা হাতরাব একটা নতুন কিছু
নাম দেব ঝিনুকমালা!!
তুমি রাজি তো ?



৩.)
খোঁজ
------------------সুদীপ্ত সেন
পেন হাতরে খুঁজে নেওয়ার পর একটা মাত্র পাতা
এর পর শুধু জেনে নেওয়া হলো  লিখব কী লিখব না।

বাকিটা অন্যরকম পাতা ঝরার গল্প,
তার মাঝখানে উল্টে ফেলেছি খাতা।

এর ভাঁজে তুমি-আমি ভিজে যায় রোজ
প্রেমকে ভালোবেসে লেখা নাকি প্রেমিকার দিব্যি

এসব ভাবনা উড়ে এসে জুড়ে বসে যখন
দূর দেশে উড়ে যাওয়া পাখির করা হয় খোঁজ।



৪.)
বৃষ্টিকাল
----------------সুদীপ্ত সেন
জানালার কাঁচে জল, তার শান্ত মতো হাওয়া
জানালার দিকে তুমি আর তাকিয়ে থেকে যাওয়া

তুমি চাহনির দিকে চাও আর মলাটে বোলাও হাত
তুমি গল্পের বই পড়ো আর স্বপ্ন শীতল রাত।

দিন থেকে যায় দিনে আর খিঁচুড়ির পাতে জল,
দূরে দু-ফোটা...চেয়ে.... ওদের দেখি অস্থির কোলাহল।

আর আমার বাড়ির ছাদ তাতে জল জমে গেছে জানি,
আর দরিদ্রতার কাছে জল বড়ই অভিমানী।

ওই ভেজা শামুকের দেহ ভুল করে নেড়ে দিলে,
ওরা নালিশ তুলে রেখে খোলসে ভরে নিলে।

৫.)
ভালোবাসি বলি যদি
-----------------------ডট.পেন

ওই যে ওই মেয়েটা কুর্তি পড়ে, যার ব্রাউন চোখের গভীরে হারাই
সেই মেয়েটার নাম বলছি বেস্ট ফ্রেন্ডকে আমার পাড়ায়

সেই মেয়েটা গল্প করে, আমি রাত্রি জেগে তারাকে সাজাই
আর তার গভীর ঠোঁটে স্পর্শ আঁকার স্পর্ধা হারাই।

ওই যে সেই মেয়েটা, নাম না বলেই, ধরো উহ্য করেই লাভ ইউ বলি
তাহলে সে কি বুঝবে আমায় নাকি ফিরিয়ে দিয়ে বলবে চলি।

প্রশ্ন থাকুক আজকে এটায়, কালকে তার উত্তর নেবো
আজ আমাদের প্রেম জমে যাক চায়লে হাতের স্পর্শ দেবো।


৬.)
       সেই রাতে
------------------ডট.পেন
তোমার আমার মেশার সময় রাত
অনেক কথায় রাত পেরিয়ে ঘন
অবাধ্যতায় নিষেধ পেরই হাত
তোমার চোখেই আমার পাতা গুনো।

হিসেব তখন মিলেয়ে গেল চুলে
শরীর তখন শরীর ছুঁয়ে যায়
মধ্যেখানে পোশাক তখন ভুলে
বিছানা কিন্তু রক্ত ভেজা হয়।

তুমি তখন ক্লান্ত হয়ে গেছো
এলোমেলো ঠোঁট ছুঁয়েছি তোমার
তুমি কিন্তু তাকিয়ে তবু আছো
ক্লান্ত তবু রাত ভুলেছি ঘুমার।

তুমিও কিন্তু লজ্জা রাঙা হও
এক-দু ফোটা চোখের কোণায় জল
ক্লান্ত তবু ক্লান্ত ঠিক নও
শূন্য তখন বাইরে কোলাহল।

অনেক গভীর পৌঁছে গেল সুখ
সুখের কাছে তোমার স্তনের ঋণ
তোমার যখন আয়না দেখে মুখ
হাসল মৃদু তোমার-আমার দিন।


৭.)
     রাত্রি বদলায়
---------------------সুদীপ্ত সেন

একটা রাত কতকিছু বদলে দেয়
কত গ্রহ, কত নক্ষত্রের জ্বলন
একটা রাত কত জোনাকিরা জ্বলে
আর মেরুর দেশে রাতের রবফ গলন।

সেই রাত আজ তোমার বুকের ভেতর
রাখে প্রতিশ্রুতির বৃন্ত।
তুমি বলতে পারতে একবার
দেখতে পারতে তুমি, সে জলকি ফিরিয়ে আনতো!

আজ তোমার ভেতর আমি আর আমার ভেতর ভাঙছি
তোমায় বদলে দিয়েছে রাত্রি শুধু সেই কথাটাই ভাবছি!!










Comments

Popular posts from this blog

ছোটোবেলার সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ক্যাসেটের অপেক্ষার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মজা হচ্ছে...

তখন খুব ছোটো। বড়দার বাড়িতে তখন গুচ্ছের গানের ক্যাসেট। তাতে নচিকেতার গানে ভরা। টেপ রেকর্ডে চালিয়ে শুনতে হত। আমাদের বাড়িতেও ক্যাসেট চলত। টেপের পাশে থাকেথাকে সাজান থাকত ক্যাসেট। পরীক্ষার ছুটিতে বড়মাসির বাড়িতে গেছি বহুবার। রবিবার মাংস ভাত খেয়ে দুপুরে মাটির ঘরটাতে আমাদের ঘুম তাতে চলছে নীলাঞ্জনা, বৃদ্ধাশ্রম আরও কত....। একবার এক লিভাগর্ড বিক্রেতার কাছে অতনু বর্মনের কবিতা (পাবলুর মা ঘুমিং গেলা) গুচ্ছ ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম৷ পরে সিডি এলো, ডিভিডি এলো, তখন রিলের ক্যাসেট বদলে গেল। কিন্তু ক্যাসেট চলতেই থাকল নিজেকে বদলে নিয়ে।  তখন নতুন অ্যালবামের ঝোঁক, ভাঙা ক্যাসেটের রিল জড়িয়ে কত খেলেছি আমি আর অপ(আমার বন্ধু), তখন সংগীত শিল্পীরা টেপের ভেতর, সেইভাবে দেখা বলতে ক্যাসেটের কভারে তাঁদের কারোর কারোর ছবি থাকত। তখন তো আর ফেসবুক ছিল না। পরে মোবাইল এলো, গানের ঝাঁক এলো, চট করে কপি আর পেস্টের যুগ এলো। ঠিক যেমন ক্যাসেট বদলে গেল, নচিকেতাও বদলে গেল আসতে আসতে।  মোবাইলে তখন আলাদা আলাদা ফোল্ডার, রুপম ইসলাম, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাকটাস, শহর, অনুপম রায় ইত্যাদি। তারপর আসতে আসতে অ্যালবাম হল দৃশ্যমান মা...
  ১.) কলেজে পড়তে পড়তে কাউকে ভালোলেগে প্রেমে পড়াটা খুব সহজ দু-চারটে ক্লাস বাঙ্ক করে এদিক সেদিকে করে ঘুরে বেড়ানোটাও সহজ। সবে মাত্র ১৯-২০ বছরের এক কলেজ স্টুডেন্ট তখন বোধহয় জীবন জানলেও জীবনবোধটা জানে না তাই তার কাছে তখন সতেজ স্বপ্নে এক বুক আশা নিয়ে হাসতে হাসতে, পার্কে চুমু খেয়ে কাটানো'টা জাস্ট ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়। কলেজ ফুরিয়ে গেলে, কোনো কোনো প্রেমিকার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হলে প্রেমিকের কাছে তখন সেই ফ্যান্টাসিটা আর থাকে না তাই সেদিন হয় তাকে সুইসাইড করতে হয় নয় বলতে হয় বিয়ে করে নাও।  অথচ ততদিনে তারা একসঙ্গে  ওল্ড মঙ্কের ছিপি খুলে একটা  দ্য স্টারি নাইট দেখে নিয়েছে চকলেটের গন্ধে৷  জীবন আর জীবনবোধ এই দুই-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক বন্ধু,  জীবন মানে  zee Bangla নয়! তাই সাহস দেখিয়ে একটা দ্য স্টারি নাইট দেখার আগে, জীবনে সঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।  যাতে করে সারাজীবন নিজেদের স্বপ্ন গুলো হারিয়ে না যায়। 🚲ডট.পেন  ২.) আজ একটা অদ্ভুত এবং আশ্চর্য ছেলের কথা বলব। কেনো অদ্ভুত সেটা একটু পর বুঝতে পারবেন নিজেরাই। আমরা জী...

Santanu Majumder:আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পলিটিক্স , প্রচুর লবি

  শান্তনু মজুমদার এই নামটা অচেনা নয় সেটা এতোদিনে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে বিনোদনের ময়দানে। যে ময়দানে শান্তনু  রাজা। তাই তাঁর কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই বরং তিনি কথা বললেই চেহারা না দেখেও তাঁর কন্ঠেই সবাই তাঁকে জেনে যায়।  ১. শান্তনু মজুমদার এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিস্টদের আরেক নাম। ঠিক বললাম ? উত্তর :- নাহ্, একদমই ভুল। এন্টারটেইনমেন্টে আরও অনেকে জার্নালিস্ট আছেন। আমি কত নম্বর বা নাম এটা ঠিক জানি না তবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজম করে আমি আনন্দ পাই, এটা করতে চাই এবং আরও নতুন নতুনভাবে এন্টারটেইনমেন্ট জার্নালিজমটাকে প্রেজেন্ট করতে চাই দর্শকদের কাছে তবে তাতে আরেক নাম না অপর নাম এগুলোতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই।   ২. ইদানিং শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে।  রহস্যটা কী ? উত্তর:- ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট করি না, হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার ভাইরাল রিপোর্টার বলে ডাকছে, ভালো লাগছে। তবে সময়টাই এমন যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কনটেন্ট গুলো মানুষ পছন্দ করছে। তবে মানুষের কথাগুলোয় ভাইরাল হচ্ছে আমারটা নয়। মানুষ বলছে তাই হচ্ছে।  তবে শান্তনু কথা বললেই ভাইরাল হচ্ছে এমনটা নয়।  ৩.কের...