সুদীপ্ত-র একক কবিতা ব্লগ সংকলন
"পছন্দের ভোরে"
উৎসর্গ :- এক ঝাঁক সাদা পায়রা'দের দিলাম।
------------
| "রা":"স্বা" |

------------
যেগুলো আছে
★[১.দৃষ্টিকোণ]
★[২.উত্তর টেস্ট]
★[৩.স্কুল গন্ডী পেরিয়ে]
★[৪.উপায় কোথায়]
★[৫.ঝরাপাতা]
★[৬.রেডলাইট]
★[৭.পঙ্গু প্রতিবাদ]
★[৮.এখানে বক্তা কে?]
★[৯.সবগুলো শব]
★[১০.স্পষ্ট পার্থক্য]
★[১১.মানুষ সত্য তাহার ওপরে শূন্য]
★[১২.ইতিহাস জানেনা]
★[১৩.পতন]
★[১৪.শব্দোত্তর]
★[১৫. নিখোঁজের দেশ]
---------
১.) ♦ দৃষ্টিকোণ ♦
------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
কোর্ট থেকে ফিরে আসা কোর্টে অন্য রকম অন্যের গন্ধের গন্ধ,
নতুন কেসের মাথা ধরা স্টাডির ডায়রির পাতা ঘেঁটে রাত কাভার,
এরওপর চশমার পাওয়ার না দেখা চোখে ঘোলাটে সাদার কাছে দায়ী,
সম্পর্কে বিচ্ছেদ কচি-কাচা ছেড়ে দূরে...
ডয়ার হাতরে চুরুটের স্পর্শ আদরে,
এর মাঝে ভাগাভাগি হয়ে গেছে কিছুটা
কিছু শেখা আর শিখে যাওয়ার মাঝে এক্সপেরিমেন্ট করছে জীবন,
দু-ফোটা চোখের জল সাদা ঘোলাটে থেকেও পড়ে দৃষ্টিকোণে,
আমি কিছু ভাবিনা আর ন্যাপথলিনের গন্ধ শুঁকি,
আর.....
বাড়ীর উঠানের ঝড় পাতলা ডানায় হওয়াই মিশিয়ে দিলাম আলগোছে!!
২.) | উত্তর টেস্ট |
--------------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)
শহর বলছে নিরুপায় হয়ে গেছে
প্রতিদিন কত খুন হয়ে যায় রাস্তায়
কুকুরের বমি প্রসাদ বলছে নেদারে
বেসিনে এখানে সেই বমি পরে সস্তায়,
জানলার কাচে বৃষ্টি ফোটার আঁচড়
ছাদের কাছে কাঠবাদামের চকলেট
পাড়ার মোড়ে ধর্ষিত হলো ছাত্রি
ধর্ষন মুখে প্রাইভেট ফেরা রাত্রি
কাল সকালে খবর হচ্ছে চ্যানেলে
মিলবেনা জানি মুখোশ গুলোর গল্প
জিজ্ঞাসা তুমি উত্তর পাবে সত্যি!
রক্তে যেসব বসেছিল মাছি অল্প!!
৩.) | স্কুল গন্ডী পেরিয়ে |
---------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
টুপটাপ বৃষ্টির ফোটা, জনহীন রাস্তা
প্রাইভেট থেকে ফেরা হ্যারিকেন হাতে
আমার খুব ভালো লাগতো
ব্যাঙের ডাক,আচমকা সাপ উঠে এলো ড্রেন থেকে
রোজ যাব স্কুলে সাইকেল নিয়ে
রেশারেশি হাফ প্যান্ট হাফ জামা
ছুটি হলে খুশি হবো খুব
যেমন লেখা খুশি হয় পেয়ে গেলে কমা(,)।
এখন আর কমা পাইনা সব ফুলস্টপ
এখন আর সাদা জামা নীল প্যান্ট নেই
জানলায় দাঁড়িয়ে ওদের যেতে দেখি রোজ
আমার ক্লাস শেষ, স্কুল গন্ডী শেষ এখন কলেজ।
৪.) | উপায় কোথায় |
------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
পাগলা নদীর কাছে আমি বিকেলে দাঁড়াই
জল চলে যায় বহুদূর থেকে দূরে আরও দূরে
কিছু পাতা, খড়-কুটো,আর অনিয়মিত পিঁপড়ের শরীর
একটা কিংবা দুটো নৌকা মাছ ধরবে তাই থাকে
কিছু ছেলের দল পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলে,
আমি দেখি জলের গায়ে আর কী কী দেখা যায়?
দেখা যায় একটা ক্লান্ততা, বহনের ক্লান্ততা..
কিংবা একটা দুঃখ যেমন মত্যুর হয় অন্তর্নিহিত।
নদী হয়তো চায়না পিঁপড়ে গুলো আসুক, তার ঘরবাড়ি ভেঙে যাক,পরিবার কাঁদুক
তাই একটা আক্ষেপ নদীর কাজ করে নিশ্চয়,
কারন নদী এটা আটকাতে পারবে না কখনও, কখনই না...
কিছু জিনিস এভাবেই আটকানো যায় না
ধ্বংস,দূরে যাওয়া, ফিরানো চিঠি আর মৃত্যু!
৫.) | ঝরাপাতা |
----------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
সারাদিন মেঘলার পর হঠাৎই একটা ঝড়,
কত আম্র-মুকুল, পাতা,কাঠবাদাম ঝরে গেল,
ছাদের কাছে পাতার পিওন এসেছে
অনেক গুলো পাতা প্রায় তিরিশ টা।
একটা একটা করে পড়ে দেখলো ছাদ
স্পষ্ট ভাবে কিছু লেখা ছিলো না,
কয়েকটা কবিতা লেখা ছিল আর-
কিছু কথা যেগুলো সিকরেট।
দু-এক পিস ছবি ছিলো সাথে,
বলা ছিলো যত্ন করে রেখো।
আর তিরিশ নম্বর পাতায় লেখা ছিলোনা কিছুই...
শুধু একটা লাইন নীচের দিকে
'আমাদের ভবিষ্যৎ-র জন্য অপেক্ষা করতে হবে'!
৬.) ✋ রেডলাইট ✋
---------------------ডট.পেন
আমি মনে করি যা কিছু চলমান গাড়ী-ঘোড়া,মানুষ,কবিতা!
সবেরই ট্রাফিক আছে আর ট্রাফিক মানা উচিত।
নতুবা তুমি হয় নিয়ন্ত্রণ হারাবে বা ধাক্কা খেয়ে থেমে যাবে, সোজা হতে পারবে না।
তাই একবার থেমে যেতে হয় রেড দেখলেই
এখন যদি তোমরা বলো কবিতার আবার ট্রাফিক কী?
😃[ হা
হা ]😃
কবিতার ট্রাফিক বৃষ্টিতে ভিজে না,রোদও মাখেনা
কবিতার ট্রাফিক লেখক নিজেই!
আর রেড সিগনাল একঘেয়েমি হওয়া
আর যদি এটা হয় বা হচ্ছে তাহলে থেমে যাও।
লেখনী নামিয়ে রেখেছি হাত থেকে
পাতাদের আর চাপ দেব না বেশ কিছুদিন
দুটো কবিতা না'না,লেখা এখনও অপ্রকাশিত
আসলে আমি লেখাই বলি,কারন-
আমি তো কেবল শব্দ বসাই
তোমরাই ভালোবেসে কবিতা বলো!
৭.) | পঙ্গু প্রতিবাদ |
-----------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)
সময় বোঝেনা হিংস্রতার পরিবেশ
সময় বোঝেনা গোলা বারুদের হিসেব
সময় চলছে নিয়ম ছাড়ায় বাঁকা
খাতা জুড়ে সব লাভ-খতিয়ান আঁকা।
ধ্বংসের স্তূপে লেখা হবে জয়গান
হাওয়ার নীচে জনগণ ছড়াছড়ি
তুমি ভুলে যাবে নিরব কখন হবে
বাঁচার আগে প্রাণ থাকা দরকারি।
কলম তোমার পাতার কাছেই শুধু
পাতা চলে যায় লেখাদের কাছাকাছি
লেখাতেও তুমি প্রতিবাদ দিতে পারো
চোখ বাঁধা আছে, বলবেনা পাশে আছি।
৮.) [ এখানে বক্তা কে? ]
------------------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)
ঘন্টা বাজাবে পুরোহিত আর আজান মৌলবীরা
তুমি গঙ্গা আর জুমজমের জল এক কোরো না,
কে কোন পুশুর মাংস খাবে সেটা আমি ঠিক করবো।
তুমি নিমিত্ত মাত্র!
তোমার পা-প্যান্ট গুটিয়ে রাখা জরুরি কারন
ওরা কিন্তু গুটিয়ে রাখবেনা,
তোমায় দাড়ি আতর সব ব্যবহার করতে হবে কারন ওরা কিন্তু ওই সব ব্যবহার করবে না,
তোমার মন্দিরে ঘন্টা থাকা দরকার কারন মসজিদে ঘন্টা থাকবে না।
রাম নবমীতে তুমি ভয় পেও কিন্তু কারন তুমি মোহারমে বেশ রক্ত দেখাও,
দূর্গা ঠাকুর দূর থেকেই দেখবে না'না, প্রনাম করার দরকার নেই
কারন আমি তোমার মসজিদে পা বাড়াবো না।
এখন কথা হচ্ছে এখানে বক্তা কে?
ধর্মগুরু?সমাজ? আপনি?নাকি ধর্ম নিজেই!!
৯.) | সবগুলো শব |
------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
সেখানে সবটা শান্তি, সবগুলো শব
সেখানে আগুন পুড়ছে সকলে নিরব।
পাশের নদীর জল,ছাইরা ভস্ম সাজে
সাধুরা সুখটান দেয়, বিরতি কাজে।
কেও কাঁদেনা ওখানে, পারলে হাসে
আগুন পুড়ছে, আঘাত বাঁশে।
আমিও মাঝে মাঝে যাই শান্তি খুঁজি
আমিও সুখে দিই টান,চোখটি বুজি।
ওখানে নিজের ছেলেও হচ্ছে পাষাণ
আমি যার কথা বলছি বোধহয় শ্মশান!
১০.) | স্পষ্ট পার্থক্য |
---------------:- সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
শহরের নীচে ক্লান্ততা পড়ে আছে
যুদ্ধ বোমায় আহত পুরুষ, নারী,
অস্ত্রের নামে মিছিল এগিয়ে চলে
বীর্যের চাপে ধর্ষন খুলে শাড়ি।
গোদির আরামে বিস্কুট লেনা-দেনা
ফুটপাতে থাকে অনিশ্চিয়তা পড়ে,
একমুঠো কেও শান্তি যে আনবেনা
কিন্তু তোমার পকেট মারবে চোরে।
অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ বাড়লে পরে
নিয়ম মেনেই আকাশ ছুঁয়েছে স্বভাব,
কেউ শুয়ে থাকে অভুক্তের ঘরে
কেউ চাইলেয় পাতে জুটে যায় কাবাব!
১১.) [ মানুষ সত্য তাহার ওপরে শূন্য ]
----------------সুদীপ্ত সেন
মানুষ যখন নিরুপায় হয়ে যায়,
পিঠ ঠেকে যায় দেওয়ালের পিঠে গায়ে
খুঁজতে থাকে শূন্যের কাছে উপায়
হাত জোড় করে পড়ে যেতে চায় পায়ে।
ভগবান কিছু মিথ্যের খেলা রাখে
উপোসের পরে উপোস করছে নারী
ভগবান তবু মানতে চায়ছে নারে
ঠান্ডা লেগে ভিজে যায় সেই শাড়ি।
কখনও মানোথ নি:সন্তান হলে,
কখনও মানোথ শুধু সার্টিফিকেট আছে,
কখনও মানোথ আগে করে রাখা ছিল,
কখনও মানোথ নতুন শিশুর কাছে।
এভাবে শাড়ি ভিজে যায় শরীরের
খিদের জ্বালাতে পিত্তি যাচ্ছে গলে
ভগবান আজ খুশি হয়ে যেতে পারে
জল শুকিয়ে মানুষ সত্য হলে।।
১২.) | ইতিহাস জানেনা |
-------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
বিমর্ষ চেহারার কতিপয় লোক
সৈন্যের মাথা কাটা,পরে থাকা মুকুট
চুরুটের ধোঁয়া শেষ, গম্ভীর বতাস
আচমকা পাতা ঘেঁটে বিভৎস্য লাশ।
ইতিহাস দাবী রাখে অমরত্বের
মাথা শুধু দেখা যায় কাটা মানুষের
ঘোড়া গুলো কঙ্কাল হয়ে যেতে পারে
শেষ রাতে গন্ধ জিতে যাওয়া ফানুসের।
লোমকূপে ধার করা সাহসিত রক্ত
জিতে যাওয়া দলটা ফিরে গেল বাড়িতে
কান্নাতে পরিবার পরাজিত সৈন্যের....
ইতিহাসে নাম পাবে ঘেঁটে দেখো অন্যের!!
১৩.) | পতন |
--------------সুদীপ্ত সেন
নিজের নেশায় চলছে সবাই বাড়ছে তাঁদের ভিড়
শহর থেকে অনেক দূরে শান্তি শীতল নীড়।
বালির নীচে ঘুমিয়ে ছিল পিপীলিকার প্রাণ
নদীর কাছে বন্যা এলে সবাই পাবে ত্রাণ।
ভাবছে তাঁরা নিজের মতো করছে অভিযান
ভুলকে নিয়েই জর্জরিত ভুলছে জয়গান।
হচ্ছে তারা অহংকারী ফেলছে তাঁদের ফাঁদ
সময় হলেই টের পাবে সব নামের আগে চাঁদ।
কিছুই তাদের ছিলনা শুধু অহংকারী সাজা
ভূমির কাছে ধস নামবে সূর্য রঙের তাজা।
১৪.) ~♪ শব্দোত্তর ♪~
------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
প্রতিকূলতার সাথে অভিব্যক্তি হয়ে অভিযোজন হয়ে গেছে,
এখনও লীন তাপের বাষ্প হয়ে ওঠা হলনা।
কিছু অঙ্ক এখনও ভালো রকমের ভুল হয় -
কখনও সংখ্যায় বা কখনও গুনতিতে!
সাদারঙের ভেঙে যাওয়া সামলানো কঠিন,
অন্যদিকে শব্দ আলোর থেকে পিছিয়ে পড়েছে খুব!
এহেন অবস্থায় আরও কিছু যোগ হলো সারণীতে
কী করা যায় বিধাতার নিয়ম খন্ডাবে কে?
গাছের কোশপ্রাচীর ছিঁড়ে জলের মতো রক্তই বেরয়-
না'কি কান্না! বলতে পারব না
আসলে, শব্দ হয়না ! শব্দোত্তর!!
১৫.)
| নিখোঁজের দেশ |
-----------------------সুদীপ্ত সেন
তুমি যেখানে নিখোঁজ হবে আমাকে যেও নিয়ে,
ওখানে আমরা স্বপ্ন আঁকবো জোনাকি পোকা দিয়ে।
একটা চালাঘর থাকবে, থাকবে একটা বটগাছ
দুটো প্যাঁচা রোজ আসবে বলবে তাদের কথা
পাশের পুকুরে তুমি রোজ যাবে স্নানে
আর সুখ নেবে পদ্মপাতার ঘ্রানে!
বৃষ্টি আসবে যেদিন কালোমেঘ ঘনাবে
অন্ধকার আসবে ঘরের কোণে জ্বলবে প্রদীপ
ঝিঁ-ঝিঁ পোকারা গাইবে, প্যাঁচারা আসেনি
ব্যাঙের ছাতারা ভিজে যাবে যা তুমি দেখনি!
তুমি একটা রঙ ছড়াবে গায়ে আমি দেখব
তোমার চুল গুলো নেড়ে দিয়ে গল্প বলব
ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গামী, তুমি বলবে তারপর
এখন একটা ভোর হয়েছে চাঁদ ডোবার পর!
"পছন্দের ভোরে"
উৎসর্গ :- এক ঝাঁক সাদা পায়রা'দের দিলাম।
------------
| "রা":"স্বা" |

------------
যেগুলো আছে
★[১.দৃষ্টিকোণ]
★[২.উত্তর টেস্ট]
★[৩.স্কুল গন্ডী পেরিয়ে]
★[৪.উপায় কোথায়]
★[৫.ঝরাপাতা]
★[৬.রেডলাইট]
★[৭.পঙ্গু প্রতিবাদ]
★[৮.এখানে বক্তা কে?]
★[৯.সবগুলো শব]
★[১০.স্পষ্ট পার্থক্য]
★[১১.মানুষ সত্য তাহার ওপরে শূন্য]
★[১২.ইতিহাস জানেনা]
★[১৩.পতন]
★[১৪.শব্দোত্তর]
★[১৫. নিখোঁজের দেশ]
---------
১.) ♦ দৃষ্টিকোণ ♦
------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
কোর্ট থেকে ফিরে আসা কোর্টে অন্য রকম অন্যের গন্ধের গন্ধ,
নতুন কেসের মাথা ধরা স্টাডির ডায়রির পাতা ঘেঁটে রাত কাভার,
এরওপর চশমার পাওয়ার না দেখা চোখে ঘোলাটে সাদার কাছে দায়ী,
সম্পর্কে বিচ্ছেদ কচি-কাচা ছেড়ে দূরে...
ডয়ার হাতরে চুরুটের স্পর্শ আদরে,
এর মাঝে ভাগাভাগি হয়ে গেছে কিছুটা
কিছু শেখা আর শিখে যাওয়ার মাঝে এক্সপেরিমেন্ট করছে জীবন,
দু-ফোটা চোখের জল সাদা ঘোলাটে থেকেও পড়ে দৃষ্টিকোণে,
আমি কিছু ভাবিনা আর ন্যাপথলিনের গন্ধ শুঁকি,
আর.....
বাড়ীর উঠানের ঝড় পাতলা ডানায় হওয়াই মিশিয়ে দিলাম আলগোছে!!
২.) | উত্তর টেস্ট |
--------------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)
শহর বলছে নিরুপায় হয়ে গেছে
প্রতিদিন কত খুন হয়ে যায় রাস্তায়
কুকুরের বমি প্রসাদ বলছে নেদারে
বেসিনে এখানে সেই বমি পরে সস্তায়,
জানলার কাচে বৃষ্টি ফোটার আঁচড়
ছাদের কাছে কাঠবাদামের চকলেট
পাড়ার মোড়ে ধর্ষিত হলো ছাত্রি
ধর্ষন মুখে প্রাইভেট ফেরা রাত্রি
কাল সকালে খবর হচ্ছে চ্যানেলে
মিলবেনা জানি মুখোশ গুলোর গল্প
জিজ্ঞাসা তুমি উত্তর পাবে সত্যি!
রক্তে যেসব বসেছিল মাছি অল্প!!
৩.) | স্কুল গন্ডী পেরিয়ে |
---------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
টুপটাপ বৃষ্টির ফোটা, জনহীন রাস্তা
প্রাইভেট থেকে ফেরা হ্যারিকেন হাতে
আমার খুব ভালো লাগতো
ব্যাঙের ডাক,আচমকা সাপ উঠে এলো ড্রেন থেকে
রোজ যাব স্কুলে সাইকেল নিয়ে
রেশারেশি হাফ প্যান্ট হাফ জামা
ছুটি হলে খুশি হবো খুব
যেমন লেখা খুশি হয় পেয়ে গেলে কমা(,)।
এখন আর কমা পাইনা সব ফুলস্টপ
এখন আর সাদা জামা নীল প্যান্ট নেই
জানলায় দাঁড়িয়ে ওদের যেতে দেখি রোজ
আমার ক্লাস শেষ, স্কুল গন্ডী শেষ এখন কলেজ।
৪.) | উপায় কোথায় |
------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
পাগলা নদীর কাছে আমি বিকেলে দাঁড়াই
জল চলে যায় বহুদূর থেকে দূরে আরও দূরে
কিছু পাতা, খড়-কুটো,আর অনিয়মিত পিঁপড়ের শরীর
একটা কিংবা দুটো নৌকা মাছ ধরবে তাই থাকে
কিছু ছেলের দল পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলে,
আমি দেখি জলের গায়ে আর কী কী দেখা যায়?
দেখা যায় একটা ক্লান্ততা, বহনের ক্লান্ততা..
কিংবা একটা দুঃখ যেমন মত্যুর হয় অন্তর্নিহিত।
নদী হয়তো চায়না পিঁপড়ে গুলো আসুক, তার ঘরবাড়ি ভেঙে যাক,পরিবার কাঁদুক
তাই একটা আক্ষেপ নদীর কাজ করে নিশ্চয়,
কারন নদী এটা আটকাতে পারবে না কখনও, কখনই না...
কিছু জিনিস এভাবেই আটকানো যায় না
ধ্বংস,দূরে যাওয়া, ফিরানো চিঠি আর মৃত্যু!
৫.) | ঝরাপাতা |
----------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
সারাদিন মেঘলার পর হঠাৎই একটা ঝড়,
কত আম্র-মুকুল, পাতা,কাঠবাদাম ঝরে গেল,
ছাদের কাছে পাতার পিওন এসেছে
অনেক গুলো পাতা প্রায় তিরিশ টা।
একটা একটা করে পড়ে দেখলো ছাদ
স্পষ্ট ভাবে কিছু লেখা ছিলো না,
কয়েকটা কবিতা লেখা ছিল আর-
কিছু কথা যেগুলো সিকরেট।
দু-এক পিস ছবি ছিলো সাথে,
বলা ছিলো যত্ন করে রেখো।
আর তিরিশ নম্বর পাতায় লেখা ছিলোনা কিছুই...
শুধু একটা লাইন নীচের দিকে
'আমাদের ভবিষ্যৎ-র জন্য অপেক্ষা করতে হবে'!
৬.) ✋ রেডলাইট ✋
---------------------ডট.পেন
আমি মনে করি যা কিছু চলমান গাড়ী-ঘোড়া,মানুষ,কবিতা!
সবেরই ট্রাফিক আছে আর ট্রাফিক মানা উচিত।
নতুবা তুমি হয় নিয়ন্ত্রণ হারাবে বা ধাক্কা খেয়ে থেমে যাবে, সোজা হতে পারবে না।
তাই একবার থেমে যেতে হয় রেড দেখলেই
এখন যদি তোমরা বলো কবিতার আবার ট্রাফিক কী?
😃[ হা
হা ]😃
কবিতার ট্রাফিক বৃষ্টিতে ভিজে না,রোদও মাখেনা
কবিতার ট্রাফিক লেখক নিজেই!
আর রেড সিগনাল একঘেয়েমি হওয়া
আর যদি এটা হয় বা হচ্ছে তাহলে থেমে যাও।
লেখনী নামিয়ে রেখেছি হাত থেকে
পাতাদের আর চাপ দেব না বেশ কিছুদিন
দুটো কবিতা না'না,লেখা এখনও অপ্রকাশিত
আসলে আমি লেখাই বলি,কারন-
আমি তো কেবল শব্দ বসাই
তোমরাই ভালোবেসে কবিতা বলো!
৭.) | পঙ্গু প্রতিবাদ |
-----------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)
সময় বোঝেনা হিংস্রতার পরিবেশ
সময় বোঝেনা গোলা বারুদের হিসেব
সময় চলছে নিয়ম ছাড়ায় বাঁকা
খাতা জুড়ে সব লাভ-খতিয়ান আঁকা।
ধ্বংসের স্তূপে লেখা হবে জয়গান
হাওয়ার নীচে জনগণ ছড়াছড়ি
তুমি ভুলে যাবে নিরব কখন হবে
বাঁচার আগে প্রাণ থাকা দরকারি।
কলম তোমার পাতার কাছেই শুধু
পাতা চলে যায় লেখাদের কাছাকাছি
লেখাতেও তুমি প্রতিবাদ দিতে পারো
চোখ বাঁধা আছে, বলবেনা পাশে আছি।
৮.) [ এখানে বক্তা কে? ]
------------------সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)
ঘন্টা বাজাবে পুরোহিত আর আজান মৌলবীরা
তুমি গঙ্গা আর জুমজমের জল এক কোরো না,
কে কোন পুশুর মাংস খাবে সেটা আমি ঠিক করবো।
তুমি নিমিত্ত মাত্র!
তোমার পা-প্যান্ট গুটিয়ে রাখা জরুরি কারন
ওরা কিন্তু গুটিয়ে রাখবেনা,
তোমায় দাড়ি আতর সব ব্যবহার করতে হবে কারন ওরা কিন্তু ওই সব ব্যবহার করবে না,
তোমার মন্দিরে ঘন্টা থাকা দরকার কারন মসজিদে ঘন্টা থাকবে না।
রাম নবমীতে তুমি ভয় পেও কিন্তু কারন তুমি মোহারমে বেশ রক্ত দেখাও,
দূর্গা ঠাকুর দূর থেকেই দেখবে না'না, প্রনাম করার দরকার নেই
কারন আমি তোমার মসজিদে পা বাড়াবো না।
এখন কথা হচ্ছে এখানে বক্তা কে?
ধর্মগুরু?সমাজ? আপনি?নাকি ধর্ম নিজেই!!
৯.) | সবগুলো শব |
------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
সেখানে সবটা শান্তি, সবগুলো শব
সেখানে আগুন পুড়ছে সকলে নিরব।
পাশের নদীর জল,ছাইরা ভস্ম সাজে
সাধুরা সুখটান দেয়, বিরতি কাজে।
কেও কাঁদেনা ওখানে, পারলে হাসে
আগুন পুড়ছে, আঘাত বাঁশে।
আমিও মাঝে মাঝে যাই শান্তি খুঁজি
আমিও সুখে দিই টান,চোখটি বুজি।
ওখানে নিজের ছেলেও হচ্ছে পাষাণ
আমি যার কথা বলছি বোধহয় শ্মশান!
১০.) | স্পষ্ট পার্থক্য |
---------------:- সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
শহরের নীচে ক্লান্ততা পড়ে আছে
যুদ্ধ বোমায় আহত পুরুষ, নারী,
অস্ত্রের নামে মিছিল এগিয়ে চলে
বীর্যের চাপে ধর্ষন খুলে শাড়ি।
গোদির আরামে বিস্কুট লেনা-দেনা
ফুটপাতে থাকে অনিশ্চিয়তা পড়ে,
একমুঠো কেও শান্তি যে আনবেনা
কিন্তু তোমার পকেট মারবে চোরে।
অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ বাড়লে পরে
নিয়ম মেনেই আকাশ ছুঁয়েছে স্বভাব,
কেউ শুয়ে থাকে অভুক্তের ঘরে
কেউ চাইলেয় পাতে জুটে যায় কাবাব!
১১.) [ মানুষ সত্য তাহার ওপরে শূন্য ]
----------------সুদীপ্ত সেন
মানুষ যখন নিরুপায় হয়ে যায়,
পিঠ ঠেকে যায় দেওয়ালের পিঠে গায়ে
খুঁজতে থাকে শূন্যের কাছে উপায়
হাত জোড় করে পড়ে যেতে চায় পায়ে।
ভগবান কিছু মিথ্যের খেলা রাখে
উপোসের পরে উপোস করছে নারী
ভগবান তবু মানতে চায়ছে নারে
ঠান্ডা লেগে ভিজে যায় সেই শাড়ি।
কখনও মানোথ নি:সন্তান হলে,
কখনও মানোথ শুধু সার্টিফিকেট আছে,
কখনও মানোথ আগে করে রাখা ছিল,
কখনও মানোথ নতুন শিশুর কাছে।
এভাবে শাড়ি ভিজে যায় শরীরের
খিদের জ্বালাতে পিত্তি যাচ্ছে গলে
ভগবান আজ খুশি হয়ে যেতে পারে
জল শুকিয়ে মানুষ সত্য হলে।।
১২.) | ইতিহাস জানেনা |
-------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
বিমর্ষ চেহারার কতিপয় লোক
সৈন্যের মাথা কাটা,পরে থাকা মুকুট
চুরুটের ধোঁয়া শেষ, গম্ভীর বতাস
আচমকা পাতা ঘেঁটে বিভৎস্য লাশ।
ইতিহাস দাবী রাখে অমরত্বের
মাথা শুধু দেখা যায় কাটা মানুষের
ঘোড়া গুলো কঙ্কাল হয়ে যেতে পারে
শেষ রাতে গন্ধ জিতে যাওয়া ফানুসের।
লোমকূপে ধার করা সাহসিত রক্ত
জিতে যাওয়া দলটা ফিরে গেল বাড়িতে
কান্নাতে পরিবার পরাজিত সৈন্যের....
ইতিহাসে নাম পাবে ঘেঁটে দেখো অন্যের!!
১৩.) | পতন |
--------------সুদীপ্ত সেন
নিজের নেশায় চলছে সবাই বাড়ছে তাঁদের ভিড়
শহর থেকে অনেক দূরে শান্তি শীতল নীড়।
বালির নীচে ঘুমিয়ে ছিল পিপীলিকার প্রাণ
নদীর কাছে বন্যা এলে সবাই পাবে ত্রাণ।
ভাবছে তাঁরা নিজের মতো করছে অভিযান
ভুলকে নিয়েই জর্জরিত ভুলছে জয়গান।
হচ্ছে তারা অহংকারী ফেলছে তাঁদের ফাঁদ
সময় হলেই টের পাবে সব নামের আগে চাঁদ।
কিছুই তাদের ছিলনা শুধু অহংকারী সাজা
ভূমির কাছে ধস নামবে সূর্য রঙের তাজা।
১৪.) ~♪ শব্দোত্তর ♪~
------------------সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
প্রতিকূলতার সাথে অভিব্যক্তি হয়ে অভিযোজন হয়ে গেছে,
এখনও লীন তাপের বাষ্প হয়ে ওঠা হলনা।
কিছু অঙ্ক এখনও ভালো রকমের ভুল হয় -
কখনও সংখ্যায় বা কখনও গুনতিতে!
সাদারঙের ভেঙে যাওয়া সামলানো কঠিন,
অন্যদিকে শব্দ আলোর থেকে পিছিয়ে পড়েছে খুব!
এহেন অবস্থায় আরও কিছু যোগ হলো সারণীতে
কী করা যায় বিধাতার নিয়ম খন্ডাবে কে?
গাছের কোশপ্রাচীর ছিঁড়ে জলের মতো রক্তই বেরয়-
না'কি কান্না! বলতে পারব না
আসলে, শব্দ হয়না ! শব্দোত্তর!!
১৫.)
| নিখোঁজের দেশ |
-----------------------সুদীপ্ত সেন
তুমি যেখানে নিখোঁজ হবে আমাকে যেও নিয়ে,
ওখানে আমরা স্বপ্ন আঁকবো জোনাকি পোকা দিয়ে।
একটা চালাঘর থাকবে, থাকবে একটা বটগাছ
দুটো প্যাঁচা রোজ আসবে বলবে তাদের কথা
পাশের পুকুরে তুমি রোজ যাবে স্নানে
আর সুখ নেবে পদ্মপাতার ঘ্রানে!
বৃষ্টি আসবে যেদিন কালোমেঘ ঘনাবে
অন্ধকার আসবে ঘরের কোণে জ্বলবে প্রদীপ
ঝিঁ-ঝিঁ পোকারা গাইবে, প্যাঁচারা আসেনি
ব্যাঙের ছাতারা ভিজে যাবে যা তুমি দেখনি!
তুমি একটা রঙ ছড়াবে গায়ে আমি দেখব
তোমার চুল গুলো নেড়ে দিয়ে গল্প বলব
ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গামী, তুমি বলবে তারপর
এখন একটা ভোর হয়েছে চাঁদ ডোবার পর!

Comments
Post a Comment